
২০২৬-এ ফিরে আসছে ‘সুপার এল নিনো’
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে একটি শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপের উন্নত আবহাওয়া মডেল এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করেছে—এটি হতে পারে গত ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো, যাকে অনেকে “মেগা এল নিনো” বলছেন।
এল নিনো কী এবং কীভাবে কাজ করে
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি জলবায়ুগত ঘটনা, যেখানে সমুদ্রের পূর্ব ও মধ্য অংশে জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে। সাধারণত, বাণিজ্যিক বায়ু (trade winds) বাণিজ্য বায়ু হলো নিরক্ষীয় অঞ্চলের স্থায়ী পূর্ব-পশ্চিমমুখী বায়ুপ্রবাহ যা প্রবাহিত হয় উত্তর বা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে, এবং আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ আমেরিকার দিকে। কিন্তু যখন এই বায়ু প্রশান্ত মহাসাগরের তৈরি হওয়া এই প্রাকৃতির ঘটনার ফলে দুর্বল হয়ে যায়, তখন ঠান্ডা জল উপরে উঠতে পারে না এবং তার প্রভাবে পুরো অঞ্চল গরম হয়ে যায়। এই পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার স্বাভাবিক অবস্থা ব্যাহত হয়—কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও খরা, কোথাও তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়।
ভারতের জন্য কী কী বিপদ
বর্ষায় ঘাটতি
ভারতে বর্ষার উপর কৃষি ও অর্থনীতি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ২০২৬ সালে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা কম বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে এই সুপার এল নিনোর প্রভাবে। এর ফলে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যার পরিণাম হতে পারে মারাত্মক।
কৃষিতে মারাত্মক প্রভাব
ভারতের প্রায় ৫১% কৃষিকাজ বর্ষার উপর নির্ভরশীল। বৃষ্টির অভাবে ফসল উৎপাদন কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্য সরবরাহে।
ভয়াবহ তাপপ্রবাহ
২০২৬ সালে তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে। পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপপ্রবাহ ঘটবে। লু বইতে পারে মাসের পর মাস। যার নমুনা এখনই দিল্লি ও পশ্চিম ভারতে টের পাওয়া যাচ্ছে। চিন্তার বিষয় হয়, শুধু দিনের তাপমাত্রা নয়স, রাতের তাপমাত্রাও বাড়বে, যা শরীরকে ঠান্ডা হতে দেবে না।
খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি
ফসল কম উৎপাদন হলে খাদ্যের দাম বাড়বে। সাধারণত এল নিনোর বছরগুলোতে খাদ্যদ্রব্যের দাম প্রায় ৫% বাড়ে, কিন্তু সুপার এল নিনো হলে তা আরও চড়া হারে বাড়তে পারে।
এর থেকে বাঁচার উপায় কী
শহরে সবুজ কমে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত আর কংক্রিটের জঙ্গলের বিস্তার ঘটছে। গবেষণা বলছে, গাছ থাকলে স্থানীয় তাপমাত্রা ১২°C পর্যন্ত কমানো সম্ভব। নতুন গাছ লাগানো গুরুত্বপূর্ণ হলেও পুরনো গাছ সংরক্ষণ আরও জরুরি। দুপুর ১২টা থেকে ৪টার মধ্যে বাইরে না বেরোনো, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং ORS ব্যবহার করা জরুরি। বন সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়াই এই ভয়ঙ্কর অবস্থা থেকে বাঁচার উপায়।
(Feed Source: abplive.com)
