IRS Daughter Murder Case: ১২ ঘণ্টায় দু’বার ধর্ষণ ! আলওয়ার থেকে দিল্লিতে এসে IRS কন্যাকে খুন, গোটা ঘটনা বিশদে জানাল পুলিশ

IRS Daughter Murder Case: ১২ ঘণ্টায় দু’বার ধর্ষণ ! আলওয়ার থেকে দিল্লিতে এসে IRS কন্যাকে খুন, গোটা ঘটনা বিশদে জানাল পুলিশ

সিসিটিভিতে অভিযুক্তের ঢোকা, ঘটনার পরে পোশাক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। বাড়িটির সঙ্গে পরিচিত ছিল বলেই সে এই কাজ ঘটাতে পেরেছে বলে পুলিশের অনুমান।  মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০.৩০টা নাগাদ অভিযুক্ত রাহুল মীনা তার Alwar-এর প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে, তাকে ধাক্কা মেরে মারধর করে এবং ধর্ষণ করে। অভিযোগ, সে তরুণীর মুখ চেপে ধরে, গলা টিপে ধরে এবং মাটিতে ফেলে দেয়, তারপর ধর্ষণ করে। তরুণীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড় দেয় বলেও অভিযোগ। রাত ১১টা নাগাদ সে চলে যাওয়ার সময় তরুণীকে হুমকি দেয় এবং চুপ থাকতে বলে ৷ জানায়, যদি কাউকে তিনি জানান তাহলে আরও সাংঘাতিক কাণ্ড ঘটাবে সে।

পরের দিন সকালে রাহুল দিল্লি পৌঁছায় এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির Amar Colony-র একটি হাউজিং সোসাইটিতে সকাল ৬:৩০টা নাগাদ ঢোকে। এরপর সে তার আগের মালিকের ফ্ল্যাটে সকাল ৬:৩৯টা নাগাদ যায়।

সে ওই বাড়ি থেকে সকাল ৭:৩০টা নাগাদ বেরিয়ে যায়। মেয়েটির বাবা-মা যখন সকাল ৮টা নাগাদ জিম থেকে বাড়ি ফেরেন, তখন দেখেন তাদের মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থা পড়ে রয়েছে। তার জামাকাপড় ছেঁড়া ছিল এবং কোমরের নিচ থেকে নগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।

বুধবার দিল্লিতে নিজের বাড়িতে খুন হন আইআরএস আধিকারিকের কন্যা। ধর্ষণ করে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ। বুধবারই দিল্লির একটি হোটেল থেকে রাহুলকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর তদন্ত যত গড়িয়েছে, ততই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা গিয়েছে, ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দু’বার ধর্ষণ করেছে রাহুল। প্রথমটি রাজস্থানের আলওয়ারে। সেখানে নির্যাতিতা ইতিমধ্যেই পুলিশে অভিযোগ করেছেন। দ্বিতীয়টি দিল্লিতে, ধর্ষণ করে নির্যাতিতাকে খুন করেছে রাহুল।

দিল্লির ফ্ল্যাটের ভিতরে যা ঘটেছিল:

পুলিশের মতে, রাহুল সরাসরি মেয়েটির স্টাডি রুমে যায়, যা ফ্ল্যাটের ছাদে আলাদা করে ছিল। মহিলা তখন UPSC পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করছিলেন, তখনই রাহুলই ঢুকে পড়ে, তার প্রতিরোধ সত্ত্বেও গলা টিপে ধরে এবং একটি ল্যাম্প ও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে, যার ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

এরপর সে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করে, স্টাডি রুম থেকে টেনে বের করে, সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে যায় সেই ঘরে যেখানে লকার ছিল এবং তার রক্তমাখা আঙুল দিয়ে লকার খোলার চেষ্টা করে, কিন্তু লকার খোলে না। পুলিশ সন্দেহ করছে, তখনই তার রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং হাত রক্তে ভেসে গিয়েছিল, তাই লকার খোলেনি। পুলিশের অনুমান, তখনই তিনি মারা গিয়েছিলেন। অভিযুক্ত এরপর তাঁর দেহ মেঝেতে ফেলে রেখে যায়। পরে সে স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে লকার খুলে টাকা ও গয়না নিয়ে নেয়। রক্তমাখা জামাকাপড় বদলে, বাড়িতে পাওয়া মেয়েটির ভাইয়ের প্যান্ট ও স্লিপার পরে পালিয়ে যায়।

পুলিশ কীভাবে রাহুলকে ধরল?

পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ এক প্রতিবেশীর ঘরে জোর করে ঢোকে রাহুল। সেখানে এক মহিলাকে ধর্ষণ করে। তারপর নির্যাতিতাকে শাসানি দেয়, কাউকে কিছু বললে গোটা পরিবারকে খুন করে দেবে। রাত ১১টা নাগাদ হুমকি দিয়ে বেরিয়ে যায় রাহুল। তারপর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। কিন্তু ততক্ষণে রাজস্থান থেকে দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছে রাহুল। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ দিল্লিতে আইআরএস আধিকারিকের বাড়িতে ঢোকে সে। দিল্লি পুলিশ অভিযুক্তকে ধরতে ১৫টি টিম গঠন করে। প্রথমে সোসাইটির গেট ও বিল্ডিংয়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত কোন দিকে পালিয়েছে তা জানতে পারে। এরপর ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অভিযুক্ত কোন অটো-রিকশায় উঠেছিল। চালককে খুঁজে বের করে Police জানতে পারে, সে অভিযুক্তকে এক হোটেলে নামিয়ে দিয়েছিল। পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

IRS অফিসারের বাড়ি থেকে কেন রাহুলকে বের করে দেওয়া হয়েছিল?

অভিযুক্তকে আরেক অফিসারের সুপারিশে IRS অফিসার নিয়োগ করেছিলেন এবং প্রায় এক বছর কাজ করেছিল। পরে পরিবার জানতে পারে, তার বাজি খেলার অভ্যাস রয়েছে, তাই তাকে বের করে দেওয়া হয়।

বাজির টাকা জোগাড় করতে সে নাকি পরিবারকে ঠকাত এবং এলাকার লোকজনের কাছ থেকেও টাকা ধার করত। যেমন, ওষুধ কেনার জন্য পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিত, কিন্তু দোকানদারকে দিত না, ওষুধ বাকিতে নিত। পরিবার জানতে পারলে, তাকে চাকরি থেকে বের করে দেয়।

CCTV-তে অভিযুক্ত ধরা পড়ে:

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, CCTV ফুটেজে দেখা যায়, মীনা সকাল ৬:২৮টা নাগাদ হলুদ শার্ট ও কালো ট্রাউজার পরে আবাসনে ঢুকছে। প্রায় এক ঘণ্টা পরে, সকাল ৭:২২টা নাগাদ দেখা যায়, সে সাদা ট্রাউজার ও ফুল-স্লিভ হলুদ টি-শার্ট পরে বেরিয়ে যাচ্ছে।

(Feed Source: news18.com)