Iran-US War: ইরানকে ‘নরকে’ পাঠানোর রণহুংকার ট্রাম্পের, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধে ঘনাচ্ছে মহাযুদ্ধের মেঘ

Iran-US War: ইরানকে ‘নরকে’ পাঠানোর রণহুংকার ট্রাম্পের, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধে ঘনাচ্ছে মহাযুদ্ধের মেঘ

অয়ন ঘোষাল: বিশ্ব অর্থনীতিতে ফের লাগতে পারে বড় ধাক্কা। সোমবার, ভারতীয় সময় রাত ১২ টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের একাধিক বন্দর অবরোধ করে রেখেছে আমেরিকান নৌবাহিনী। সামরিক পদক্ষেপের ফলে পশ্চিম এশিয়ায় এক প্রলয়ংকরী যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

‘ট্রুথ সোশ্যাল’ নামের একটি সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকান অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে যে কোনো ইরানি জাহাজকে তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করা হবে।

ট্রাম্পের দাবি, ইতিমধ্যেই ইরানের নৌবাহিনীর ১৫৮টি জাহাজ সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের ছোট মাপের ‘ফাস্ট অ্যাটাক’ জাহাজগুলোকেও আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে টোল দেওয়া যেকোনো জাহাজকে আটকানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের কড়া বার্তা, ‘কোনো ইরানি আমাদের বা শান্তিরক্ষাকারী জাহাজগুলির দিকে গুলি চালালে তাদের সরাসরি নরকে পাঠানো হবে।’

আমেরিকান অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সামুদ্রিক গতিবিধি নজরদারি সংস্থা, মেরিন ট্র্যাফিক এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজে আমেরিকান অবরোধ শুরু হওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই অন্তত দুটি বড় মাপের অয়েল ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে একটির গন্তব্য ছিল চিন।

আমেরিকান এই আগ্রাসনের সামনে বিন্দুমাত্র পিছু হটতে নারাজ তেহরান। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা IRGC স্পষ্ট জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী এখনও পুরোপুরি তাদের ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। অসামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই পথ খোলা থাকলেও, সামরিক জাহাজ ঢুকলে তার ‘জোরদার জবাব’ দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। IRGC বলেছে, ‘আমরা প্রতিরক্ষার একাধিক স্তর প্রস্তুত রেখেছি। আর স্থলপথে যারা ইরানে হামলার চেষ্টা করবে, তাদের জন্য ইরানে তৈরি হবে কারাগার ও চোরাবালি।

অন্যদিকে, ইরানের সমস্ত বন্দরে অবরোধ শুরু করেছে আমেরিকান সেনা। কোনও দেশের জাহাজই ঢুকতে বা বেরতে পারছে না। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী। এই নিয়ে প্রথমবার আমেরিকাকে তীব্র হুঁশিয়ারি দিল চিন। সোমবার চিনের অ্যাডমিরাল জেনারেল ডং জুন স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, ‘আমাদের বিষয়ে নাক গলাতে আসবেন না।’ চিনের জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

চিনের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ দিয়েই ৪০ শতাংশ তেল এবং ৩০ শতাংশ LNG আমদানি করে বেজিং। ইরানের সমস্ত বন্দর অবরোধ করে রাখায় চিনের জাহাজও আটকে পড়েছে। এই নিয়েই আমেরিকাকে সতর্ক করেছেন ডং জুন> তিনি বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ও জ্বালানি সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। আশা করি, অন্য কেউ আমাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।’ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রাখা উচিত নয় বলেও জোর দিয়ে জানিয়েছেন চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্য মূলত ডলারেই হয়। এটাই রীতি। তবে চিন ডলারের বদলে ইউয়ানে তেল কেনাবেচার চেষ্টা করছে। যাতে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা চাপাতে না পারে। এটাকে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পেট্রোডলার ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইরানের সঙ্গে যারা ডলারের বদলে চিনের মুদ্রা ইউয়ানে ব্যবসা করেছে, তাদের জাহাজ আটকানোর চেষ্টা করতে পারে আমেরিকা। তাই আগেভাগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল চিন।

(Feed Source: zeenews.com)