জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উড়তে উড়তে আচমকাই মাঝ আকাশে ভ্যানিশ হয়ে গেল একটি ১৪৬০০০ কেজি ওজনের বোয়িং বিমান! ঠিক এমনই চমকে দেওয়া খবর চলে এল। আর রহস্যময় ঘটনার শিকার আমেরিকার বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার (KC-135 Stratotanker)। যা মার্কিনি যুদ্ধবিমানগুলির জন্য আকাশে ‘উড়ন্ত গ্যাস স্টেশন’ হিসেবে কাজ করে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের অদূরে পারস্য উপসাগরের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল এই স্ট্র্যাটোট্যাংকার। বিমান থেকে ৭৭০০ জরুরি সংকেত (7700 distress signal) পাঠানোও হয়েছিল। ওড়ার সময়ে ইমারজেন্সির ঘোষণার তথ্য দিয়েছে ফ্লাইটরাডার২৪ (Flightradar24)। আরব আমিরশাহীর আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি থেকে ওড়ার পর কাতারের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় এই বিমানের সিগন্যাল হারিয়ে যায়। জানা যাচ্ছে চলতি সামরিক অভিযানেই ওই বিমানটি ওই অঞ্চলে কার্যরত ছিল।
কী রিপোর্ট আসছে এখন?
স্ট্র্যাটোট্যাংকারটির গতিপথ পর্যবেক্ষণের তথ্য বা ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা দেথে বোঝা যাচ্ছে যে, অবতরণ করার আগে বিমানটি কিছুক্ষণ আকাশে বৃত্তাকার পথে উড়েছিল। এই জরুরি পরিস্থিতির সঠিক কারণ এখনও অস্পষ্ট। তাছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে কোনও ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তাও পাওয়া যায়নি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বিমানটির নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে এক্সে। যদিও আমেরিকা এই বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি। গত মার্চে পশ্চিম ইরাকে ইরানিয়ান হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের একটি কেসি-১৩৫ মডেলের বিমান হারিয়েছিল। পরে ইরানের মদদপুষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত জোট—’ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল। ওই গোষ্ঠীর দাবি ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা রক্ষার স্বার্থেই বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করেছিল তারা।
কী এই কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার?
কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার একটি সামরিক বিমান। যা এর পিছনের দিকে বাঁকানো ডানার নীচে থাকা চারটি টার্বোফ্যান ইঞ্জিনের সাহায্যে চলে এবং মূলত আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। বিমানটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ঠিক উপরে একটি কার্গো ডেকে রয়েছে, যার ফলে এটি যাত্রী এবং সরঞ্জাম, উভয়ই বহন করতে সক্ষম। এছাড়া এটি মাঝ-আকাশে অন্য বিমানে জ্বালানি স্থানান্তরের কাজেও ব্যবহৃত হয়। গত ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বিমানটি মার্কিন বায়ুসেনার বিভিন্ন অভিযানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বিমানটি যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান এবং অন্যান্য সামরিক বিমানকে দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে অবস্থান করতে এবং অধিক দূরত্ব অতিক্রম করতে সাহায্য করে।
আর কোন কোন কাজে লাগে?
আকাশপথে বিমানে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি, যাত্রী ও পণ্য পরিবহণও করে। এছাড়া এটি আকাশপথে চিকিৎসা-সংক্রান্ত জরুরি স্থানান্তর অভিযানে দারুণ কাজে আসে। এক বিশেষ মেডিক্যাল প্যালেট ব্যবহার করে আহত বা অসুস্থ রোগীদের বহন করতে পারে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত জরুরি স্থানান্তর ফ্লাইটের সময়, বিমানের ক্রু-দলের সাথে ফ্লাইট নার্স ও টেকনিশিয়ানদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিক্যাল টিম যুক্ত করা যেতে পারে। বিমানের অভ্যন্তরীণ বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করেই এটি প্রায় ৩৭,৬০০ কেজি পণ্য কিংবা কয়েক ডজন যাত্রী পরিবহন করতে পারে। এছাড়াও এটি মার্কিন নৌবাহিনী, মেরিন কর্পস এবং মিত্র দেশগুলির বিমানসমূহকেও সহায়তা দিয়ে থাকে। কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বোয়িং ৩৬৭-৮০ নকশার উপর ভিত্তি করেই তৈরি। যে নকশা থেকেই পরবর্তীতে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান বোয়িং ৭০৭-এর জন্ম। বর্তমানেও মার্কিন বিমান বাহিনী, এয়ার ন্যাশনাল গার্ড এবং এয়ার ফোর্স রিজার্ভ-এর বহরে শত শত কেসি ১৩৫ বিমান সক্রিয় ভাবে সার্ভিসে আছে।
(Feed Source: zeenews.com)
