)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের একেবারে প্রথম দিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-আমেরিকার হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনি। তাঁর অফিসে বোমা ফেলা হয়। নিহত হয়ে খামেইনি। দেশ শুধু নয়, মধ্য়প্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় বিরাট মাপের এই নেতার মৃত্যুর পর থেকে তার অন্তেষ্টির কোনও খবর নেই। যুদ্ধের এই ঘনঘটার মধ্যে মনে করা হচ্ছে, খামেইনির অন্তেষ্টিতে জমা হতে পারেন লাখ লাখ মানুষ। সেই জমায়েতে হামলা হতে পারে। ফলে এখনও অন্তেষ্টির কোনও আয়োজন করছে না ইরান। তবে ইরানি সংবাদমাধ্য়মের খবর, খামেইনির অন্তেষ্টির কোনও জায়গা এখন স্থির করেনি ইরান।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে এক বিশাল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছিল। মূলত বর্তমান নেতা আলী খামেনির পূর্বসূরি খোমেনির সেই বিদায় অনুষ্ঠানটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম জনবহুল একটি জমায়েত।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে হত্যা করার ফলে দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই নিহত কর্মকর্তাদের মধ্যে দেশটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন। মূলত একের পর এক শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু বা হত্যার কারণে ইরানের বর্তমান অবস্থা বেশ অস্থির ও সংকটময় হয়ে পড়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ আয়মান তালিবলু ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির বিশাল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, খামেনির মৃত্যুর গুঞ্জনের এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও কেন কোনো বড় ধরনের শোক সভা বা অনুষ্ঠান হল না—এই বিষয়টি বেশ অস্বাভাবিক এবং এটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে।
মার্চ মাসের শুরুর দিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ’ জানিয়েছিল যে, আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ উত্তর-পূর্ব ইরানের প্রধান শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে। মাশহাদ হল খামেনির জন্মস্থান, তাই সেখানেই তার শেষ বিদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শীর্ষ নেতার হত্যাকাণ্ডের (assassination) ঠিক পরেই ইরান দেশজুড়ে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তখন জানিয়েছিল যে, এই শোক পালন বা শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতাগুলো খুব শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে। মূলত নেতার মৃত্যুর খবর আসার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে এই শোকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চলছে, যা আগামী বুধবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগে ওমানে যে আলোচনা বা বৈঠক হয়েছিল, তা সফল না হওয়ায় পরিস্থিতি এখন কোন দিকে যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সহজ কথায়, দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত থামানোর চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি।
(Feed Source: zeenews.com)
