ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তর-দক্ষিণ বিতর্কের মাঝেই লোকসভায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট জানালেন, প্রস্তাবিত কাঠামোয় কোনও রাজ্যেরই রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং সকলেরই আসন সংখ্যা বাড়বে।
‘দক্ষিণের রাজ্যগুলির কোনও ক্ষতি হবে না’, ‘নো-লস’ মডেলেই ডিলিমিটেশন! সংসদে আশ্বাস অমিত শাহর
সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির আশঙ্কা দূর করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থা একটি “নো-লস” মডেলের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে কোনও রাজ্যেরই লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব কমবে না।
শাহ জানান, লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করা হলে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার পাশাপাশি সব রাজ্যকেই অতিরিক্ত আসন দেওয়া সম্ভব হবে। এতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলি কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত অনুপাত অনুযায়ী তামিলনাড়ুর আসন সংখ্যা ৩৯ থেকে বেড়ে ৫৯ হতে পারে, যা মোট আসনের ৭.২৩ শতাংশ বজায় রাখবে। কর্ণাটকের আসন ২৮ থেকে বেড়ে ৪২ (৫.১৪ শতাংশ), অন্ধ্রপ্রদেশের ২৫ থেকে ৩৮ (৪.৬৫ শতাংশ) হতে পারে।
এছাড়া তেলেঙ্গানা ও কেরলের মতো রাজ্যগুলিও আসন বৃদ্ধির সুবিধা পাবে। তেলেঙ্গানার আসন ১৭ থেকে বেড়ে ২৬ (৩.১৮ শতাংশ) এবং কেরলের আসন ১৬ থেকে বেড়ে ২০ (৩.৬৭ শতাংশ) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
অমিত শাহ বলেন, ২০১১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি করে এই পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে দক্ষিণের রাজ্যগুলির বর্তমান রাজনৈতিক গুরুত্ব বজায় থাকে। তাঁর কথায়, “এই প্রক্রিয়ায় এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনও অংশের কণ্ঠস্বর চাপা না পড়ে।”
তিনি আরও দাবি করেন, লোকসভা আসন বৃদ্ধি করাই একমাত্র কার্যকর উপায়, যার মাধ্যমে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে নতুন সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব।
তবে বিরোধীদের আপত্তি এখনও কাটেনি। দক্ষিণের কিছু রাজনৈতিক দল মনে করছে, মোট আসন বাড়লেও উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলির আসন বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় উত্তর-দক্ষিণ ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ডিলিমিটেশন কমিশন ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে, প্রতিনিধিত্বের এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
(Feed Source: news18.com)