জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইটার্নাল সাউন্ডস ও ক্যালকাটা হেরিটেজ কালেক্টিভ (CHC) নিবেদন করল বিক্রম ঘোষ-এর ফিউশন মিউজিক অ্যালবাম রিদিমস্কেপ ২.০, টলি ক্লাবের ফার প্যাভিলিয়নে। বিক্রম ঘোষের ফিউশন ব্যান্ড রিদিমস্কেপ এর পঁচিশ বছর পূর্ণ হল। পাশাপাশি এই ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম এরও পঁচিশ বছর পূর্ণ হলো। প্রকাশ পেল নতুন সাতটা ট্র্যাক নিয়ে রিদিমস্কেপ ২.০। উপস্থিত ছিলেন ইটার্নাল সাউন্ডসের পক্ষে উৎসব পারেখ, গৌরাঙ্গ জালান, মায়াঙ্ক জালান।
পঁচিশ বছর পর, বিক্রম ঘোষ ফিরে এলেন সেই সাউন্ডকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে, যার সূচনা তিনিই করেছিলেন রিদমস্কেপ এর মধ্যে দিয়ে। ২০০১ সালে বিশ্ব দেখেছিল এক জাদুকরী নতুন সাউন্ডের জন্ম —যার সঙ্গে ছিল সমানভাবে মনমুগ্ধকর এক লাইভ শো। বিক্রম ঘোষ ২৫ বছর আগে তাঁর ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট রিদমস্কেপ শুরু করেন, যা পরবর্তীতে ইতিহাস সৃষ্টি করে। ইন্ডাস্ট্রির নানা চাপ থাকার সত্ত্বেও বিক্রম বাংলা ছাড়েননি, বরং কলকাতায় থেকেই গড়ে তুলেছেন তাঁর আন্তর্জাতিক ব্যান্ড রিদমস্কেপ।
রিদমস্কেপ বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ মঞ্চে পরিবেশিত হয়েছে এবং এক পরীক্ষাধর্মী সংগীতধারার পথিকৃৎ হয়েছে, যা বহু প্রজন্মকে ফিউশন সংগীতের পথে অনুপ্রাণিত করেছে। রিদমস্কেপ তালের-ইম্প্রোভাইজেশন, সুরের আবেগ এবং গল্প বলার শিল্পকে কেন্দ্র করে —যেখানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় পারকাশনকে আধুনিক অ্যারেঞ্জমেন্ট, বিশ্বসংগীতের প্রভাব এবং সমকালীন প্রোডাকশনের সঙ্গে মেলানো হয়েছিল।
বিক্রম ঘোষ ফিরলেন রিদমস্কেপ ২.০ নিয়ে —তাঁর যুগান্তকারী মূল কাজের এক সমকালীন উত্তরসূরি হিসেবে। নতুন অ্যালবামটি মূল রিদমস্কেপের চেতনাকে ধরে রেখে গত দুই দশকে তাঁর শিল্পী জীবনের যাত্রা, পারফর্মার হিসেবে বিকাশ এবং বিশ্বমঞ্চে কাজের অভিজ্ঞতাকে প্রতিফলিত করে।
রিদমস্কেপ ২.০ পরিবেশন করে কীভাবে তাল প্রজন্ম ও ঘরানার সীমা পেরিয়ে ক্রমাগত বিবর্তিত হয়। রিদমস্কেপ ২.০-এর কেন্দ্রে রয়েছে এই ধারণা যে তাল এক সার্বজনীন ভাষা —যা সংস্কৃতি, আবেগ এবং দর্শকদের সীমারেখার বাইরে গিয়ে যুক্ত করতে সক্ষম।
বিক্রম ঘোষ তিন দশকেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা গ্র্যামি বিজয়ী শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন, ছয় মহাদেশের আইকনিক মঞ্চে পারফর্ম করেছেন, চলচ্চিত্রে সুর দিয়েছেন এবং এমন অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন যা সহজে কোনও এক ঘরানায় ফেলা যায় না। কলকাতায় থেকেও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি গড়ে তোলা অল্প কয়েকজন ভারতীয় শাস্ত্রীয় পারকাশন শিল্পীর মধ্যে তিনি অন্যতম।সুরকার হিসেবে বিক্রম বলিউড, ওয়ার্ল্ড মিউজিক এবং ক্লাসিক্যাল ক্রসওভার ফরম্যাটে কাজ করেছেন। শিক্ষক ও মেন্টর হিসেবেও তিনি নতুন প্রজন্মের বহু পারকাশন শিল্পীকে প্রভাবিত করেছেন। CHC-এর Cause Ambassador হিসেবে তাঁর ভূমিকা বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও নতুনভাবে কল্পনার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারকে আরও স্পষ্ট করে।
অ্যালবাম প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মী নন্দিতা পাল চৌধুরীর সঙ্গে বিক্রম ঘোষের ফিউশন সংগীতযাত্রা এক মনোজ্ঞ আলোচনা নজর কাড়ে।
বিক্রম ঘোষ বলেন, ‘রিদমস্কেপ এর জার্নিতে আরো অনেক কিছু সংযোজন হয়েছে যেমন এই অ্যালবামে অনেক নতুন বাদ্যযন্ত্র, মিউজিক ভিডিওতে হিপ হপ। এখন সিংগেলস এর যুগ হলেও রিদমস্কেপ মানে অনেক রকমের অনুভূতির মিশেল, তাই একটা মাত্র ট্র্যাকে সেটা ধরা সম্ভব ছিল না। রিদমস্কেপ আরো ছড়িয়ে পড়ুক এটাই আশা রাখি।’
(Feed Source: zeenews.com)
