জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আইপিএলে (IPL) প্রথম ব্যাট করা দল ২০০+ রান করেও নিশ্চিন্তে ফিল্ডিং করার জন্য মাঠে নামতে পারে না। কারণ ২০০ রানও আর নিশ্চিত আমানত নয়। প্রতিপক্ষের ক্ষমতা রয়েছে দু’শোর বেশি রানও অনায়াসে টপকে জয়ধ্বজা ওড়ানোর। আর এই চার-ছক্কার একতরফা ক্রিকেট দেখে রীতিমতো বিরক্ত মুথাইয়া মুরলীথরন (Muttiah Muralitharan)। একসময়ে কিংবদন্তি স্পিনারের মায়াজালে হারিয়ে যেতেন বিশ্বের ব্যাটিং মহারথীরা। এখন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের স্পিন-বোলিং কোচ মুরলী। রানবন্যার আইপিএলকে এককথায় ছিছিক্কার করলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, আইপিএলে এখন ব্যবসা সবার আগে। ক্রিকেট অনেক পরে।
গত ২৯ এপ্রিল আইপিএলের ৪১ নম্বর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়েতে টস জিতে প্রথম ব্যাট করে মুম্বই তুলেছিল ৫ উইকেটে ২৪৩ রান (রায়ান রিকলটন ১২৩)। সেই রানও অভিষেক শর্মা (২৪ বলে ৪৫), ট্রাভিস হেড (৩০ বলে ৭৬) ও হেনরিখ ক্লাসেনের (৩০ বলে ৬৫) হায়দরাবাদ হেসে খেলে তাড়া করে জিতে যায়। তাও আবার ৮ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে। খেলার শেষেই মুরলী সাংবাদিক বৈঠকে বোমা পাঠান।
মুরলী বলেন, ‘আমরা হয়তো বল ঘোরাতে পারতাম, কিন্তু তাতে খুব একটা বড় প্রভাব ফেলতে পারতাম না। আমরা হয়তো বড়জোর এক’দুটো উইকেট পেতাম। আর প্রতিপক্ষ হয়তো অনায়াসেই ৪০ রান তুলে নিত! কারণ উইকেটের এতটাই ভালো যে, ২০০ রানের নীচে আটকে রাখতে হলে আপনার অন্তত তিন থেকে চারজন এমন বোলার প্রয়োজন। একজন বোলারের জন্য এখন আইপিএল খুবই কঠিন। কারণ আজকাল আমাদের দল তো বটেই, প্রতি দলেরই এমন ওপেনিং জুটি থাকে, যারা আউট হওয়া বা না-হওয়া নিয়ে বিন্দুমাত্র পরোয়া করে না। তারা শুধুই বোলারদের উপর চড়াও হতে জানে। আমরা যখন খেলতাম, তখন ছ’ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ৪০ থেকে ৫০ রান তুলতে পারাটাই ভালো স্কোর হিসেবে দেখা হত। অথচ এখন এর গড়ই দাঁড়িয়েছে ৭০ থেকে ৮০।’
মুরলী বুমরার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন। এসআরএইচের বিরুদ্ধে ৪ ওভারে ৫৪ রান হজম করেছেন তিনি। মুরলী বলছেন, ‘দেখুন বুমরার মতো বোলারও এক-দুটো ছয় হজম করছে। অভিষেক যে ভাবে মারছে, তা তো অবিশ্বাস্য! কিন্তু যখন নতুন আসা ছেলে সলিল অরোরা ছক্কা হাঁকায়, তখনও তা সত্যিই অবিশ্বাস্যই মনে হয়। বুমরার মতো মানের একজন বোলার বল করতে আসবে আর তাকে তরুণ ছেলে ছক্কা মারবে! এতো ভাবাই যায় না। কারণ বুমরাকে খেলার সময়ে সলিলের মতো কেউ ভাববে যে, সে কীভাবে টিকে থাকবে। ছয় মারার কথা মাথায় আসবে না!
মুরীল সাম্প্রতিক চেহারা তুলে ধরে বোলারদের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ‘এখন পরিস্থিতি একেবারে আলাদা। ব্যাটারদের মানসিকতাই হচ্ছে আমি কীভাবে ছক্কা হাঁকাব! আত্মবিশ্বাস এখন অনেক বেড়ে গিয়েছে তাদের। খেলোয়াড়রাই প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে, আধুনিক ক্রিকেটে খেলার সঠিক ধরন এটাই। আর তরুণ প্রজন্মের ক্রিকেটাররা ঠিক সেই পথটাই অনুসরণ করছে। তাই আমার বোলারদের আলাদা করে বলার কিছু নেই। তাদের শুধুই প্রচুর অনুশীলন করতে হবে এবং নিজেদের বোলিংয়ে যথাসম্ভব নিখুঁত হতে হবে। দিন যদি তার অনুকূলে থাকে, তাহলে হয়তো ভালো পারফর্ম করতে পারবে। কিন্তু ভালো বোলিং করার পরেও উইকেট এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে কখনও কখনও প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার হতেই হয়।’
মুরলী দর্শকদের আঙ্গিকে আইপিএলের ছবিটিও তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন, ‘আমার মনে হয় আমরা যদি ফেয়ার উইকেট বা নিরপেক্ষ পিচ তৈরি করি, তাহলে দর্শকরা অভিযোগ করবেন যে, খেলা একঘেয়ে হয়ে উঠেছে। কারণ টি-টোয়েন্টির ভক্তরা মূলত বিনোদনই খোঁজেন খেলায়। তাই তাঁরা চার-ছক্কার ফুলঝুরিই দেখতে চান। ঠিক এই কারণেই টুর্নামেন্টের কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড় ব্যাট করার সুযোগ পায়। বর্তমানে আইপিএল এক বিশাল বাণিজ্যিক ক্ষেত্র, স্পন্সর এবং আনুষাঙ্গিক সবকিছু মিলিয়ে। তাই নিরপেক্ষ পিচ রাখলে আপনারা স্পন্সরদের হারাবেন এবং মানুষের আগ্রহও হারিয়ে ফেলবেন।’ ভাবলে অবাক লাগে যে, মুরলী আজও টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক। তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা ৮০০, যা আজও একটি রেকর্ড। ওডিআই-তে রয়েছে ৩৫০ উইকেট। এমনকী টি-২০আই-তেও পেয়েছেন ডজন উইকেট।
(Feed Source: zeenews.com)
