
জি ২৪ পরগনা ডিজিটাল ব্যুরো: মারাত্মক কথা বলে দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করি। মঙ্গলবার গড়করি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দীর্ঘমেয়াদে পেট্রোল এবং ডিজেল চালিত যানবাহনের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। অটোমোবাইল শিল্পকে পরিবেশবান্ধব এবং বিকল্প জ্বালানির দিকে মন দিতে আহ্বান জানিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নীতিন গড়করি বলেন, পেট্রোল-ডিজেল আমদানি করতে যেমন প্রচুর টাকা খরচ হয়, তেমনি এগুলো পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। গাড়ি নির্মাতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা বিদ্যুৎ (Electric), সিএনজি (CNG), এলএনজি (LNG) এবং জৈব জ্বালানির (Biofuels) মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে নজর দেন।
মন্ত্রীর মতে, জ্বালানির এই পরিবর্তন দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও সস্তা করে তুলবে। সোজা কথায়, সরকার চাইছে এখন থেকে সবাই যেন ধোঁয়াহীন এবং সস্তা বিকল্প জ্বালানির দিকে এগিয়ে যায়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, সরকার ইতিমধ্যেই হাইড্রোজেন-চালিত যানবাহন নিয়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করেছে। টাটা মোটরস, ভলভো, অশোক লেল্যান্ড এবং মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার মতো বড় বড় ভারতীয় কোম্পানিগুলো এই হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহারের পরীক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।
নীতিন গড়করি জানান যে বর্তমানে ১০টি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোজেনে চলিত ট্রাক ও বাস চালানো হচ্ছে। এটিই হল ভবিষ্যতের জ্বালানি। পাশাপাশি তিনি ইথানলকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন। ভারত নিজেই বিভিন্ন উৎস থেকে তা তৈরি করতে সক্ষম। তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে যানবাহনগুলো ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলে (E20) চললেও, অটোমোবাইল শিল্প এখন এমন ইঞ্জিন (Flex-fuel engine) তৈরির কাজ করছে যা সম্পূর্ণ বিকল্প জ্বালানিতে চলতে পারবে।
বিকল্প জ্বালানির পাশাপাশি নীতিন গড়করি গণপরিবহনের নিরাপত্তার বিষয়টিতেও জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, বাসের নিরাপত্তা আরও বাড়াতে এখন থেকে বাস নির্মাতাদের ‘সেলফ-সার্টিফিকেশন’ বা নিজেদের দেওয়া শংসাপত্রের নিয়ম বন্ধ হচ্ছে। এর পরিবর্তে, এখন থেকে প্রতিটি বাসের রেজিস্ট্রেশনের সময় সেটির শারীরিক অবস্থা এবং ভিডিও পরীক্ষার রিপোর্ট বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি ‘বাহন’ (Vahan) পোর্টালে আপলোড করতে হবে। অর্থাৎ, কড়া পরীক্ষার মাধ্যমেই এখন থেকে বাস চলাচলের অনুমতি মিলবে।
নীতিন গড়করি সমস্ত বাস নির্মাতা ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে কেবল খরচ কমানোর দিকে না তাকিয়ে বাসের গুণমান, নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী ৩ বছরে কেবল বৈদ্যুতিক (Electric) বাসের চাহিদাই বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১.৫ লক্ষ ইউনিটে, যেখানে বর্তমানে দেশে বছরে মাত্র ৭০ হাজার বাস তৈরির সক্ষমতা রয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
