Pahalgam Attack: আগামী ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার বার্ষিকী৷ জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার কর্পোরাল তাগে হাইলইয়াং৷ তবে শেষপর্যন্তও তিনি বাকি পর্যটকদের ঘাতক জঙ্গিদের হাত থেকে রক্ষা করার প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন৷
‘এখনও ক্ষতটা তাজা’! নৃশংস পহেলগাঁও হামলার ১ বছর…স্ত্রীর সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়ে খেয়েছিলেন গুলি, বার্ষিকীতে স্মরণ পরিবারের (PTI)
ঠিক দু‘দিন পর ২২ এপ্রিল৷ গত বছর, ২০২৫-এর ওইদিনেই রক্তাক্ত হয়েছিল পহেলগাঁও৷ আচমকা জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন৷ তার মধ্যেই ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার কর্পোরাল তাগে হাইলইয়াং৷ পহেলগাঁওতে স্ত্রীর সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়ে জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন তিনি৷ তবে শেষপর্যন্তও তিনি বাকি পর্যটকদের ঘাতক জঙ্গিদের হাত থেকে রক্ষা করার প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন৷ ঘটনার এক বছর হতেই তাঁর স্মৃতি উপলক্ষ্যে তাগে হাইলিয়াং-এর পরিবার তাঁর স্মৃতিতে একটি স্মারক উদ্বোধন করতে চলেছে৷
দেশের সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের লোয়ার সুবানসিরি জেলার তাঁদের গ্রাম তাজাং-এর কাছেই নিহত বায়ুসেনা কর্মীর স্মারক বানাতে চলেছে তাঁর পরিবার৷ যার কেন্দ্রে থাকবে বায়ুসেনা জওয়ানের একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি।
“আমরা চাই তাঁর স্মৃতি বেঁচে থাকুক, আর বিশ্ব জানুক যে এমন একজন মানুষ ছিলেন—তাগে হাইলিয়াং—যিনি এভাবে নিজের জীবন হারিয়েছেন। আমরা চাই মানুষ জানুক কেন তিনি মারা গেলেন, তাই আমরা একটি লিখিত বিবরণও প্রস্তুত করেছি, যা স্মারকের অংশ হবে’’, একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন তাগের ভাই তাগে তাকা৷
হাইলিয়াং ২০১৭ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দেন এবং শ্রীনগর ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। হামলার মাত্র চার মাস আগে তিনি চ্যারো কামহুয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। নতুন পোস্টিংয়ের জন্য অসমের ডিব্রুগড় যাওয়ার আগে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে পাহালগামে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। তাঁর ভাইয়ের কথায়, এই ক্ষতির মানসিক প্রভাব এখনও পরিবারকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, বিশেষ করে তাঁদের বয়স্ক বাবা-মাকে।
“আমরা তাঁদের নিয়ে চিন্তায় থাকি। আমিও একজন বাবা, তাঁদের যন্ত্রণা আমি বুঝতে পারি। আমাদের বাবা এখনও নিজেকে সামলে রাখতে পারছেন, যদিও তাঁর ভেতরের দুঃখ আমাদের চোখে পড়ে। কিন্তু মাকে এই অবস্থায় দেখা খুবই কষ্টকর। প্রায় এক বছর হতে চললেও, তাঁর ক্ষত যেন এখনও তাজা,” বলেন তাগে তাকা।
আরেক ভাই তাগে মালি, যিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত, স্মারক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে পরিবারকে সহায়তা করতে বাড়ি ফিরেছেন। “আমরা চেষ্টা করছি আমাদের বাবা-মাকে সাহস জোগাতে, যাতে তাঁরা এই ঘটনাকে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে মেনে নিয়ে তাঁর সম্মান রক্ষায় মনোযোগ দিতে পারেন,” বলেন তাকা।
(Feed Source: news18.com)