Trump H1B VISA BIG CHANGE: ভারতীয়দের বিগ আমেরিকান ড্রিমে পাকাপাকি ফুলস্টপের পথে ট্রাম্প: তিন বছর দেওয়াই হবে না H-1B ভিসা

Trump H1B VISA BIG CHANGE: ভারতীয়দের বিগ আমেরিকান ড্রিমে পাকাপাকি ফুলস্টপের পথে ট্রাম্প: তিন বছর দেওয়াই হবে না H-1B ভিসা

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের জন্য আমেরিকার স্বপ্ন কি তবে ফিকে হতে চলেছে? মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান সাংসদদের পেশ করা একটি সাম্প্রতিক বিল অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। অ্যারিজোনার কংগ্রেস সদস্য এলি ক্রেন এবং আরও সাতজন রিপাবলিকান সদস্য এই ‘সুইপিং’ বিলটি পেশ করেছেন। তাঁদের দাবি, এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থাকে বর্তমানে হাইজ্যাক করা হয়েছে সস্তায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খোদ মার্কিন নাগরিকরা। এই ‘অপব্যবহার’ রুখতেই তিন বছরের জন্য নতুন ভিসা প্রদান পুরোপুরি বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিলের প্রধান দিকগুলো কী কী?

এই নতুন বিলটি কেবল তিন বছরের জন্য ভিসা স্থগিত করার কথা বলেনি, বরং এটি কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসার পুরো কাঠামোটিই আমূল বদলে যাবে। বিলের প্রধান প্রস্তাবনাগুলি হলো:

তিন বছরের পূর্ণ বিরতি: বিলটি পাস হওয়ার পর টানা তিন বছর কোনও নতুন এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হবে না।

ভিসা সংখ্যায় ব্যাপক ছাঁটাই: বর্তমানে বার্ষিক এইচ-১বি ভিসার ঊর্ধ্বসীমা বা ক্যাপ হলো ৬৫,০০০। এই বিল অনুযায়ী সেই সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ২৫,০০০-এ নিয়ে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ন্যূনতম বেতন ২ লক্ষ ডলার: বর্তমানে এইচ-১বি কর্মীদের জন্য যে বেতন কাঠামো রয়েছে, তাকে আকাশছোঁয়া করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসায় কাজ করতে হলে কর্মীর ন্যূনতম বার্ষিক বেতন হতে হবে ২ লক্ষ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১.৬৭ কোটি টাকা)।

ডিপেন্ডেন্ট বা পরিবারের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা: এই বিলের সবচেয়ে ভীতিজনক দিক হলো, এইচ-১বি ভিসা হোল্ডাররা আর তাঁদের জীবনসঙ্গী বা সন্তানদের (H-4 ভিসা) আমেরিকায় নিয়ে যেতে পারবেন না।

লটারি প্রথার বিলুপ্তি: বর্তমানে লটারির মাধ্যমে এইচ-১বি নির্বাচন করা হয়। নতুন বিলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে লটারি সরিয়ে বেতন-ভিত্তিক (Wage-based) সিলেকশন করার। অর্থাৎ, যাঁদের বেতন সবথেকে বেশি, তাঁরাই অগ্রাধিকার পাবেন।

ভারতীয়দের ওপর এর প্রভাব কতটা?

আমেরিকার এইচ-১বি ভিসার সবথেকে বড় গ্রহীতা হলো ভারত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর ইস্যু হওয়া মোট এইচ-১বি ভিসার প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি যায় ভারতীয় পেশাদারদের হাতে। বিশেষ করে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS), ইনফোসিস এবং উইপ্রোর মতো সংস্থাগুলি এই ভিসার ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল।

১. আইটি সেক্টরে বিপর্যয়: ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলি মূলত মধ্যম সারির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের আমেরিকায় পাঠায়। ন্যূনতম বেতন ২ লক্ষ ডলার ধার্য করা হলে, অধিকাংশ ভারতীয় কর্মীর পক্ষেই সেই যোগ্যতা অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

২. শিক্ষার্থীদের স্বপ্নভঙ্গ: আমেরিকায় পড়তে যাওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ (OPT)-এর মাধ্যমে কাজের সুযোগ পান। এই নতুন বিলটি ওপিটি প্রথাও রদ করার প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষার পর আমেরিকায় কাজ করার পথ চিরতরে বন্ধ হতে পারে।

৩. পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা: এইচ-১বি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের (ডিপেন্ডেন্ট) আমেরিকায় থাকার অনুমতি না দিলে সামাজিক এবং মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হবে। অনেক পেশাদারই পরিবার ছেড়ে একা ভিনদেশে কাজ করতে উৎসাহ হারাবেন।

৪. গ্রিন কার্ডের পথে বাধা: বিলটিতে এইচ-১বি থেকে স্থায়ী নাগরিকত্ব বা গ্রিন কার্ডে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকেও অত্যন্ত কঠিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কেন এই কড়াকড়ি?

সাংসদ এলি ক্রেন এবং পল গোসারদের মতে, মার্কিন সংস্থাগুলি লাভের মুখ দেখতে আমেরিকানদের বদলে সস্তায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করছে। তাঁদের যুক্তি, ‘ফেডারেল সরকারের কাজ হল নিজের দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, বড় বড় কর্পোরেট সংস্থার প্রফিট মার্জিন বাড়ানো নয়।’ এই বিলের মাধ্যমে তাঁরা তথাকথিত ‘আউটসোর্সিং’ সংস্কৃতিকে ধাক্কা দিতে চাইছেন।

বিপরীত প্রতিক্রিয়া 

যদিও এই বিলটি পেশ হয়েছে, তবে এটি আইনে পরিণত হতে গেলে মার্কিন সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হবে। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলি যেমন গুগল, মাইক্রোসফট বা অ্যাপল এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, দক্ষ বিদেশি কর্মীর অভাব ঘটলে আমেরিকার সিলিকন ভ্যালির উদ্ভাবন ক্ষমতা ধাক্কা খাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি ‘পলিটিক্যাল মুভ’ হতে পারে, বিশেষ করে ২০২৬-এর মার্কিন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কারণ, এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ও এইচ-১বি নিয়ে কড়াকড়ি হয়েছিল, কিন্তু এবারের প্রস্তাবিত বিলটি তার থেকেও অনেক বেশি কঠোর।

(Feed Source: zeenews.com)