
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘মায়নগরী’ মুম্বইতে প্রথমবার যদি কেউ ঘুরতে যায়, তাহলে তাঁর দর্শনীয় স্থানের তালিকায় থাকতে পারে- মেরিন ড্রাইভ (Marine Drive), গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া (Gateway of India), ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস ( Chhatrapati Shivaji Maharaj Terminus), এলিফ্যান্টা কেভস (Elephanta Caves), জুহু বিচ (Juhu Beach), সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির (Siddhivinayak Temple), হাজি আলি দরগা (Haji Ali Dargah), সঞ্জয় গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক (Sanjay Gandhi National Park) ফিল্ম সিটি (Film City), ব্যান্ড্রা-ওরলি সি লিংক (Bandra-Worli Sea Link), নারিমান পয়েন্ট (Nariman Point), ধোবি ঘাট (Dhobi Ghat) ঘুরে দেখতে পারেন। তবে ‘হলিউড অফ ইন্ডিয়া’তে গিয়ে বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) রাজপ্রাসাদ মন্নত (Shah Rukh Khan’s Mannat) না দেখা আর কলকাতায় (Kolkata) এসে রসগোল্লা (Rosogolla/Rasgulla) না খাওয়া প্রায় একই গল্প।
শাহরুখের মন্নতের ইতিহাস ও বর্তমান
শাহরুখ তাঁর স্বপ্নের বাড়িতে গতবছর মার্চ থেকেই থাকেন না আর! তিনি এখন ভাড়াবাড়িতে মাথা গুঁজেছেন স্ত্রী গৌরী ও তিন সন্তান-আরিয়ান, সুহানা ও আব্রামকে নিয়ে। সম্প্রত্তি শাহরুখের বাড়িওয়ালা বাদশাকে নিয়ে কথা বলেছেন। প্রযোজক বাশু ভগনানীর ও তাঁর ছেলে জ্যাকি ভগনানীরই ভাড়াটে শাহরুখ। ব্যান্ড্রার ব্যান্ডস্ট্যান্ডে রয়েছে শাহরুখের স্বপ্নের মহল মন্নত। শাহরুখের সমুদ্রমুখী বাংলোর কিন্তু ইতিহাসও রয়েছে। ফিরতে হবে সেই ১৮০০ সালে। তখন মন্নতের নাম ছিল ‘ভিলা ভিয়েনা’। তত্কালীন মান্ডির রাজা বিজয় সেন (বর্তমান হিমাচল প্রদেশের একটি দেশীয় রাজ্য) তাঁর অন্যতম রানির জন্য নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে মন্নত কিন্তু ‘গ্রেড-থ্রি’ হেরিটেজ বা ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। যার অর্থ হলো মূল নব্য-ধ্রুপদী (নিয়োক্লাসিক্য়াল) সম্মুখভাগ কোনও ভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না। তা আইনত নিষিদ্ধ। ২৭ হাজার স্কোয়ারফুটের ৬ তলা এই ঐতিহাসিক প্রাসাদটিই ২০০১ সালে শাহরুখ কিনে নিয়েছিলেন মাত্র ১২ কোটি টাকায়। তারপর শাহরুখ নিজের মতো করে তা বদলান। অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা গৌরী খানেরই। বর্তমানে মুম্বইয়ের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত মন্নত। সারা দেশে থেকে ভক্তরা এসে শাহরুখের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ান ও ছবি তোলেন। শাহরুখ যেহেতু ভক্তের ‘ভগবান’, সেহেতু ফ্যানরা ভাবেন মন্নত দেবভূমিই। তাই তাঁরা সেখানে মাথা নত করে প্রণামও করেন। যে ছবি খুবই চেনা।
এখন প্রশ্ন শাহরুখ কেন মন্নত ছাড়লেন?
শাহরুখ বাধ্য হয়েছেন মন্নত ছাড়তে। কারণ স্ত্রী গৌরীর তত্ত্বাবধানে নতুন করে ঢেলে সাজছে মন্নত। সেখানে বিরাট রেনোভেশনে কাজ শুরু হয়েছে মে মাস থেকে। শাহরুখের অস্থায়ী ঠিকানা হয়েছে পালি হিলের ‘পুজা কাসা’। পশ্চিম ব্যান্ড্রার ১৫ তলা আবাসিক ভবনের দু’টি ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট শাহরুখ নিয়েছেন। শাহরুখের প্রযোজনা সংস্থা রেড চিলিজ এন্টারটেন্টমেন্ট অভিনেতা জ্যাকি ভগনানীর সঙ্গে একটি ‘লিভ অ্যান্ড লাইসেন্স’ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। তিন বছরের জন্য় জ্যাকিদের মাসে ২৪ লক্ষ টাকা করে ভাড়া দেবেন শাহরুখ। গতবছরই দেনার দায় ডুবেছিল জ্যাকিদের প্রযোজনা সংস্থা। তারপরেই বাড়ি ভাড়া দেওয়া শুরু করেন তাঁরা। মন্নতের মতো জায়গা নতুন বাড়িতে পাননি শাহরুখ। তবে তিনি মানিয়ে গুছিয়েই নিচ্ছেন। শুনতে অবাক লাগলেও যে মন্নত শাহরুখ মাত্র ১২ কোটি টাকায় কিনেছিলেন। আজ তাঁর দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা! এটাই রাজার মহিমা!
শাহরুখকে নিয়ে কী বলছেন জ্যাকি?
‘দেখুন, আমার মতে, আমি শুধু এই প্রার্থনাই করি যেন আমি শাহরুখ স্যারের মতোই একজন ভালো মানুষ হতে পারি। তাঁর তারকাখ্যাতির যে উচ্চতা, আর তাঁর যে চালচলন, তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। যখন আপনি তাঁর সঙ্গে দেখা করে কথা বলবেন, তখন মনে হবে তিনি যেন শুধু আপনার সঙ্গেই কথা বলছেন। যা একজন মানুষের জন্য অত্যন্ত সম্মাজনক ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা। আপনি যে-কেউ হতে পারেন, তাতে কিছু যায় আসে না শাহরুখ স্যারের। তিনি সর্বতো ভাবে আপনার প্রতিই মনোযোগী থাকেন। মূলত, তাঁর আচরণ ও ব্যক্তিত্ব দশের মধ্যে এগারো পাওয়ার যোগ্য। যখনই আপনি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। আপনি যেই হোন না কেন, তিনি কিন্তু নিজে আপনাকে এগিয়ে দিয়ে একেবারে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেন। সাধারণত মানুষ ভাবে, তিনি তো শাহরুখ খান, তাঁর আচরণটা হবে একেবার ধরনের। কিন্তু বাস্তবে শাহরুখ এর সম্পূর্ণ বিপরীত।’ বোঝাই যাচ্ছে শাহরুখ কেন আজ কিং। তবে তিনি নতুন অ্যাপার্টমেন্টে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়েই থাকছেন না। তাঁর কর্মচারী ও নিরাপত্তারক্ষীরাও মাথা গুঁজেছেন ওখানে।
(Feed Source: zeenews.com)
