Husband killed wife with Rasmalai: ‘মিষ্টি’ রসমালাইতেই খুন স্ত্রীকে, কাটল মাথা-হাতও

Husband killed wife with Rasmalai: ‘মিষ্টি’ রসমালাইতেই খুন স্ত্রীকে, কাটল মাথা-হাতও

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভয়ংকর! বীভৎস! হাড়হিম! না, কোনও বিশেষণই বোধহয় এই ভয়ংকর নৃশংসতার জন্য উপযুক্ত নয়। অভিধানে থাকা সমস্ত ভয়াবহ বিশেষণকেই ছাপিয়ে যায় হাড়হিম করে দেওয়া এই ঘটনার বীভৎসতা। ‘মিষ্টি’ রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রীকে খুন করেন স্বামী। সেখানেই শেষ নয়। খুনের পর স্ত্রীর মাথা-হাতও কেটে ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন স্বামী। গার্হস্থ্য হিংসার ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশে। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিস।

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম স্ত্রী শাহিদা আক্তার ওরফে মুন্নি। ‘মিষ্টি’ রসমালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ২৯ বছরের স্ত্রী শাহিদা আক্তার ওরফে মুন্নিকে খাওয়ান স্বামী সাইফুল ইসলাম (৩৩)। মিষ্টি স্বাদের রসমালাইয়ের মধ্যে ওষুধের তিটকুটে স্বাদ বুঝতে পারেননি শাহিদা। ওষুধ মেশানো মিষ্টি খেয়ে শাহিদা অচেতন হয়ে পড়েন। তখন অভিযুক্ত স্বামী সাইফুল প্রথমে ধারালো ছুরি দিয়ে শাহিদার গলা কেটে তাঁকে খুন করেন। তারপর মৃতদেহের পরিচয় গোপন করতে সাইফুল শাহিদার শরীর থেকে মাথা ও দু’ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

খুনের এক দিন পর শাহিদার মাথা ও হাতবিহীন দেহাংশ একটি ডোবায় ফেলে দেন সাইফুল। ওদিকে মাথা ও হাতের টুকরোগুলো বেশ খানিকটা দূরে নদীতে ফেলে গিয়ে গা ঢাকা দেন সাইফুল। এরপর ১১ এপ্রিল বিকেলে কক্সবাজার শহরতলির জানারঘোনা এলাকার ওই ডোবা থেকে মাথা ও দুই হাতের কবজিবিহীন দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুরুতে পুলিশ মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। শেষে শাহিদার পরে থাকা কাপড় দেখে মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন তাঁর পরিজনেরা।

এরপর ফোনের লোকেশন টাওয়ার ট্র্যাক করে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর, কক্সবাজারে এনে সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। কক্সবাজারে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই স্ত্রী শাহিদাকে খুনের কথা স্বীকার করে নেন সাইফুল। পুলিশি জেরায় সাইফুল জানায়, ২৬ মার্চ রাতে তিনি স্ত্রী শাহিদাকে খুন করেন। খুনের এক দিন পর শাহিদার মাথা ও হাতবিহীন দেহাংশ ঝিলংজা এলাকার ডোবায় ফেলে দেন। আর শরীর থেকে আলাদা করা মাথা ও হাতের কবজি ৭ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীতে ফেলে দেন। তারপর তিনি ঢাকায় চলে যান আত্মগোপন করতে।

সাইফুলের দেওয়া বয়ান অনুযায়ী পুলিশ বুধবার এখন বাঁকখালী নদীতে শাহিদার মাথার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই খুনে ব্যবহৃত ছুরি, ঘুমের ওষুধ মেশানো রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হয়েছে মামলা। জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে দুজনের বিয়ে হলেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই ছিল।

(Feed Source: zeenews.com)