জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi)। সিদ্ধান্ত আগেই হয়ে গিয়েছিল। সোমবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে দিল বিদেশ মন্ত্রক। কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার (Pranay Verma) স্থলাভিষিক্ত হয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনার নিযুক্ত হয়েছেন দীনেশ। এতদিন ভার্মাই ছিলেন বাংলাদেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। এবার বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে নয়াদিল্লির পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হলেন তিনি। বিদেশ মন্ত্রকের খবর দ্রুতই দায়িত্ব বুঝে নেবেন দীনেশ। এই পদক্ষেপ এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেওয়া হল, যখন দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের প্রচেষ্টায়, যা মহম্মদ ইউনূসের (Muhammad Yunus) নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে তীব্র চাপের মুখে পড়েছিল।
ত্রিবেদীর বায়োডেটা: ত্রিবেদীর বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন তিন দশকব্যাপী বিস্তৃত। বাংলার মাটিতে তাঁর শিকড় অত্যন্ত গভীর। সীমান্ত-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও তাঁর রীতিমতো দখল রয়েছে, যা গঙ্গা-পদ্মার সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতের প্রচেষ্টায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ত্রিবেদী দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ত্রিবেদী বাংলায় তো ঝরঝরে কথা বলেনই, তার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি ভাষায় তিনি সাবলীল। মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের ত্রিবেদী তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১২ সালের রেল বাজেটে যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব পেশ করার জেরে এক আলোচিত পদত্যাগের ঘটনার আগে পর্যন্ত তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন ছিলেন। তিনি লোকসভা (ব্যারাকপুর কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে, ২০০৯-২০১৯) এবং রাজ্যসভা (১৯৯০-৯৬, ২০০২-০৮, ২০২০-২১)—উভয় কক্ষেই সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের মার্চে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি তাঁর রাজ্যসভার আসন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। ত্রিবেদী আমেরিকার অস্টিনে অবস্থিত টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। এছাড়া তিনি একজন প্রশিক্ষিত পাইলট এবং অতীতে তাঁর নিজস্ব একটি বিমান পণ্য পরিবহন সংস্থাও পরিচালনা করেছেন
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এক জটিল সময়ে ত্রিবেদী রাষ্ট্রদূত হলেন। যে সময়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদায় ঘটেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অধীনে একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরে এসেছিলেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল বাণিজ্য, জ্বালানি এবং দেশবাসীর মধ্যে আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা।
(Feed Source: zeenews.com)
