Judge Death: স্ত্রীর অকথ্য অত্যাচার; রাতে কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে ফোন: আমি আর পারছি না, সকালেই আত্মঘাতী তরুণ জজ

Judge Death: স্ত্রীর অকথ্য অত্যাচার; রাতে কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে ফোন: আমি আর পারছি না, সকালেই আত্মঘাতী তরুণ জজ

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মাত্র ৩০ বছর বয়সে আত্মঘাতী বিচারক। বাড়িতেই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় দিল্লির বিচারক অমন কুমার শর্মাকে। অমনের শ্যালক শিবম শনিবার দুপুরে প্রথমে পুলিসকে খবর দেন। পুলিসের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যা। তবে পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ। অমনের পরিবার জানিয়েছে, তাদের ছেলে মানসিক হেনস্থার শিকার। তাই এটা আত্মহত্যা নয়, খুন।

অমনের পরিবারের দাবি, গত দুই মাস ধরে তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন এবং কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে লাগাতার হেনস্থার শিকার হচ্ছিলেন। অমনের বাবা প্রেম শর্মা জানান, শুক্রবার রাত ১০টা নাগাদ অমন তাঁকে ফোন করে কান্নাকাটি করেন। তিনি শেষবার বলেছিলেন, ‘আমি খুব সমস্যায় আছি, আমার পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত দুই মাস ধরে আমাকে হেনস্থা করা হচ্ছে।’ ছেলের ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি প্রেম শর্মা রাজস্থানের আলওয়ার থেকে দ্রুত দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং মধ্যরাতে সেখানে পৌঁছান।

অমনের আত্মীয়দের দাবি, মৃত্যুর ঠিক আগে অমনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল। পরিবারের আরও দাবি, অমনের স্ত্রীর বিয়ের পর থেকেই নিজের পরিবারের ক্ষমতা দেখিয়ে তাঁকে চাপে রাখতেন। এবং অমনের বাবাকে ছোট করতেন।অমনের স্ত্রীও একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং তাঁর শ্যালিকা জম্মুতে কর্মরত একজন আইএএস (IAS) অফিসার। আত্মীয়দের অভিযোগ, ঝগড়ার সময় অমন কাঁদছিলেন এবং তাঁর উপর স্ত্রী চিৎকার করছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই সব শান্ত হয়ে যায়।

পরে অমনকে খুঁজে না পেয়ে তাঁর ফোনে কল করা হলে বাথরুমের ভেতর থেকে রিংটোন শোনা যায়। বাথরুম ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সাহায্য পেছনের জানলার কাঁচ ভেঙে দেখা যায় যে, অমন ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছেন। তাঁকে দ্রুত সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

অমন কুমার শর্মা পুনের সিম্বায়োসিস ল স্কুল থেকে আইন পাস করেন এবং ২০২১ সালে দিল্লি জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে তিনি কড়কড়ডুমা আদালতে ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটির (DLSA) পূর্ণকালীন সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিস বর্তমানে পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান রেকর্ড করছে। কোনও প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জারি রয়েছে।

রবিবার আলওয়ারে অমনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানে দিল্লি, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের অনেক উচ্চপদস্থ বিচারক উপস্থিত থাকলেও আমানের স্ত্রী বা শ্বশুরবাড়ির কোনও সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। অমনের দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী আগেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে হায়দরাবাদের এক ৩৬ বছরের সফট ইঞ্জিনিয়ার আত্মহত্যা করেন। জানা যায়, ১৯ পাতার সুইসাইড নোটে লিখে যান বিস্ফোরক অভিযোগ। মৃত যুবকের নাম সীতারাম। তিনি ওই চিঠিতে দাবি করেন যে, তাঁর স্ত্রী রেণুকা গত দেড় বছর ধরে অন্তত তিনজন পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। সীতারামের অভিযোগ, তিনি যখন কাজে বাইরে থাকতেন, তখন ওই ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নিয়মিত তাঁদের বাড়িতে আসতেন। ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সীতারাম দাবি করেন যে, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়েছিল।

পরবর্তীকালে রামানা নামক এক ব্যক্তি সেই ভিডিয়োগুলি ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে দেয়। সীতারাম লিখেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিয়োগুলি দেখার পরেই তিনি স্ত্রীর এই সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। নিজের স্ত্রীর এমন ব্যক্তিগত ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে দেখে তিনি চরম মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সুইসাইড নোটে সীতারাম তাঁর গভীর কষ্টের কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে অত্যন্ত যত্ন করতেন এবং তাঁর সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করতেন। কিন্তু বিনিময়ে যে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা তিনি পেয়েছেন, তা তাঁর সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছিল। এই চরম অবমাননা ও মানসিক আঘাত থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে নোটে উল্লেখ করেছেন।

আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ… 

iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১

কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭

২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন– কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)

(Feed Source: zeenews.com)