
কলকাতা : ‘এ যেন ভোট সুনামি! এ যেন হড়পা বান! বিজেপির পক্ষে পশ্চিমবঙ্গবাসীর বিপুল জনমত!’ ‘ইস বার দোশো পার!’ ‘বিজেপির জয়ে চাপা পড়ে গেল তৃণমূল, ওঠার ক্ষমতাটুকু নেই!’ ‘চোর চোর চোরটা, অভিষেকের পিসিটা।’ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর নিজের বিধানসভার গণনাকেন্দ্রে গিয়ে এই সব স্লোগান শুনতে হল মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে। ২০১১ সালে মানুষের অদ্ভুত এক উচ্ছ্বাস-আবেগে ভেসে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। আর ২০২৬ সালে এভাবে চলে যেতে হল সেই তাঁকে! কিন্তু তাও হার মানছেন না তিনি। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে, জোর করে ভোট লুট করার অভিযোগ করেন তিনি। তাই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না বলেও জানান তৃণমূল সুপ্রিমো। আর এর পর শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।
দলের লজ্জাজনক হারের পরও কেন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাইছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়? যা সম্ভব নয়, তা জেনেও কেন পদত্য়াগ করতে চাইছেন না তিনি? যদি সত্যিই পদত্য়াগ না করেন তবে কী হতে পারে? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে। এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত। তিনি জানান, ”একটি বিধানসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ হচ্ছে ৫ বছর। নির্বাচন কমিশন এর মধ্যে নির্বাচনটা করে নেয় এবং যেই নতুন নির্বাচিত সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হল, অর্থাৎ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়ে গেল, তখন কিন্তু এই পুরোনো সদস্য যারা ছিলেন, তাঁরা বিদায়ী হয়ে গেলেন। তাদের আর কোনও রকম ভূমিকা থাকলো না। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন রাজ্যপালের কাছে যাবেন, তালিকা দেবেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ যে দল সেই দলের নেতা ও সদস্যের সাক্ষর নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের দাবি জানাবেন।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়া নিয়ে বিচারপতি আরও জানান, ”দেশের ইতিহাস বলছে, এই ক্ষেত্রে এই কয়েকটা দিনের জন্য বিদায়ী মন্ত্রীসভার মেয়াদ তো ফুরিয়ে গেছে ফলাফল ঘোষণার পর। তাই প্রথা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং রাজ্যপাল তাঁকে পুনর্নিয়োগ করেন। এই পুনর্নিয়োগ হয় কয়েকটা দিনের জন্য সরকার চালিয়ে নেয়ার জন্য। এক্ষেত্রে যদি কোনও পদত্যাগ পত্র না আসে, তবে রাজ্যপালের কাছেও আর একটি পথ খোলা থাকে। কারণ, সংবিধানের ১৬৪ নম্বর ধারা বলছে, রাজ্যপাল বিদায়ী মন্ত্রীসভাকে ভেঙে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে পুনর্নিয়োগ করা কয়েকদিনের জন্য অথবা দায়িত্বটা নিজের কাঁধে নিয়ে, নবনির্বাচিত সরকারের হাতে কিছুদিন পর সেটা তুলে দেওয়া।”
উল্লেখ্য, মমতা বলেন ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি’। তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, ‘ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে? জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।’
(Feed Source: abplive.com)
