Lawrence Bishnoi Gang Cricket Fixing: ‘ভয়ংকর পরিণতি হবে’, ভারতে বিশ্বকাপে ম্যাচ গড়াপেটায় বিষ্ণোই গ্যাং, ক্যাপ্টেনের সঙ্গে জড়িত বোর্ড প্রেসিডেন্ট

Lawrence Bishnoi Gang Cricket Fixing: ‘ভয়ংকর পরিণতি হবে’, ভারতে বিশ্বকাপে ম্যাচ গড়াপেটায় বিষ্ণোই গ্যাং, ক্যাপ্টেনের সঙ্গে জড়িত বোর্ড প্রেসিডেন্ট

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) শেষ হওয়ার এক মাস ঘুরতে না ঘুরতেই, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে নড়ে গিয়েছে ২২ গজ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি চিপকের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে নিউ জিল্যান্ড খেলেছিল কানাডার (New Zealand vs Canada T20 World Cup 2026) বিরুদ্ধে। আর  গ্রুপ ডি-র সেই ম্যাচে কানাডা টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৭৩ রান তুলেছিল। জবাবে কিউয়িরা ২৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে খেলা বার করে নেয় হেসেখেলে। গ্লেন ফিলিপস (৩৯ বলে ৫৯) ও রাচিন রবীন্দ্রর (৩৬ বলে ৭৬) দুরন্ত ব্যাটই সুপার এইটে কানাডাকে নিয়ে গিয়েছিল। আর এই ম্যাচই ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসি-র তদন্তে। আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখা (এসিইউ) তদন্তের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে রয়েছে নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসের পঞ্চম ওভার। যা কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া (Dilpreet Bajwa)। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে অধিনায়ক হওয়া বাজওয়া ওই ওভারে একটি নো-বল ও একটি ওয়াইড-সহ মোট ১৫ রান দিয়েছিলেন। যখন নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৩৫/২। কানাডা ক্রিকেটের অধিনায়কের সঙ্গেই বোর্ড প্রেসিডেন্টও জড়িয়েছেন ম্যাচ গড়াপেটায়। ঘটনায় সবচেয়ে বড় আপডেট এখন একটাই- ভারতে বিশ্বকাপে ম্যাচ গড়াপেটায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের (Lawrence Bishnoi Gang) লিংক রয়েছে! এখন বাজওয়াকে এসিইউ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোনও খতিয়ে দেখছে।

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (সিবিসি) এক প্রতিবেদনে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংকে কানাডায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত এক সহিংস অপরাধী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সরাসরি এই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেই গায়ক সিধু মুসেওয়ালার হত্যার অভিযোগ রয়েছে। বাজওয়ার হঠাৎ করে অধিনায়কত্বের পদে উঠে আসার কারিগরও এই গোষ্ঠীই। সিবিসি-র সূত্র জানিয়েছে, ‘গত জুলাই মাসে কানাডার প্রায় ২৫ জন ক্রিকেটার একটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক টুর্নামেন্ট জয়ের পর ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারের এক রেস্তোরাঁয় ডিনার করছিলেন। সেই টুর্নামেন্টের দু’জন খেলোয়াড় এমন একটি টেবিলের দিকে এগিয়ে যান, যেখানে কানাডার জাতীয় পুরুষ দলের একজন তারকা খেলোয়াড়ও খাচ্ছিলেন। তারা নিজেদের বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রতিনিধি হিসেবেই দাবি করেন এবং ওই খেলোয়াড়কে হুমকি দিয়ে বলেন যে, তিনি যদি দিলপ্রীত বাজওয়া এবং অন্য একজন তরুণ খেলোয়াড়ের পদোন্নতিতে সমর্থন না করেন, তবে তাঁকে এবং তার পরিবারকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’ প্রতিবেদনে নোয়া নামে আরেক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাকে বিষ্ণোই গ্যাং  হুমকি দিয়েছিল বলেই রিপোর্ট। তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে, এই  বিষ্ণোই গ্যাং সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশাসক এবং খেলোয়াড়কে ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা চালিয়েই আসছে। এই অভিযোগগুলির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাজওয়া। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই অধিনায়ক হিসেবে তাঁর নিয়োগ অত্যন্ত বিতর্কিতই ছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, বাজওয়া যাতে দলে টিকে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হন—তা নিশ্চিত করতে এই গ্যাং হুমকি দিয়েছিল। নোয়াকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ‘আমি এর বিরোধিতা করেছিলাম। তার ৪০ মিনিটের মধ্যেই আমি সেই একই নম্বর থেকে একটি মেসেজ পাই। ওই মেসেজ দেখেই আমি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। কারণ তার সঙ্গে একটি ছবিও ছিল।’

সিবিসি-র প্রতিবেদনে বর্তমান ক্রিকেট কানাডা প্রেসিডেন্ট অরভিন্দর খোসার উত্থানকেও এই ঘটনাগুলির সঙ্গে জুড়েছে। যারা হুমকি দিয়েছে, তাঁদের সঙ্গে খোসার যোগসূত্রেরও উল্লেখ হয়েছে। খোসা অবশ্য এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক ভাবে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত বলেই মনে করেছেন। যদিও জানা গিয়েছে যে, রেস্তোরাঁর ঘটনাটি প্রসঙ্গে তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আমজাদ বাজওয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন, তবুও বাজওয়া এই ঘটনা সম্পর্কে তাঁর অতীতের অভিজ্ঞতার কথা অস্বীকার করেছেন। আরও অভিযোগ যে, খোসা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণেরও আগে, যে দল বাজওয়াকে অধিনায়কত্বের জন্য প্রস্তাব করেছিল, তিনি ছিলেন সেই দলেরই এক সদস্য। নোয়া বলেছেন ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে তারা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের পরিকল্পনা করেছিল। আর ঠিক সেই কারণেই তারা চেয়েছিল যে, বাজওয়া যেন ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকেন’ নোয়া জানিয়েছেন। তাঁকে অধিনায়ক বানানোর জন্য এতদূর যাওয়ার পিছনে তাঁদের আর কী বা উদ্দেশ্য থাকতে পারে?’! প্রতিবেদনের দাবি তৎকালীন সভাপতি আমজাদ বাজওয়া, সিইও সলমান খান এবং বোর্ড সদস্য রানা ইমরান, একসময়ে কানাডার সাবেক কোচ খুররম চৌহানকে ম্যাচের নির্দিষ্ট কিছু অংশ ফিক্স করার অনুরোধও করেছিলেন। দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের ওপর তোলাবাজি ও গুলিবর্ষণের মতো ধারাবাহিক হিংস্র ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, কানাডা সরকার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং-কে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

(Feed Source: zeenews.com)