জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ আর মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য মেলবন্ধন চাক্ষুষ করল তিলোত্তমা। কলকাতার মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়েতে (Manipal Hospital Broadway) সম্প্রতি আয়োজিত হলো এক বর্ণাঢ্য এবং অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠান— ‘ফ্রম রিকভারি টু রানওয়ে’ (From Recovery to Runway)। হাসপাতালের ১০০টি সফল রোবোটিক টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট (Robotic Total Knee Replacement) বা রোবোটিক হাঁটু প্রতিস্থাপনের মাইলফলক স্পর্শ করা উপলক্ষে এই বিশেষ উদ্যাপনের আয়োজন করা হয়।
ব্যথা সরিয়ে আত্মবিশ্বাসের র্যাম্প ওয়াক: এই সন্ধ্যার সবথেকে আকর্ষণীয় এবং আবেগঘন মুহূর্ত ছিল র্যাম্প ওয়াক। তবে পেশাদার মডেলরা নন, এই র্যাম্পে আত্মবিশ্বাসের সাথে হাঁটলেন সেইসব রোগীরা, যাঁরা কিছুদিন আগেও হাঁটুর তীব্র যন্ত্রণায় সচলতা হারিয়েছিলেন। আজ রোবোটিক সার্জারির কল্যাণে তাঁরা কেবল ব্যথামুক্তই নন, বরং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। পরিবারের সদস্যদের হাত ধরে যখন এই রোগীরা হাসিমুখে র্যাম্পে হাঁটছিলেন, তখন সেই মুহূর্তটি কেবল পুনরুদ্ধারের গল্প নয়, বরং এক গর্বের জয়গানে পরিণত হয়। উপস্থিত দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা প্রেক্ষাগৃহ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সুযোগ্য নেতৃত্ব: এই বিশাল সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে হাসপাতালের অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক টিম। মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের এই কৃতিত্বের কারিগর ছিলেন প্রথিতযশা চিকিৎসকবৃন্দ— ডঃ কাঞ্চন ভট্টাচার্য, ডঃ জয়দীপ ব্যানার্জি চৌধুরী, ডঃ দেবাশিস চক্রবর্তী, ডঃ সোহম মণ্ডল, ডঃ তন্ময় কর্মকার, ডঃ অভিষেক এন কে সাহা এবং ডঃ দীপমাল্য চক্রবর্তী। তাঁদের সুনিপুণ দক্ষতা এবং অত্যাধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই ১০০টি অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, রোবোটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হাঁটু প্রতিস্থাপন অত্যন্ত নির্ভুল হয়, যা দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করে।
মানবিক স্পর্শে চিকিৎসা পরিষেবা: অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের মেডিকেল সার্ভিসেস-এর প্রধান ডঃ বিশ্বজিৎ মিত্র। তাঁর উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি একটি বিশেষ বার্তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে— তা হলো, চিকিৎসা কেবল অস্ত্রোপচারেই সীমাবদ্ধ নয়। অস্ত্রোপচার-পরবর্তী যত্ন এবং রোগীর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়াও হাসপাতালের লক্ষ্য। ডঃ মিত্র জানান, ১০০টির মাইলফলক কেবল শুরু, তাঁদের লক্ষ্য এখন পরবর্তী ২০০টি সফল অস্ত্রোপচারের দিকে।
মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের এই উদ্যাপন প্রমাণ করে দিল যে, সঠিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ চিকিৎসকের স্পর্শে জীবন বদলে যেতে পারে। ‘ফ্রম রিকভারি টু রানওয়ে’ কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, এটি ছিল রোগীদের প্রতি হাসপাতালের দায়বদ্ধতা এবং ক্লিনিকাল এক্সিলেন্সের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ব্যথা সরিয়ে নতুন করে পথ চলার এই লড়াই সত্যিই প্রেরণাদায়ক।
(Feed Source: zeenews.com)
