
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স প্রথমে এই খহর সামনে আনে। তারা জানায়, আমেরিকার কাছ থেকে ছাড়পত্র পেয়ে ইরানের থেকে তেল কিনছে ভারতের শোধনাগারগুলি। সেই তেলের দাম মেটানো হচ্ছে চিনা মুদ্রা Yuan-এ। ICICI ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে বলেও জানায় রয়টার্স। (Iranian Oil)
সেই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কেন্দ্রের এক আধিকারিক জানান, এর মধ্যে কোনও অন্যয় নেই। পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচরাল গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, “ঘরোয়া চাহিদা মেটানো আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই নিয়ম মেনেই কাজ করছে আমাদের তৈল বিপণণ সংস্থাগুলি।”
এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, চিনা মুদ্রা Yuan দ্বারা ইরান থেকে কেনা তেলের দাম মেটাচ্ছে ভারতের শোধনাগারগুলি। ICICI ব্যাঙ্কের শাংহাই শাখার মাধ্যমে চলছে লেনদেন। তবে কাদের অ্যাকাউন্টে ওই টাকা ঢুকছে, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
একসময় ভারতে তেল সরবরাহকারী অন্যতম দেশ ছিল ইরান। কিন্তু আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার জেরে ২০১৯ সালের মে মাস থেকে ইরানের তেল কেনা বন্ধ ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি সাময়িক ভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় আমেরিকা, যার দরুণ সাত বছর পর ফের ইরানের তেল ভারতে ঢুকছে। Indian Oil Corp ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল কিনেছে তেলের ট্যাঙ্কার ‘Jaya’ থেকে। সবমিলিয়ে ২০০ মিলিয়ন ডলার লেনদেন হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৮৫২ কোটি টাকা।
এর পাশাপাশি, ইরান থেকে আসা আরও চারটি ট্যাঙ্কারকে ভারতের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। সেগুলি থেকে তেল কিনছে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের বেসরকারি শোধনাগার। এর মধ্যে MT Felicity নামের একটি জাহাজ থেকে তেল নামানো হয়ে গিয়েছে। Indian Oil এবং Reliance Industries, দুই সংস্থাই Yuan-এর মাধ্যমে তেলের দাম মিটিয়েছে বলে খবর।
শুধু তাই নয়, ২০২২ সালে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার তেলের অন্যতম শীর্ষ ক্রেতা হয়ে উঠেছে ভারত। সেক্ষেত্রেও চিনা মুদ্রায় দাম মেটানো হয়েছে বলে খবর। ওই পরিস্থিতিতেই গত বছর রাশিয়ার থেকে তেল কেনার দরুণ ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে রাশিয়ার পরিবর্তে পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল আমদানির দিকে ঝোঁকে ভারত। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফের রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ছাড়পত্র পায় ভারত।
তবে চিনা মুদ্রায় তেল কেনার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিরর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার ডলারের পরিবর্তে চিনা মুদ্রায় লেনদেন হলে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্যও টলে যাবে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিও জোর ধাক্কা খাবে বলে বেশ কিছু দিন ধরেই সতর্ক করে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি হরমুজ অবরোধের যে সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প, তার অন্যতম কারণ চিনা মুদ্রায় লেনদেন বন্ধ করা বলেও শোনা যায়।
(Feed Source: abplive.com)
