সিবিএসই-র নতুন তিন ভাষা নীতি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হতে চলা এই নীতির ফলে ধীরে ধীরে স্কুলের পাঠ্যসূচি থেকে হারিয়ে যেতে পারে জার্মান, ফরাসির মতো বিদেশি ভাষা—এমনই আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষকমহল।
বিদেশি ভাষার জায়গায় সংস্কৃত? CBSE-র নতুন নীতিতে বিভ্রান্ত অভিভাবক থেকে ছাত্রছাত্রীরা!
সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)-এর নতুন তিন ভাষা নীতি কার্যকর হওয়ার আগেই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন (NCFSE) ২০২৩ অনুযায়ী, এই তিন ভাষার মধ্যে অন্তত দু’টি আঞ্চলিক ভাষা এবং একটি বিদেশি ভাষা থাকতে হবে। এই নীতি জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০-এর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে বাস্তবে এই নীতি কার্যকর করতে গিয়ে বেশ কিছু স্কুল ইতিমধ্যেই বিদেশি ভাষার বিকল্প কমাতে শুরু করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ষষ্ঠ শ্রেণিতে জার্মান বা ফরাসির মতো ভাষার পরিবর্তে সংস্কৃত বা আঞ্চলিক ভাষা চালু করা হচ্ছে। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী একটিমাত্র বিদেশি ভাষা রাখা যাবে—এবং বেশিরভাগ অভিভাবক ও পড়ুয়াই সেই জায়গায় ইংরেজিকেই বেছে নিচ্ছেন। ফলে অন্য বিদেশি ভাষাগুলির চাহিদা কার্যত কমে যাচ্ছে।
এর আগে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকা পড়ুয়াদের মধ্যে জার্মান, ফরাসির মতো ভাষার চাহিদা ছিল যথেষ্ট। এখনও যারা বিদেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী, তারা এই ভাষাগুলির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ খুঁজছেন। কিন্তু নতুন নীতির ফলে সেই সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মত, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাষা শুধুমাত্র পরীক্ষায় পাশ করার জন্য পড়ানো হয়, বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ কম। ফলে ভাষা শেখার উদ্দেশ্যই অনেক সময় অস্পষ্ট হয়ে যায়।
এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বিদেশি ভাষার শিক্ষকরা। যদিও আপাতত তাঁদের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে তাঁদের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কিছু স্কুল ইতিমধ্যেই তাঁদের অন্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে, যাতে তাঁরা বিকল্পভাবে যুক্ত থাকতে পারেন।
সিবিএসই জানিয়েছে, এই নীতি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। তবে এখনও সব বিষয়ের পাঠ্যপুস্তক তৈরি না হওয়ায়, আপাতত স্থানীয়ভাবে পাওয়া বই বা শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করে পাঠদান শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন তিন ভাষা নীতি একদিকে ভাষা শিক্ষার কাঠামোয় পরিবর্তন আনলেও, অন্যদিকে তা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ—যার প্রভাব পড়তে পারে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের উপরেই।
(Feed Source: news18.com)