জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নবান্নে পালাবদলের ঢেউ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল টলিউডের অন্দরে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইম্পা)-র রাশ নিজেদের হাতে নেওয়ার ঘোষণা করল বিজেপি সমর্থিত সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে ইম্পা হাউসে কার্যত নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও বিক্ষোভের সাক্ষী থাকলেন টলিপাড়ার প্রযোজক ও কর্মীরা।
মঙ্গলবার সকালেই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল যখন রতন সাহা, মিলন ভৌমিক, শতদীপ সাহাদের মতো প্রভাবশালী সদস্যরা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জরুরি বৈঠকের জন্য চিঠি পাঠান। বিকেল গড়াতেই সেই ক্ষোভ দাবানলের রূপ নেয়। ইম্পা অফিসে গেরুয়া আবির খেলে জয়ের উল্লাস করার পাশাপাশি গঙ্গার জল ছিটিয়ে অফিস ‘শুদ্ধিকরণ’ করেন বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। তাঁদের সাফ কথা, “ইম্পা থেকে তৃণমূলের ছায়া সরাতে হবে।”
বিক্ষুব্ধ সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে ইম্পাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন পিয়া সেনগুপ্ত। রতন সাহা ও শতদীপ সাহারা সরব হয়ে বলেন, “আমরা অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের দাপট টলিউড থেকে মুছে ফেলতে চাই। দিনের পর দিন আমাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। শুটিংয়ে জোর করে অতিরিক্ত টেকনিশিয়ান নিতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা এই ‘ব্যান কালচার’ বা নিষিদ্ধ করার রাজনীতির অবসান চাই।”
কেবল রাজনৈতিক নয়, পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে পেশাগত অনিয়মের অভিযোগও এনেছেন বিক্ষুব্ধরা। তাঁদের দাবি, ছবিতে এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার হিসেবে নাম রাখার জন্য পিয়া ৩ লক্ষ টাকা দাবি করতেন। এমনকি তাঁর ছেলে বনি সেনগুপ্তকে ছবিতে নেওয়ার জন্য প্রযোজকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো বলে অভিযোগ। এই শর্ত না মানলে প্রেক্ষাগৃহ বা হল পেতে সমস্যা হতো বলেও দাবি তুলেছেন মিলন ভৌমিকরা।
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি এমন কোনো অভিযোগ থাকে, তবে প্রমাণ দেখানো হোক। ইম্পা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, একটি স্বশাসিত সংস্থা। নিয়ম অনুযায়ী মিটিং ডাকতে গেলে ১৪ দিন সময় লাগে।” স্বরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ফেডারেশন সভাপতি হিসেবে তিনি আসতেই পারেন। একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বাবুল সুপ্রিয় যখন বিজেপির মন্ত্রী ছিলেন, তখনও তিনি ইম্পার সদস্য ছিলেন। পিয়ার কথায়, “আমরা সবসময় ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলি। কাজের প্রয়োজনে আগামী দিনেও আমরা বিজেপির সঙ্গে সহযোগিতা করব।”
এরপরেই ইমপা-র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে বৌবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন সংগঠনের কিছু প্রযোজক। প্রযোজক পরিচালক মিলন ভৌমিক জানিয়েছেন, তাঁরা সংগঠনের সভাপতিকে বিশ্বাস করেন না। তাই অফিস সিল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে লিখিত অভিযোগে। পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ইমপাও। পিয়া বলেন, ‘‘এটা গণতান্ত্রিক দেশ। সবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আছে। কথা বলার স্বাধীনতাও রয়েছে। তাই যাঁরা এই পদক্ষেপ করছেন, তাঁরা করতেই পারেন।’’
২০২৭ সাল পর্যন্ত বর্তমান কমিটির মেয়াদ থাকলেও, রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই ঝড়ে পিয়া সেনগুপ্ত তাঁর তখত বাঁচাতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার। টলিউডের এই ‘ঘর লড়াই’ যে আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
(Feed Source: zeenews.com)
