Deadly New Snake Species Found: ৪০ বছর পর জঙ্গলে ফেরার ‘দার্শনিক’, সবুজ বর্ণের শরীরে হলুদ দু’চোখ, ছদ্মবেশীর কামড়ে ভয়ংকর বিষ

Deadly New Snake Species Found: ৪০ বছর পর জঙ্গলে ফেরার ‘দার্শনিক’, সবুজ বর্ণের শরীরে হলুদ দু’চোখ, ছদ্মবেশীর কামড়ে ভয়ংকর বিষ

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চিনের শহর চেংডুর পশ্চিমে অবস্থিত তিব্বতীয় অঞ্চল পশ্চিম সিচুয়ান। তুষারাবৃত পর্বতমালা, বিস্তৃত তৃণভূমি এবং গভীর। ঐতিহ্যবাহী খাম তিব্বতীয় সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত তবে এই দুঃসাহসিক গন্তব্য হাইকিং, ফটোগ্রাফিরও হটস্পট। আর এখানেই রয়েছে জায়ান্ট পান্ডা ন্যাশনাল পার্ক (Giant Panda National Park)। এই কুয়াশাচ্ছন্ন রহস্যময় অরণ্য দীর্ঘদিন ধরে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। যদিও পার্কটি তার নামধারী ভাল্লুকের জন্য সুপরিচিত। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এখানে এক ভিন্ন ধরনের বাসিন্দার কথা আলোচনায় উঠে আসছে। চেংডু ইনস্টিটিউট অফ বায়োলজি এবং অন্যান্য আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি এক পিটভাইপার সাপের নতুন প্রজাতি শনাক্ত করেছেন। যা কয়েক দশক ধরেই উপেক্ষিত ছিল। প্রায় ৪০ বছর এই সাপকে ভুল ভাবে চিহ্ণিত করা হয়েছে। ‘জুসিস্টেমেটিকস অ্যান্ড ইভোলিউশন’ নামের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা চমকে দিয়েছে।

ট্রাইমেরেসুরাস লিই (Trimeresurus lii) বা হুয়াক্সি গ্রিন পিটভাইপার (Huaxi Green Pitviper) নামে পরিচিত এই সাপটিকে আগে আর পাঁচটা ব্যাম্বু পিটভাইপারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হত। জিনগত অনুক্রম এবং বিশদ শারীরিক বিশ্লেষণের সমন্বয়ে গবেষকরা নির্ধারণ করেছেন যে, এই প্রজাতিগুলি একটি স্বতন্ত্র বংশধারার প্রতিনিধি। প্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে লি এর-এর সম্মানে, এই চিনা দার্শনিক লাওজি নামেও পরিচিত ছিল। যাঁর শিক্ষায় মানবতা এবং প্রাকৃতিক জগতের মধ্যে ভারসাম্যের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। হুয়াক্সি গ্রিন পিটভাইপারের নামেই রয়েছে তার বর্ণ। উজ্জ্বল সবুজ রংয়ের এই সাপের চোখের স্বতন্ত্র রঙের জন্য পরিচিত। যা অ্যাম্বার থেকে শুরু করে কমলা-হলুদ পর্যন্ত হতে পারে। এই সাপের পুরষ ও মহিলার মধ্যে শারীরিক পার্থক্য স্পষ্ট বিদ্যমান। পুরুষ সাপগুলির দেহের দুপাশে লাল-সাদার মিশ্রণে গঠিত একটি ত্রিবর্ণ রেখা দেখা যায়, অন্যদিকে মহিলা সাপগুলোর ক্ষেত্রে কেবল একটি সাধারণ হলুদ রেখা থাকে। গবেষকদের এই সাপটিকে তার নিকটাত্মীয় প্রজাতিগুলির থেকে আলাদা করতে এই সব প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সহায়তা করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হল মাথার মসৃণ আঁশ—যা এই অঞ্চলের অনুরূপ অন্য কোনও প্রজাতির সাপের মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না।

পশ্চিম চায়না রেইন জোনে, বিশেষ করে এমি পর্বত এবং জিলিং তুষার পর্বতের আশেপাশে  এই সাপের হদিশ মিলেছে। ট্রাইমেরেসুরাস লি-কে তার গণের ৫৮তম প্রজাতি হিসেবে শনাক্তকরণ এই কথা মনে করিয়ে দেয় যে, এমনকি সু-নথিভুক্ত অঞ্চলেও জৈবিক রহস্য লুকিয়ে থাকে। এই আবিষ্কারটি জায়ান্ট পান্ডা জাতীয় উদ্যানের বৃহত্তর গুরুত্বকে তুলে ধরে। প্রধান প্রজাতিগুলির জন্য বিশাল আবাসস্থল রক্ষা করার মাধ্যমে, এই উদ্যানটি অনিচ্ছাকৃ তভাবে বিশেষায়িত সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীদের এক জটিল বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ করে। চিনের সংরক্ষিত বন্য অঞ্চলের জীবনের পূর্ণাঙ্গ পরিধি বোঝার জন্য এই প্রাণিগুলোকে নথিভুক্ত করা হয়ে উঠেছ এক  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

এই সবুজ বোড়া সাপ সাধারণত মানুষের জন্য মারাত্মক বা প্রাণঘাতী নয়। তবে এর বিষ এবং কামড় বেশ যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এর বিষ প্রধানত হেমোটক্সিক প্রকৃতির, যা রক্তকণিকা ভেঙে দেয় এবং আক্রান্ত স্থানে টিস্যুর ক্ষতি করে। কামড় দিলে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। কামড়ের স্থান ফুলে যাওয়া এবং রক্তক্ষরণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা দেখা দেয়।সাধারণত আক্রমণাত্মক নয় এবং ঝোপঝাড় বা গাছের ডালে ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকে। মানুষ খুব কাছে চলে গেলে বা বিরক্ত বোধ করলে এটি আত্মরক্ষার্থে কামড় দেয়।

(Feed Source: zeenews.com)