জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নাসা (NASA) আগেই সতর্ক করেছিল, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সূর্য তার সোলার ম্যাক্সিমাম বা সর্বাধিক সক্রিয় (solar Flare) পর্যায়ে থাকবে। প্রতি ১১ বছর অন্তর সূর্যের এই ভয়ংকর পাগলামি (solar storm) দেখা যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে হওয়া X5.1 শিখাকে ছাপিয়ে ১৪৩৬৬ সানস্পটটি নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছিল। এখন আবার নতুন করে সেই আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি এসব নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে আতঙ্কের আবহ।
‘ম্যাগনেটিক রিকানেকশন’
সৌরঝড় যখন মহাকাশ থেকে পৃথিবীর প্রযুক্তিতে আঘাত হানে, তার আগে সূর্যের বুকে ‘ম্যাগনেটিক রিকানেকশন’ (Magnetic Reconnection) বা ‘চুম্বকীয় পুনঃসংযোজন’ নামক এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর সূত্রপাত ঘটে। সম্প্রতি নাসার পার্কার সোলার প্রোব (Parker Solar Probe)-এর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এ সংক্রান্ত নতুন কিছু তথ্য, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে, কীভাবে এই ধরনের চৌম্বকীয় ঘটনাগুলি মহাজাগতিক কণাগুলিকে বিপজ্জনক গতিতে ছুড়ে দেয়।
করোনাল হোল
করোনাল হোল (CH) হল সৌর করোনার (Solar Corona) অপেক্ষাকৃত কম ঘনত্বের একটি এলাকা। এগুলি দেখতে অন্ধকার দেখায়, কারণ এগুলি অনেকটা শীতল। এই বৈশিষ্ট্যগুলি থেকে সৌর বাতাস অত্যন্ত উচ্চ গতিতে বেরিয়ে আসে, যা হাই স্পিড স্ট্রিমস (HSS) নামে পরিচিত। যখন এই বাতাস পৃথিবীতে পৌঁছয়, তখন ভূ-চৌম্বকীয় (Geomagnetic) কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।

ভূ-চৌম্বকীয় কার্যকলাপ
এর প্রভাবে সাধারণত আন্তঃগ্রহীয় চৌম্বক ক্ষেত্রের (Interplanetary Magnetic Field) একটি সংকুচিত এলাকার আগমনের মাধ্যমে শুরু হয়; এবং এর তীব্রতার উপর নির্ভর করে ভূ-চৌম্বকীয় প্রতিক্রিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। মূলত কিছু প্রযুক্তিগত কাঠামোর উপর নানা প্রভাব পড়তে পারে।
সিঁদুরে মেঘ
মাসদুয়েক আগে একবার এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সূর্য তখন ছিল একেবারে মর্মান্তিক মেজাজে। ওই সময়ে সৌরপৃষ্ঠে যা ঘটেছে, তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখেছিলেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। বলা হয়েছিল সূর্যের রণচণ্ডী রূপে কাঁপবে পৃথিবী! ভয়ংকর বড় কিছু ঘটার আশঙ্কায় সেবার ঘুম উড়েছিল আসমুদ্রহিমাচলের বিজ্ঞানীদের!
সৌরকলঙ্ক
ঠিক কী ঘটেছিল? তখন জানা গিয়েছিল, বিশালাকার এক সানস্পট বা সৌরকলঙ্ক থেকে একের পর এক ধেয়ে আসছে আগুনের হলকা। বিজ্ঞানীদের নজরে ছিল ‘রিজিয়ন ১৪৩৬৬’। এটি একটি সানস্পট। সানস্পটটি গত কয়েকদিনে সূর্যের বুকে তাণ্ডব চালিয়েছিল। সেখান থেকে সৃষ্টি হয়েছিল ‘X8.1’ শ্রেণির এক ভয়াবহ সৌরশিখা। গত কয়েক বছরের নিরিখে এটি ছিল অন্যতম শক্তিশালী বিস্ফোরণ। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘X9.0’ মাত্রার একটি ঝড় আছড়ে পড়েছিল। এই বিস্ফোরণ ছিল তার প্রায় কাছাকাছি।
স্ট্রং রেডিয়ো ব্ল্যাকআউট
সূর্য তখন ছিল ভয়ংকর ক্রুদ্ধ। সূর্য থেকে বেরোচ্ছিল ভয়ংকর শক্তিশালী বিকিরণ– সোলার ফ্লেয়ার। এর জেরে সারা পৃথিবী বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। ইসরো পর্যন্ত বিষয়টার উপর নজর রেখেছিল। তারা মনে করছিল, স্ট্রং রেডিয়ো ব্ল্যাকআউট হতে পারে। মার্কিন সংস্থা NOAA-এর স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছিল, এর জেরে পৃথিবীতে ভূ-চৌম্বকীয় কার্যকলাপ বা জিও-ম্যাগনেটিক অ্যাক্টিভিটি চরমে পৌঁছতে পারে। কেননা সূর্য থেকে প্লাজমার বিশাল মেঘ বা ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ (CME) পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছিল। যদিও বিজ্ঞানীদের আশা ছিল, এই মেঘ পৃথিবীকে সরাসরি ধাক্কা না দিয়ে এর পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাবে। তবে তার রেশ আছড়ে পড়তেই পারে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে। মহাজাগতিক ঝাপটায় নিম্ন অক্ষাংশের এলাকাগুলিতে অরোরা বা মেরুজ্যোতি দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হয়েছিল। কী ঘটেছিল?
তীব্র সৌরঝড়
না, সবটাই তাত্ত্বিক আশঙ্কা ছিল না। কেননা, সেই সময়ে, যখন এসব আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছিল, তখনই ওই বিস্ফোরণের জেরে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আংশিক রেডিও ব্ল্যাকআউট দেখা দিয়েছিল। সময়টা ছিল ফেব্রুয়ারি। সেই সময়ে এই তীব্র সৌরঝড়ে বিকল হতে পারে জিপিএস (GPS) ব্যবস্থা বলে আশঙ্কা ছিল। যার বহুল প্রভাব পড়তে পারে মোবাইল নেটওয়ার্ক, এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগেও।
(Feed Source: zeenews.com)
