
১৮৭৭-৭৮: কী ঘটেছিল?
প্রায় দেড়শো বছর আগে শক্তিশালী El Niño-র ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘ খরা এবং মারাত্মক খাদ্যসংকট দেখা দেয়। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, সেই সময়ে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশ মানুষ প্রাণ হারায়—যা ইতিহাসে অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত।
El Niño কী?
El Niño হল একটি জলবায়ু প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে বায়ুপ্রবাহের ধরনে পরিবর্তন আসে, মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয় এবং বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের ধরণ বিঘ্নিত হয়।
এর প্রভাবে—
ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অ্যামাজন অঞ্চলে খরা ও তাপপ্রবাহ বাড়তে পারে অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিতে পারে ২০২৬: কী বলছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস?
World Meteorological Organization-এর সাম্প্রতিক গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেটে জানানো হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে—যা ২০২৬ সালের মে-জুলাইয়ের মধ্যেই El Niño পরিস্থিতি ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংস্থার জলবায়ু পূর্বাভাস প্রধান উইলফ্রান মউফৌমা ওকিয়া জানিয়েছেন, এই পরিবর্তন শক্তিশালী El Niño-র দিকে ইঙ্গিত করছে, যদিও “spring predictability barrier”-এর কারণে এই সময়ে পূর্বাভাসে কিছু অনিশ্চয়তা থাকে। এপ্রিলের পর পূর্বাভাস আরও নির্ভরযোগ্য হবে।
ভারত কি চিন্তায়?
ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হতে পারে। কারণ দেশের কৃষি, জলসম্পদ ও অর্থনীতি অনেকটাই মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।
সম্ভাব্য প্রভাব:
উত্তর, মধ্য ও পূর্ব ভারতে কম বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ফসল উৎপাদনে ধাক্কা খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি জলসংকট
India Meteorological Department-এর প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বর্ষা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের প্রায় ৯২ শতাংশ হতে পারে—যা ‘স্বাভাবিকের নিচে’।
অতিরিক্ত ঝুঁকি কী?
গবেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের জলে লবণাক্ততার পরিবর্তন El Niño-র তীব্রতা আরও ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। এতে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ হতে পারে।
অর্থনীতি ও সমাজে প্রভাব
ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে বর্ষা থেকে। ফলে—
জলাধার ও ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কমে যেতে পারে কৃষিক্ষেত্রে বড় ক্ষতি হতে পারে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে বিশেষজ্ঞদের মত
বিজ্ঞানীরা এখনই ‘সুপার El Niño’ ঘোষণা করতে রাজি নন, তবে পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সমাধানের পথ হিসেবে উঠে আসছে—
উন্নত জলব্যবস্থাপনা তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় পরিকল্পনা কৃষকদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা উপসংহার
১৮৭৭-৭৮ সালের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সমুদ্রের তাপমাত্রার বড় পরিবর্তন পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করতে পারে। ২০২৬ সালে সম্ভাব্য শক্তিশালী El Niño যদি বাস্তব হয়, তাহলে তার প্রভাব ২০২৭ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে—যা বিশ্ব ও ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
(Feed Source: news18.com)
