)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চেরনোবিল (Chernobyl)! মানবসভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াল ঘটনা (World’s Worst Civilian Nuclear Disaster)। সময়টা এই এপ্রিল। ২৬ এপ্রিল। ১৯৮৬ সাল। তখন সেটা সোভিয়েত ইউনিয়ন। এহেন সোভিয়েতের চেরনোবিলে ঘটে সেই ভয়ংকর ঘটনা। চেরনোবিলের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরের পর বিস্ফোরণ হতে থাকে, শেষে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ডেকে আনে মহা বিপর্যয়। ৪০ বছর পরে আজও এ ঘটনা (40 years of explosion of Chornobyl) শিউরে তোলে মানুষকে।
একের পর এক বিস্ফোরণ
চেরনোবিলে ভি আই লেনিন নামের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চতুর্থ চুল্লিতে সেদিন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজই চলছিল। প্রিপিয়াত নদীর তীরে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অবস্থিত। প্রতিটি চুল্লি ১০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদনে সক্ষম ছিল। একদল ইঞ্জিনিয়ার চুল্লিটিতে একটি পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করেন। তবে তা করতে গিয়ে নানা ভুল পদক্ষেপ করেন তাঁরা। ঘটনায় পারমাণবিক কেন্দ্রটির ভেতরে হঠাৎ বিদ্যুৎপ্রবাহ বেড়ে চুল্লিটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারপর এরপর একের পর এক বিস্ফোরণ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক চুল্লির মূল অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

সুইডেন পর্যন্ত
বাতাসের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তা ইতিমধ্যে সুইডেন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেখানকার একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীরা তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি টের পেয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এর ব্যাখ্যা চায়। কিন্তু দুর্ঘটনার কথা গোপন রাখতে চাওয়ার পরিকল্পনা করা সোভিয়েত প্রথমে তা অস্বীকার করে। কিন্তু অবশেষে ২৮ এপ্রিল তারা এই দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করে।
১৯০ মেট্রিক টন ইউরেনিয়াম
চেরনোবিলের চুল্লির মোট ১৯০ মেট্রিক টন ইউরেনিয়ামের প্রায় ৩০ শতাংশ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। সোভিয়েত ইউনিয়ন সেখান থেকে ৩ লাখ ৩৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়। চুল্লির চারপাশে প্রায় ১৯ মাইল ব্যাসার্ধ এলাকাকে এক্সক্লুশন জোন বা প্রবেশ নিষেধ ঘোষণা করে।
হাজার হাজার মৃত্যু
দুর্ঘটনার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ২৮ জন প্রাণ হারান এবং ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। বিকিরণের সংস্পর্শে আসায় ছয় হাজারেরও বেশি শিশু-কিশোর থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। গবেষকেরা তখনই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, উচ্চমাত্রার এই বিকিরণের সংস্পর্শে আসা প্রায় চার হাজার মানুষ এবং অপেক্ষাকৃত কম মাত্রায় আক্রান্ত আরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ ভবিষ্যতে বিকিরণ-সংশ্লিষ্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।
ভয়ংকর জঙ্গলে নেকড়ে
চেরনোবিল বিপর্যয়ের পরপরই প্রায় ৪ বর্গমাইল এলাকা রেড ফরেস্ট বা লাল বন হিসেবে পরিচিতি পায়। কারণ, ওই অঞ্চলের অসংখ্য গাছ উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তার জেরে লালচে-বাদামি রং ধারণ করে এবং মরে যায়। বর্তমানে চেরনোবিলের প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকাটিতে একদিকে যেমন ভয়ংকর নীরবতা, অন্য দিকে তেমনই জীবনের আশ্চর্য উপস্থিতি! সেখানে অনেক গাছপালা আবার গজিয়ে উঠেছে এবং নেকড়ের সংখ্যা আশপাশের অভয়ারণ্যের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি!
(Feed Source: zeenews.com)
