ভোটের মরশুম মানেই শুধু রাজনৈতিক উত্তাপ নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাবও কম নয়। আসন্ন West Bengal Assembly Election 2026-কে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে পরিবহণ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিপুল সংখ্যায় বাস, পুলকার ও ক্যাব নির্বাচন কমিশনের কাজে তুলে নেওয়া হওয়ায় পড়ুয়া থেকে অফিসযাত্রী—সবাইয়ের মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতেই বিকল্প হিসেবে অনলাইন ক্লাস চালুর কথা ভাবছে একাধিক স্কুল।
স্কুলবাস, পুলকার সব ভোটের কাজে! কী ভাবে স্কুলে যাবে বাচ্চারা? (Image:AI)
অফিস থেকে ফেরার পথে অধিকাংশ দিনই অটো নেই, বাস নেই! লম্বা লাইন রুটে। বড়রা তো ভুগছেনই নিত্য ঝামেলায় এর পর সমস্যায় পড়ল ছোটরাও। স্কুলপড়ুয়াদেরও যাতায়াত এখন অনিশ্চিত! স্কুলবাস, পুলকার সবই যে প্রায় ভোটের কাজের জন্য তুলে নিচ্ছে কমিশন। সে নিয়ে দুশ্চিন্তা অভিভাবকদেরও। কী ভাবে স্কুলে যাবে বাচ্চারা? সিদ্ধান্ত নিল কলকাতার একাধিক স্কুল।
আসন্ন বিধানসভা ভোটের আবহে দক্ষিণবঙ্গে ভোটের প্রস্তুতি যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে শহরজুড়ে দৈনন্দিন যাতায়াতের উদ্বেগ। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনা জেলায় জোরদার প্রচার চলছে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের তরফে বিপুল সংখ্যায় বাস, পুলকার, স্কুল বাস ও ক্যাব অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, আগামী ২৭ এপ্রিল থেকেই বিভিন্ন পরিবহণ ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। ফলে শহরের রাস্তায় গণপরিবহণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। পরিবহণ মহলের একাংশের মতে, ২৬ এপ্রিল থেকেই এই প্রভাব চোখে পড়বে। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাইকেই সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা পড়ুয়াদের নিয়ে। পুলকার ও স্কুল বাস না থাকলে ছাত্রছাত্রীরা কীভাবে স্কুলে পৌঁছবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক মহলে। সেই কারণেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার একাধিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ইতিমধ্যেই বিকল্প ভাবনা শুরু করেছে। অনেক স্কুলই ভোটের ওই কয়েকদিন অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে।
নিউটাউনের Delhi Public School Newtown-এর প্রিন্সিপাল অম্বিকা মেহরা জানিয়েছেন, ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস নেওয়া হবে, এবং ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন স্কুলে ছুটি থাকবে। অন্যদিকে South Point School-এর একাধিক বাস ২৫ এপ্রিল থেকেই নির্বাচন কমিশনের কাজে ব্যবহৃত হবে বলে খবর, ফলে ক্লাস চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। Sree Sree Academy-তেও পোলিং বুথ তৈরি হওয়ায় ২৮ এপ্রিল দুপুর থেকেই স্কুল কমিশনের অধীনে চলে যাবে।
পরিবহণ ক্ষেত্রেও একই ছবি। বাস সার্ভিসেসের সাধারণ সম্পাদক টিটো সাহা জানিয়েছেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি গাড়ি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, ফলে শহরে বাসের অমিল দেখা দেবে। পুলকার সংগঠনের তরফে সুদীপ দত্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোটের ডিউটিতে বিপুল সংখ্যক পুলকার নেওয়া হওয়ায় পড়ুয়াদের পরিবহণের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব হবে না। একই সুর শোনা গিয়েছে অনলাইন ক্যাব অপারেটর্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও—অনেক ক্যাবই ভোটের কাজে ব্যবহৃত হবে, ফলে সাধারণ যাত্রীদের জন্য গাড়ির সংখ্যা কমে যাবে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে এবং কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পর বাহিনীর বড় অংশ দক্ষিণবঙ্গে চলে আসবে। ফলে মাসের শেষ সপ্তাহে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত চাপের মুখে পড়বে বলেই আশঙ্কা।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে থেকেই মহানগর ও সংলগ্ন এলাকায় একপ্রকার অঘোষিত অচলাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে পড়ুয়া ও নিত্যযাত্রীদের জন্য এই সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে।
(Feed Source: news18.com)