
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আইপিএলের ৩৬ (IPL 2026) নম্বর ম্যাচে জয়পুরে রাজস্থান রয়্যালস (Rajasthan Royals) ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (Sunrisers Hyderabad) মুখোমুখি হয়েছিল। রাজস্থানের ৬ উইকেটে ২২৮ রান তাড়া করে হায়দরাবাদ ৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে ম্যাচ বার করে নেয়। বৈভব এই ম্যাচে ৩৭ বলে ১০৩ রান করে একাধিক রেকর্ড ভাঙচুর করেছে। তার ব্যাট-বিভৎসতায় ৫ চার ও ১২ ছয় জুড়েছিল। আর এই বেনজিরে বিশ্বে প্রথম হয়েছে বৈভব!
আইপিএলের তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি
সাকিব হোসেনের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেন বৈভব। আইপিএলের ইতিহাসে এটিই তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। লিগের ইতিহাসে দ্রুততম শতরানের রেকর্ডটি ক্রিস গেইলের দখলে। যিনি মাত্র ৩০ বলে ১০০ রান করেছিলেন। গতবছর গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে বৈভব নিজেই দ্বিতীয় দ্রুততম এবং কোনও ভারতীয়র করা দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি গড়েছিলেন। সেবার তিনি মাত্র ৩৫ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছেছিলেন।
টি-২০ ক্রিকেটে ১০০০ রান করা সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার
ঝুলিতে ২৫ টি-২০ ম্যাচের অভিজ্ঞতা ও ৯৫৫ রান নিয়ে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচে নেমেছিলেন বৈভব। ৪৫ রান করার সঙ্গে সঙ্গেই টি-২০ ক্রিকেটে তাঁর ১০০০ রান হয়ে যায়। ১৫ বছর ২৯ দিন বয়সে একহাজারি হয়েছে বৈভব। এর আগে এত কম বয়সে এই মাইলস্টোন তৈরির নজির কারোর নেই। ইতোমধ্যেই টি-২০ ম্যাচে অংশগ্রহণকারী সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় এবং এই ফরম্যাটে সেঞ্চুরি করা সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারের রেকর্ড বৈভবেরও।
সবচেয়ে কম বল খেলে দ্রুততম ১০০০ টি-টোয়েন্টি রান
বৈভব মাত্র ৪৭৩ ডেলিভারি খেলে ১০০০ টি-২০ রানের মাইলস্টোন ছুঁয়ছেন। তিনি মাইকেল ওয়েনকে (৫৩৩ বল) পিছনে ফেলে দিয়েছে। এই তালিকায় তার পরেই রয়েছেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস (৫৫৮)।
এই মরসুমের যৌথ-দ্রুততম আইপিএল অর্ধশতক
বৈভব এই ম্যাচে মাত্র ১৫ বলে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি করেন। যা এই মরসুমের যৌথ ভাবে দ্রুততম। এবার আইপিএলে ১৫ বলে চারটি হাফ-সেঞ্চুরি হয়েছে। যার মধ্যে তিনটিই করেছে সূর্যবংশী নিজে। বাকি একটি করেছেন অভিষেক শর্মা।
চারটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি হাঁকাতে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলার রেকর্ড
এটি ছিল বৈভবের ২৬ নম্বর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এর মধ্যেই সে এই মাইলস্টোন স্পর্শ করা দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই তালিকার পরবর্তী স্থানগুলিতে রয়েছেন উসমান খান (৩৩ ম্যাচ), বি সাই সুদর্শন (৭২ ম্যাচ), ক্রিস গেইল (৭৭ ম্যাচ) এবং মাইকেল ক্লিঞ্জার (৮৮ ম্যাচ)।
আইপিএলের এক ইনিংসে কোনও ভারতীয় হিসেবে সর্বাধিক ছয়
হায়দরাবাদের বিপক্ষে বৈভব ১২টি ছয় মেরেছে। আইপিএলের এক ইনিংসে কোনও ভারতীয় ক্রিকেটারের সর্বাধিক ছয় মারার রেকর্ড এটাই। বৈভবের আগের সেরা রেকর্ড (১১ ছয়) ছাড়িয়ে গেছে। এই রেকর্ড ২০১০ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে গড়েছিলেন মুরলী বিজয়। বৈভব নিজেই ২০২৫ সালে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে গুজরাত টাইটান্সের বিপক্ষে ১১টি ছক্কা হাঁকিয়ে মুরলীর সেই রেকর্ড ছুঁয়েছিল। এই তালিকায় এর পরে থাকবেন সঞ্জু স্যামসন। ২০১৮ সালে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ১০টি ছক্কা মেরেছিলেন।
৪০ বলের নীচে জোড়া আইপিএল সেঞ্চুরি করা প্রথম খেলোয়াড়
আইপিএলে ৪০ বলের নীচে দু’টি আইপিএল সেঞ্চুরি হয়ে গেলে বৈভবের! এই অনন্য কীর্তি এর আগে কোনও ক্রিকেটারেরই ছিল না। সব মিলিয়ে এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে মাত্র আটজন খেলোয়াড় ৪০ কিংবা তার কম ডেলিভারিতে সেঞ্চুরি করেছেন। জোড়া আইপিএল সেঞ্চুরি করা প্রথম আনক্যাপড ক্রিকেটার হল বৈভব। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বৈভবই বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৪০ বলের কমেও একাধিক সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়লেন। ২০১৩ সালে পুণে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ক্রিস গেইলের ৩০ বলে করা সেঞ্চুরি তালিকায় সবার উপরে থাকলেও, এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয়, উভয় স্থানই এখন বৈভবের।
রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে একাধিক সেঞ্চুরি হাঁকানো ষষ্ঠ খেলোয়াড় বৈভব
রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে একাধিক সেঞ্চুরি হাঁকানো মাত্র ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখাল বৈভব। সাত সেঞ্চুরিতে তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন জস বাটলার। অন্যদিকে বৈভব, যশস্বী জয়সওয়াল, অজিঙ্কা রাহানে, শেন ওয়াটসন এবং সঞ্জু স্যামসনের ঝুলিতে রয়েছে দুটি করে সেঞ্চুরি।
(Feed Source: zeenews.com)
