
জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দীর্ঘ অবসর ভেঙে আবারও কুস্তির ম্যাটে ফিরছেন ‘দঙ্গল’ কন্যা ভিনেশ ফোগাট (Vinesh Phogat)। এশিয়াডে যোগ্যতা অর্জনের জন্য টুর্নামেন্টেও নামবেন তিনি। আর তার আগেই বিস্ফোরক কমনওয়েলথের সোনাজয়ী হরিয়ানার মেয়ে। ভিনেশের প্রত্যাবর্তন আপাতত বহু বিতর্কের আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। উত্তর প্রদেশের গোন্ডায় অনুষ্ঠিত হতে চলা কুস্তি র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভিনেশ ফেসবুকে ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন। ভিনেশের তীর ফের সেই ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের (Brij Bhushan Sharan Singh) বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালে ভারতের কুস্তি ফেডারেশনের তৎকালীন বিতর্কিত সভাপতির নাম করে তিনি বোমা ফাটিয়েছেন। সাফ জানিয়েছেন যে, বিজেপি-র (BJP) প্রভাবশালী নেতার নোংরা লালসার শিকার হয়েছেন তিনি। ব্রিজভূষণ তাঁর যৌন হেনস্তা করেছেন। পাশাপাশি ভিনেশ বলেছেন যে, ব্রিজভূষণ পরোক্ষ ভাবে অন্যায্য প্রভাব খাটিয়ে স্বজনপোষণ করেছেন। সরকার এবং ক্রীড়ামন্ত্রক, উভয়েই এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে কার্যত এই অরাজক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভিনেশও ব্রিজভূষণ যৌন হেনস্তা করেছেন!
ভিনেশ বলছেন, ‘আমি কোনও বিশেষ সুবিধা বা বাড়তি সুযোগ চাই না। আমি শুধু এটুকুই চাই যে, ম্যাটে খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমের যথার্থ প্রতিফলন যেন প্রতিযোগিতায় থাকে। কোন রেফারি, কোন ম্যাচ পরিচালনা করবেন, কীভাবে পয়েন্ট দেবেন এবং কে ম্যাট চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন—এই সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক এবং বজরং পুনিয়ার মতো দেশের প্রথম সারির কুস্তিগিররা ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে একাধিক মহিলা কুস্তিগিরকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ তুলেছিলেন ২০২৩ সালে। দিল্লি পুলিস তখন ৫০০ পাতার চার্জশিটে অভিযোগগুলির সত্যতাও স্বীকার করেছিল এবং বলেছিল যে, ব্রিজভূষণ বারবার মহিলা কুস্তিগিরদের যৌন হেনস্তা করেছেন। আদালতও জানিয়েছিল যে, ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের যথেষ্ট প্রমাণও রয়েছে। যদিও নাবালক কুস্তিগিরের যৌন হেনস্থার অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণের অভাবে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ব্রিজভূষণ যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। মামলাটি বর্তমানে ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগকারী কুস্তিগিরদের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। ঠিক এই অবস্থায় ভিনেশের বয়ানে নড়ে গেল দেশের কুস্তির দুনিয়া। ভিনেশ-সাক্ষীরা বারবার বলে এসেছেন যে, ৫ মহিলা কুস্তিগির ব্রিজভূষণের নোংরা লালসার শিকার হয়েছেন। এই দেশে নিয়ম অনুযায়ী কোনও যৌন হেনস্তা বা ধর্ষণের নির্যাতিতার নাম এবং পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হয় না। একমাত্র নির্যাতিতা বা তাঁর পরিবার চাইলে তবেই পরিচয় প্রকাশিত হয়। ভিনেশ বলছেন, ‘সেই ছয়ের মেয়ের একজন আমি। যাকে ব্রিজভূষণ যৌন হেনস্থা করেছিল। আমরাই ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলাম।’ এখনও ঘটনার ট্রমা কাটেনি ভিনেশের। তিনি বলেন, ‘একজন নারী ক্রীড়াবিদের পক্ষে এমন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়া অত্যন্ত কঠিন। আমরা এমনিতেই আমাদের দল এবং দেশের পক্ষ থেকে আসা প্রত্যাশার চাপ নিয়ে চলেছি।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, এই মানসিক বোঝা তাঁর সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া কী বলছে!
রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় সিং এক সর্বভারতীয় মিডিয়াকে বলেছেন, ‘ভিনেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার। এ বিষয়টিও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সেখানে ১২০০ জন ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করছে এবং তাদের মধ্যে ১১৯৯ জনেরই কোনও অভিযোগ নেই। একমাত্র ভিনেশই আপত্তি জানিয়েছেন। ব্রিজভূষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনও রেফারিই ম্যাচগুলিতে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। সকল রেফারিই রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া থেকে আসবেন। সুতরাং ভিনেশের সন্দেহ ও সংশয় সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’ প্যারিস অলিম্পিক্সে বিতর্কের পর ভিনেশ কুস্তি থেকে সরে এসেছিলেন। যেখানে ফাইনালে ওঠার পরেও তাঁকে পদক প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। নির্ধারিত ওজন সীমার চেয়ে ১০০ গ্রাম বেশি ওজন থাকার কারণে স্বর্ণপদক লড়াইয়ের সকালে ভিনেশকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। অলিম্পিক কুস্তির ফাইনালে লড়তে চলা প্রথম ভারতীয় মহিলা হওয়ার জন্য ভিনেশ প্রস্তুতই ছিলেন, কিন্তু প্যারিসে টাইটেল ম্যাচের দিন তাঁর স্বপ্ন ভেঙে যায়। ভিনেশ অলিম্পিক্সের পর রাজনীতিতেও পা রাখেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কংগ্রেসের টিকিটে হরিয়ানার জুলানা থেকে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন। রাজনীতিবিদ হয়েও ভিনেশ জোর দিয়ে বলেছেন যে, কুস্তির প্রতি তাঁর অঙ্গীকার অপরিবর্তিত । অতীতে ৫০ কেজি ও ৫৩ কেজি বিভাগে অংশ নেওয়ার পর এবার ৫৭ কেজি বিভাগে লড়বে তিনি। ১৮ মাস পর কুস্তিতে ফেরা ভিনেশের ফোকাস এখন পুরোপুরি প্রত্যাবর্তনে।
(Feed Source: zeenews.com)
