আর্থিক সাহায্যের দরকার নেই, দিল্লিতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা আফগান ক্রিকেটারের ভাই কী জানালেন?

আর্থিক সাহায্যের দরকার নেই, দিল্লিতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা আফগান ক্রিকেটারের ভাই কী জানালেন?
নয়াদিল্লি: একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের বিপাকে ফেলতেন । গতি আর স্যুইংয়ে বাজিমাত করতেন। এখন সেই শাপুর জাদরান (Shapoor Zadran) বিরল রোগে আক্রান্ত । নয়াদিল্লির হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ।

তবে জাদরানের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের দরকার নেই বলে জানালেন তাঁর ভাই ঘামাই জাদরান (Ghamai Zadran)। শুধু জাদরানের আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ঘামাই ।

কী হয়েছে জাদরানের ?

বিরল রোগে আক্রান্ত আফগানিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার । তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিপর্যস্ত। নয়াদিল্লির এক হাসপাতালে ভর্তি তিনি । পরিস্থিতি এখনও সঙ্কটজনক । তবে তাঁর আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে জানালেন ক্রিকেটারের ভাই ঘামাই জাদরা। তিনি বলেছেন, ‘ঈশ্বরের কৃপায় আমাদের পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। আমাদের কোনও আর্থিক সাহায্যের দরকার নেই। শুধু প্রার্থনা করুন। সেটাই আমাদের প্রয়োজন । প্রার্থনা ।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে আমাদের চিকিৎসক ভারতে এসে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন। সকলেই বলেছিলেন এখানে খুব ভাল চিকিৎসা হয়। আর গোটা বিশ্ব জানে ভারতে বিশ্বের অন্যতম ভাল চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। সেই কারণেই আমরা এসেছি।’

ভর্তি দিল্লির হাসপাতালে

আফগানিস্তানের প্রাক্তন ফাস্টবোলার শাপুর জাদরান (Shapoor Zadran) দিল্লির একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার প্রাক্তন ফাস্টবোলার শাপুর আইসিইউ-তে ভর্তি আছেন। তিনি হেমোফ্যাগোকাইটিক লিম্ফো হিস্টিওসাইটোসিস (Hemophagocytic Lymphohistiocytosis) নামক একটি বিরল এবং মারাত্মক রোগে ভুগছেন আফগান তারকা, যেখানে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে শুরু করে। আফগান খেলোয়াড়ের অবস্থা বেশ সঙ্কটজনক । সংক্রমণ তাঁর মস্তিষ্কে পৌঁছে গিয়েছে। এছাড়াও, ওজন দ্রুত কমছে এবং কথাবার্তাও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে ।

শাপুর চিকিৎসার জন্য জানুয়ারি মাসে দিল্লিতে এসেছিলেন। এখন তিনি HLH-এর চতুর্থ পর্যায়ে ভুগছেন। গত বছর অক্টোবর মাসে প্রথম তাঁর সমস্যা হয়েছিল । শাপুরের ছোট ভাই ঘামাই জাদরান জানিয়েছিলেন, এর পরেই আফগানিস্তানে ডাক্তাররা তাঁকে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ।

ঘামাই জাদরান আরও জানিয়েছেন, শাপুরের সংক্রমণ মস্তিষ্কে চলে গিয়েছিল, যা এমআরআই এবং সিটি স্ক্যানের পর চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন। তাঁর টিবিও হয়েছিল। শাপুরের ভাই জানিয়েছেন, এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভাল। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর প্রায় ১৪ কেজি ওজন কমে গিয়েছে। তিনি খুব কমই কথা বলতে পারেন। কথাবার্তা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

(Feed Source: abplive.com)