
What should not Eat with Watermelon: তরমুজ গরমের সুপারফ্রুট। এতে প্রায় ৯৫ শতাংশ জল থাকায়, এটি গ্রীষ্মকালে শরীরকে জলশূন্য হওয়া থেকে রক্ষা করে, শরীর ঠান্ডা রাখে। তবে তরমুজের উপকারিতা এবং অসুবিধা উভয়ই রয়েছে, বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট খাবারের সঙ্গে খেলে।
সম্প্রতি মুম্বইয়ের একটি ঘটনা সাংঘাতিক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তদন্তে উঠে আসে, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই প্রথমে বিরিয়ানি খায়, তারপর তরমুজ খেয়েছিল। এরপরেই তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে এবং একে একে মারা যান। সংগৃহীত ছবি।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে যে ফল মানুষ ভালবাসে রোজ প্রায় রোজ খাচ্ছিল, সেই ফল খেতে ভয় পাচ্ছে। জলে ভরপুর তরমুজের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও তরমুজের বিক্রি তলানিতে ঠেকেছে, অনেক জায়গায় বিক্রি প্রায় বন্ধের মুখে।
তরমুজ গরমে শরীর সতেজ রাখে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং পেট পরিষ্কার করে, তাৎক্ষণিক এনার্জি দেয়। তবে, যে কোনও খাবারের আসল উপকারিতা তখনই পাওয়া যায় যখন তা সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক ভাবে খাওয়া হয়। তাই তরমুজ খাওয়ার সঠিক সময়, পদ্ধতি এবং সঠিক খাদ্য সংমিশ্রণের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
গরমে খাদ্যাভ্যাসের তালিকায় অবশ্যই বিশেষ নজর দেওয়া উচিৎ। কারণ উচ্চ তাপমাত্রা দ্রুত খাবার নষ্ট করে দিতে পারে। অনেকে তরমুজের অর্ধেক খেয়ে বাকি অর্ধেক ফ্রিজে রেখে দেয়। সেক্ষেত্রে দু’দিন তা রাখা যেতে পারে, কিন্তু, তারপরে ফলের আর্দ্রতায় ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। তাই, কাটা তরমুজ দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে ফেলে রাখবেন না।
কাটা তরমুযে সাধারণত সালমোনেলা বা ই. কোলাই-এর মতো ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে। সন্ধ্যায় বা রাতে তরমুজ খাওয়া এড়িয়ে চলুন। ভারী খাবারের ঠিক পরেই কখনও খাবেন না। সকালে বা দিনের বেলায় তরমুজ খাওয়ার চেষ্টা করুন।
উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবারের সঙ্গে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়। এতে পেট ফাঁপা, বদহজম এবং বায়ু ত্যাগের মতো হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তরমুজ সহজে হজম হয় কিন্তু প্রোটিন হজম হতে এবং ভাঙতে সময় লাগে। তাই মুরগির মাংস, মাছ, ডিম, পনির ইত্যাদির সঙ্গে বা খাওয়ার ঠিক পরেই তরমুজ খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
অনেকে তরমুজ খাওয়ার ঠিক পরেই প্রচুর পরিমাণে জল পান করেন, তা না করাই ভাল। জল পান করলে পেট ফাঁপতে পারে। তরমুজ নিজেই জল-সমৃদ্ধ ফল, তাই এতে আরও জল যোগ করলে আপনার পেট কেবল ফুলে উঠবে। এটি পাকস্থলীর পিএইচ স্তরের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দই বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারের সঙ্গে তরমুজ খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এই ফলের উচ্চ জলীয় উপাদান পাকস্থলীর অ্যাসিডকে পাতলা করে দেয়, ফলে দুগ্ধজাত খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে। দুগ্ধজাত খাবার হজমের জন্য পর্যাপ্ত অ্যাসিড প্রয়োজন,তা না পেলে পেটের নানা সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কমলালেবু, মিষ্টি লেবু, পাতিলেবু ইত্যাদির মতো টক ফলের সঙ্গে তরমুজ খাওয়া অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। এতে বদহজম হতে পারে। যাদের হজমশক্তি আগে থেকেই দুর্বল, তাদের তরমুজ খাওয়ার সময় এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
(Feed Source: news18.com)
