Poila Baisakh 2026: পয়লা বৈশাখ কী ও কেন? ইতিহাস ও UNESCO-র স্বীকৃতি, গ্লোবাল বাঙালির শিকড় সন্ধান

Poila Baisakh 2026: পয়লা বৈশাখ কী ও কেন? ইতিহাস ও UNESCO-র স্বীকৃতি, গ্লোবাল বাঙালির শিকড় সন্ধান

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো…”

চৈত্রের অবসানে বৈশাখের আবাহন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই কবেই লিখে গিয়েছেন,
“বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা…”

পুরনো যা কিছু জরা-জীর্ণ তার সবকিছু মুছে দিয়ে আজ নতুন শুরুর দিন। বিশ্বব্যাপী বাঙালিদের নতুন বছরকে বরণের দিন। আজ নববর্ষ। বাংলা ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ১ বৈশাখ, নতুন বছরের প্রথম দিন১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। আজ হালখাতার দিন।

পয়লা বৈশাখের মাহাত্ম্য লুকিয়ে বাঙালিদের নববর্ষ উদযাপনে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এক নতুন শুরুর বার্তা। সাধারণত প্রতি বছর ১৪ বা ১৫ এপ্রিল উদযাপিত হয় বাংলা নববর্ষ। বৈশাখ মাসের প্রথম দিন, পয়লা বৈশাখ। এবার নববর্ষ আজ ১৫ এপ্রিল। বাংলা, ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশ জুড়ে নববর্ষ এক উৎসব। যে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে রং, গান ও নতুন আশার বার্তা নিয়ে। মানুষ একত্রিত হয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। রাস্তায় নতুনের সুর, যে সুর অনুরণন তোলে ঘরের ভিতরেও, বাংলাভাষীদের মনের গভীরেও।

পয়লা বৈশাখের ইতিহাস

পয়লা বৈশাখের উৎপত্তি মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনকালে, প্রায় ১৫৮৪ সালের দিকে। তাঁর আমলে হিজরি চান্দ্র পঞ্জিকার সঙ্গে হিন্দু সৌর পঞ্জিকাকে সমন্বয় করে বাংলা সন চালু করা হয়। এর ফলে কৃষকদের থেকে কর সংগ্রহ সহজ হয়। কারণ তাঁদের আয় মূলত নির্ভর করত ফসল তোলার মরশুমের উপর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশাসনিক পরিবর্তন ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়। এর সঙ্গে জুড়ে যায় ‘হালখাতা’ প্রথাও। যেখানে পুরনো দেনা-পাওনা মিটিয়ে ব্যবসায়ীরা নতুনভাবে নতুন বছরের হিসেব শুরু করে থাকেন।

উৎসবের তাৎপর্য

পয়লা বৈশাখ বাঙালি সমাজের জন্য গভীর সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গুরুত্ব বহন করে। এদিন বাঙালিরা নতুনভাবে শুরুর রূপক হিসেবে নতুন পোশাক পরিধান করে। বাংলাদেশে আবার এই দিনটি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়।  পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐতিহ্য এবং একাত্মতার অনুভূতিকে জোরদার করে তোলে এই উৎসব।

নববর্ষে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ 

বাংলাদেশে নববর্ষের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’— ঢাকার বুকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। যেখানে মুখোশ, লোকশিল্পের উপাদান এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান, লোকনৃত্য এবং কবিতা আবৃত্তি হয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এটিকে এক অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। খাবারও এই উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উৎসবের অংশ হিসেবে পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ এবং রসগোল্লা ও সন্দেশ এই দিনে থাকবেই।

পয়লা বৈশাখের ৫ কাহন 

– মুঘল আমলে কর ব্যবস্থাকে সহজ করার উদ্দেশ্যে সূচনা হয়েছিল বাংলা নববর্ষের।
– পুরনো হিসেব মিটিয়ে নতুনভাবে নতুন হিসেব শুরু করার প্রতীক ‘হালখাতা’।
– আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
– নববর্ষের উৎসবের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান-কবিতা।
– এই নববর্ষ উৎসব যেন ভারত-বাংলাদেশ তথা বিশ্বব্যাপী বাঙালি সম্প্রদায়কে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।

(Feed Source: zeenews.com)