
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নিজের রক্ত সিরিঞ্জ দিয়ে টেনে বের করে নিজের শরীরেই আবার ইনজেক্ট করা। এক মারণ নেশায় মেতেছে ভোপালের তরুণরা। যাকে বলা হচ্ছে ‘ব্লাড কিক’। ভোপাল জুড়ে এখন এই ‘ব্লাড কিক’ আতঙ্ক। নিজের রক্ত নিজের শরীরেই ইনজেক্ট করার নেশা!
মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এই নতুন ধরনের ভয়ঙ্কর নেশার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মদ, মাদকের মতোই যা সমানভাবে প্রাণঘাতী। একে বলা হচ্ছে “ব্লাড কিক”—যেখানে তরুণরা নিজেদের শরীর থেকে রক্ত বের করে আবার সেটি নিজের শরীরেই ইনজেক্ট করছে অদ্ভুত এক নেশাতুর অনুভূতির জন্য।
কী এই ‘ব্লাড কিক’?
অত্যন্ত বিপজ্জনক এই প্রবণতায় যুবকরা নিজেদের রক্ত বের করে আবার নিজেদের শরীরেই ইনজেক্ট করছে। তাদের বিশ্বাস, এতে তাদের শক্তি বুস্ট-আপ হচ্ছে। সেই সঙ্গে মানসিক শান্তিও মিলছে। কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক। গান্ধী মেডিক্যাল কলেজে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অন্তত ৫টি এমন ঘটনা সামনে এসেছে। যেখানে আক্রান্তদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন। যেমন, হঠাৎ রাগ, আচরণে পরিবর্তন, কথা না শোনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে যে, শরীরে মাদকের কোনও চিহ্ন নেই। কিন্তু সূচের দাগ দেখা যাচ্ছে। এরপরই সামনে আসে এই বিপজ্জনক ‘ব্লাড কিক’ নেশার ঘটনা। যা কোনও প্রচলিত নেশা নয়।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা এটিকে “behavioral addiction” বা আচরণগত সমস্যায় নেশাগ্রস্ত বলে ব্যাখ্যা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অদ্ভুত ও বিপজ্জনক কাজের ভিডিয়োও এই প্রবণতাকে বাড়িয়ে তুলছে। প্রথমে কৌতূহল বা মজা থেকে শুরু হলেও, ধীরে ধীরে তা নেশায় পরিণত হচ্ছে।
সম্ভাব্য মারাত্মক ঝুঁকি
এখন এভাবে বার বার রক্ত ইনজেক্ট করলে হতে পারে গুরুতর সংক্রমণ, সেপসিস, HIV / হেপাটাইটিস, স্নায়ুর ক্ষতি, রক্ত জমাট বাঁধতে পারে, অ্যানিমিয়া, অঙ্গ বিকল। এমনকি হঠাৎ মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই প্রবণতার পিছনে ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ, আত্ম-ক্ষতির প্রবণতা, মনোযোগ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে।
চিকিৎসা কী?
শুধু ওষুধে এর সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন কাউন্সেলিং, মানসিক সহায়তা ও পরিবারের সক্রিয় ভূমিকা। চিকিৎসকদের কথায়, “যে রক্ত আপনাকে বাঁচিয়ে রাখে, সেটিই ভুলভাবে ব্যবহার করলে তা আপনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।” এই “ব্লাড কিক” আসলে একটি গভীর মানসিক সংকট, যা নীরবে তরুণ সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এখনই সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
(Feed Source: zeenews.com)
