East Bengal: উত্তপ্ত যুবভারতীতে হাতাহাতি-ধাক্কধাক্কি ও ১০ কার্ড, দশজনের ইস্টবেঙ্গলের দুর্দান্ত ড্র বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে

East Bengal: উত্তপ্ত যুবভারতীতে হাতাহাতি-ধাক্কধাক্কি ও ১০ কার্ড, দশজনের ইস্টবেঙ্গলের দুর্দান্ত ড্র বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কলকাতার তাপমাত্রা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ২৭-২৮ ডিগ্রি থাকলেও অনুভবে ছিল তা তিরিশের উপরেই| গুগল ওয়েদাররে লাল হরফে লেখা ছিল- ‘এক্সেসিভ হিট’| ইস্টবেঙ্গল বনাম বেঙ্গালুরু এফসি-র ম্যাচেও যে এরকম গরম থাকবে তার পূর্বাভাস যদিও হাওয়া অফিস দেয়নি|  ঘটনার ঘনঘটায় ইস্টবেঙ্গল দুর্দান্ত ৩-৩ ড্র করল|

এদিন ১২ মিনিটেই রক্তের স্বাদ পেয়ে যায় বেঙ্গালুরু | সুনীল ছেত্রীদের এগিয়ে দেন মোহনবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার আশিক কুরুনিয়ান| ডিফেন্স থেকে আসা লম্বা বল অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নেন জাতীয় দলের হয়ে খেলা কেরলের ফুটবলার। তাঁকে আটকাতে এগিয়ে আসেন বিপিন সিং, কিন্তু দুর্দান্ত কৌশলে ইস্টবেঙ্গলের এই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করেন আশিক। এরপর ডান পায়ে জোরালো শট নেন তিনি, বল সোজা গিয়ে জালে জড়ায় পোস্টের ডান দিকের ওপরের কোণে। লাল-হলুদ গোলরক্ষক গিল, পুরো শরীর ছুঁড়ে দিয়েও বল রুখতে পারেননি|

বেঙ্গালুরু ৯ মিনিট এই লিড ধরে রাখতে পেরেছিল|  দুর্দান্ত এক অ্যাক্রোবেটিক বাইসাইকেল কিকে গোল করে সমতায় ফেরান আনোয়ার আলি। মিগুয়েল ভিড় বক্সের মধ্যেই বল ভাসিয়ে দেন| প্রথমে হেড করতে ওঠেন কেভিন সিবিলে। যদিও সেই প্রচেষ্টায় তিনি সফল হননি, তবে লুজ বল দেখে নেন আনোয়ারের। যে ডিফেন্ডার গোল করতে ওস্তাদ, তিনি কোনও দেরি না করেই নিখুঁত শটে ইস্টবেঙ্গল জনতার মন ভরিয়ে দেন|

২১ মিনিটে দু’গোলের পরেই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের তাল কাটল ২৪ মিনিটে!  ম্যাচে উত্তেজনার পারদ চরমে ওঠে! মিগুয়েলকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান রেফারি। সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদে সরব হন অস্কার ব্রুজো ও তাঁর সতীর্থরা| দুই দলের ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে| এই সময়ে  ইস্টবেঙ্গলের কোচিং স্টাফের এক সদস্যকেও হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এই ঘটনার সূত্রপাত, ডেড বল থেকেই|  হতাশায় বলটিকে জোরে লাথি মারেন মিগুয়েল| সামনে দাঁড়ানো আশিকের সঙ্গে খানিক হাতাহাতিও হয়। তবে কেন যে মিগুয়েলকে লাল কার্ড দেখানো হল তা স্পষ্ট নয়| যা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে! অনেকের মতে উত্তেজনার সময়ে নাকি মিগুয়েল বিপক্ষের এক ফুটবলারের গলা ধরে ফেলেন| এরপর ফোর্থ অফিসিয়াল রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করায় তিনি লাল কার্ড দেখান| অনেকে এও বলছেন যে, মিগুয়েলের লাল কার্ড হলে বেঙ্গালুরুরও কার্ড প্রাপ্য ছিল| কারণ আশিকও হাতাহাতি করেছেন মিগুয়েলের সঙ্গে| এরপর ব্রাজিলিয়ান মাঠ ছাড়ার সময়েও রাগে ফুঁসতে থাকেন| উত্তেজনায় বেঙ্গালুরুর ডাগআউটের দিকে লক্ষ্য করে শট নেন| ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন গুরপ্রীত-সহ অন্য খেলোয়াড়রা এবং শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয় এবং খেলা ফের শুরু হয়|

দশ জনের ইস্টবেঙ্গল ঘটনার রেশ কাটানোর আগেই আরেক গোল হজম করে ফেলে| ডান দিক থেকে রায়ান উইলিয়ামস অতি সাধারণ ক্রস ভাসিয়ে ছিলেন, সহজেই যা ধরে ফেলার কথা ছিল গিলের। কিন্তু বলটি গিলের হাত ফসকে বেরিয়ে যায়, আর সেই সুযোগে দ্রুত এগিয়ে এসে সুরেশ সিং সহজেই বল জালে পাঠিয়ে দেন। বিরতিতে ২-১ এগিয়ে মাঠ ছাড়ে বেঙ্গালুরু|

বিরতির পর তেড়েফুঁড়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল| ম্যাচের বয়স তখন ৫৫ মিনিট| অসাধারণ গোল করেন সাউল ক্রেসপোর! প্রথমার্ধে আশিকের গোলের সমতুল্যই ছিল তাঁর দুর্দান্ত প্রচেষ্টা। বিপিনের বাড়ানো বল  ক্লিয়ার করে দিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর ডিফেন্ডার রাহুল ভেকে। ঠিক সেই সময় বল পেয়ে যান ক্রেসপো|  তাঁর নেওয়া প্রথম শট সানা রুখে দেন ঠিকই| তবে
রিবাউন্ড বলটি আর মিস করেননি ক্রেসপো। মাটি ঘেঁষা জোরাল শটে বল জালে জড়িয়ে দেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার| গোলকিপার গুরপ্রীত কার্যত দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন| আর এই গোলই জমিয়ে দেয় খেলা| ২-২ হয়ে যায় স্কোরলাইন| গোলের পরেই অস্কার আনোয়ারকে তুলে মহম্মদ রাকিপকে ও লালরিনডিকাকে তুলে নামান নন্দকুমারকে|

৭১ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে ফের পিছিয়ে দেয় রায়ান উইলিয়ামসের গোল| বেঙ্গালুরুর ইন্দো-অজি উইঙ্গার|  দুর্দান্ত ভাবে থ্রু বল পেয়ে রায়ান এগিয়ে যান| চমৎকার বুদ্ধিমত্তায় গোলকিপার গিলকে তিনি লাইন ছেড়ে বের করিয়ে আনেন। হালকা টাচে কিপারকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর, বলটা প্রায় লাইন ছেড়ে বাইরে চলে যাওয়ার মুখে রায়ান ম্যাজিক দেখান|

অবিশ্বাস্য দক্ষতায় অসম্ভব কোণ থেকে শট নেন তিনি| বলটি গড়িয়ে জালে জড়িয়ে যায়! যুবভারতীতে নিমেষে নীরব হয়ে যায়| অনেকেই যখন ভেবেছিল যে  ইস্টবেঙ্গল আর ফিরতে পারবে না, ঠিক তখনই ইস্টবেঙ্গল দেখিয়ে দিল খোঁচা খাওয়া বাঘ কী পারে! নির্ধারিত সময়ের পর রেফারি সাত মিনিট যোগ করেছিলেন| ঠিক ৯৭ মিনিটেই চমক ইস্টবেঙ্গলের ড্যানিশ স্ট্রাইকার অ্যান্টন সোবার্গের| ডান দিক থেকে বিপিনের দুর্দান্ত ক্রসে ড্যানিশ বদলি খেলোয়াড় বলটি পেয়ে জালে জড়ান, আর সঙ্গে সঙ্গেই সল্টলেক স্টেডিয়ামে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দর্শকরা… তবে পুদুচেরির রেফারি অশ্বিনকে নিয়ে কিছু বলার মতো থাকল না! ১০ কার্ড দেখতে হল তাঁকে| যা একবার নয় বারবার ভাবাবে।

(Feed Source: zeenews.com)