Parambrata Chatterjee: জীবনের প্রথম রাজনৈতিক মঞ্চে পরমব্রত, বাঙালির ‘আত্মসম্মানের লড়াই’-এ সওয়াল করলেন মমতার পক্ষে

Parambrata Chatterjee: জীবনের প্রথম রাজনৈতিক মঞ্চে পরমব্রত, বাঙালির ‘আত্মসম্মানের লড়াই’-এ সওয়াল করলেন মমতার পক্ষে

অনুপ দাস: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। তপ্ত রোদেও রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। শনিবার নদীয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের চক দিগনগর হাইস্কুল মাঠে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় চাঁদের হাট বসেছিল। উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাংসদ জুন মালিয়া এবং অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। প্রথমবার কোনও রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখলেন অভিনেতা পরমব্রত।

এদিনের সভার মূল আকর্ষণ ছিলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় কারণ অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং বাংলার এক সচেতন নাগরিক হিসেবে এদিন তিনি রাজনৈতিক মঞ্চে পা রাখলেন। পরমব্রত বলেন, “কৃষ্ণনগর দক্ষিণের এই পুণ্যভূমি থেকে আজ ব্যক্তিগতভাবে আমার রাজনৈতিক মঞ্চে যাত্রা শুরু হচ্ছে। এই ভরদুপুরে ধুলো আর রোদ উপেক্ষা করে আসার একটাই কারণ— ২০২৬-এর নির্বাচন শুধুমাত্র ভোট নয়, এটি বাঙালির আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই।”

নারী সুরক্ষা ইস্যুতে বিরোধীদের একহাত নিয়ে তিনি বলেন, “যে সব রাজ্যে প্রতিদিন নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটে, সেখান থেকে এসে কিছু মানুষ আমাদের এই রাজ্যে মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে জ্ঞান দিয়ে যাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। পশ্চিমবঙ্গ আজও মহিলাদের জন্য সবথেকে নিরাপদ রাজ্য।” এছাড়াও তিনি এসআইআর (SIR)-এর নামে ভোটারদের হয়রানি করার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সরব হন।

বক্তব্যের শেষে পরমব্রত উপস্থিত জনতাকে আগামী ২৯ তারিখ জোড়াফুল প্রতীকে উজ্জ্বল বিশ্বাসকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের বার্তা। প্রবল গরম সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষের ভিড় এদিন বুঝিয়ে দিয়েছে কৃষ্ণনগর দক্ষিণের লড়াই এবার বেশ জোরদার হতে চলেছে।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জুন মালিয়া কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। সম্প্রতি এই জেলায় যোগী আদিত্যনাথের একটি বিতর্কিত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জুন বলেন, “এই জেলায় যোগী এসেছে। তিনি নাকি বলেছেন স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন ‘তুমি আমাদের রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো’। এ কোন কালচার? যারা আমাদের মহাপুরুষদের ইতিহাস ঠিকমতো জানে না, তারা বাংলায় এসে বড় বড় কথা বলছে।” জুনের এই আক্রমণ মূলত বহিরাগত তকমা দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বকে কোণঠাসা করার কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

(Feed Source: zeenews.com)