
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরান বারেবারেই বলেছে ভারতের জাহাজ তারা হরমুজ প্রণালীতে আটকাচ্ছে না। কিন্তু সেই ইরানি সেনার কাছে থেকে গুলি ছুটে এল ভারতীয় পতাকাবাহী ২টি জাহাজের দিকে। এখনওপর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ভারতীয় জাহাজে থাকা কোনও কর্মীর কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে পরিস্থিতি বিপজ্জনক দেখে ওমানে ফিরে গিয়েছে দুটি জাহাজ। এর জেরে দিল্লিতে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠাল ভারত।
ইরানের গোলাগুলির মুখে পড়া দুটি জাহাজের একটি হল ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’। এই ধরনের বিশাল জাহাজগুলো মূলত দূরপাল্লার পথে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য তৈরি করা হয়। আক্রান্ত জাহাজ দুটির একটির নাম ‘জগ অর্ণব’এবং অন্যটি ‘সানমার হেরাল্ড’। ওই ঘটনার জেরে হরমুজ অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়ে গেল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে ভারতের পতাকাবাহী দুটি জাহাজে আজকের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব পণ্যবাহী জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং অতীতে ভারতগামী জাহাজের নিরাপদ চলাচলে ইরানের সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এই গুলিবর্ষণের গুরুতর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ইরানি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন যেন তিনি ভারতের এই বার্তা দেশটির সরকারের কাছে পৌঁছে দেন এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতগামী জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত দ্রুত নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেন; জবাবে রাষ্ট্রদূত ভারতের এই উদ্বেগের কথা নিজ দেশের কর্তৃপক্ষকে জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে ইরানের সামরিক অভিযানে সমন্বয়হীনতা ও বিভ্রান্তির কারণে এই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এই ধরনের ভুল (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) খোদ মার্কিন বাহিনীর ক্ষেত্রেও ঘটেছে। এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে আমেরিকার নৌ-অবরোধ জারি থাকায় ইরান ঘোষণা করেছে যে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তারা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছে—আর এই উত্তেজনার মুখে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজই এখন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর ইরান ঘোষণা করেছিল যে, বিশ্বের তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সরবরাহকারী এই হরমুজ প্রণালীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু আজ সকালে আমেরিকা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করায় ইরান পালটা ঘোষণা দেয় যে তারা এই জলপথ আবার বন্ধ করে দেবে, যার ফলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যে দ্রুত পার হওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। যদিও ভারতের জন্য আশার কথা হল, ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি জানিয়েছিলেন যে ইরান ভারতকে তাদের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র মনে করে এবং অবরোধ সত্ত্বেও ভারতীয় জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেজন্য দুই সরকারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ চলছে। এমনকি হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জানিয়েছে যে, আমেরিকান অবরোধ উপেক্ষা করেই গত এক সপ্তাহে ভারত ইরান থেকে তিন কিস্তিতে মোট ৬০ লক্ষ ব্যারেল তেল পেয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
