
আপনার মুখের একটি শব্দ একদিকে যেমন সম্পর্ক তৈরি করে, তেমন এক নিমেষে ভেঙে ফেলতে পারে। কথায় বলে, কী বললেন তার চেয়েও জরুরি বলার ভঙ্গি ও ধরন। সেখানেই ডিজিটাল কথোপকথনের ব্যর্থতা।
সমাজতত্ত্ববিদ ডক্টর অমিতাভ রেজা চৌধুরী বলেন মুখোমুখি কথাবার্তায় ব্যক্তির অভিব্যক্তি, তার নিজস্ব অঙ্গভঙ্গি থেকে তাঁর পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। তিনি কথা বলতে বিরক্ত বোধ করছে না রেগে আছেন, তার স্পষ্ট আন্দাজ পাওয়া যায়। ব্যক্তির কণ্ঠস্বর, চাহনি তাঁর অভিপ্রায় বুঝিয়ে দেয়। তবে বর্তমান সময়ে ডিজিটাল কথোপকথনে সে সুযোগের অভাবে বোঝাপড়া অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে, যা ভুল বোঝাবুঝি বাড়াচ্ছে। তৈরি হচ্ছে মিসকমিউনিকেশন।ছবি ও তথ্য: সৌভিক রায়
শব্দ এক ধরনের কল্পক্রম আর ব্যবহারে সে ব্রহ্মের মতন শক্তিশালী। আপনার মুখের একটি শব্দ একদিকে যেমন সম্পর্ক তৈরি করে, তেমন এক নিমেষে ভেঙে ফেলতে পারে। কথায় বলে, কী বললেন তার চেয়েও জরুরি বলার ভঙ্গি ও ধরন। সেখানেই ডিজিটাল কথোপকথনের ব্যর্থতা। বর্তমান সময় তথ্য প্রযুক্তির যুগ। কর্মব্যস্তময় জীবনে সামনাসামনি কথা বলার মতো অতটা সময় নেই। মানুষ এখন মেসেজে কথা বলতে বেশি স্বচ্ছন্দ। ফোনের একটি মেসেজ দ্রুত বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি অপেক্ষার প্রহর কমছে
তবে কমিউনিকেশন এবং মিস কমিউনিকেশন আসলে কী! ধরুন, অফিসের বসকে কোনও সমস্যার কথা জানালেন। উত্তর এল ‘ওকে’। এর পাশাপাশি ধরুন আপনার বন্ধুর সঙ্গে অথবা আপনার প্রিয়জনের সঙ্গে বহুদিনের ঝামেলা। সেই ঝগড়া মেটাতে অন্যজনকে অনেক কথা লিখলেন। উত্তরে সে একটা ইমোজি পাঠিয়ে দিল। এই সংক্ষিপ্ত উত্তরগুলোয় আসলে সহমত, বিরক্তি নাকি উদাসীনতা, তা বোঝা যায় না
সমাজতত্ত্ববিদ ডক্টর অমিতাভ রেজা চৌধুরী বলছেন, “মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ফুটে ওঠা শব্দবন্ধ কিংবা ইমোজি মানবিক আবেগ সম্পূর্ণ প্রকাশ করতে পারে না। ফলে অনেক কথাবার্তা বিপরীতে থাকা মানুষটি ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। মূলত এই অস্পষ্টতা থেকেই মিসকমিউনিকেশন তৈরি হয়।” বর্তমান সময়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাদা অভিধান, ব্যাকরণ রয়েছে। জেন-জি কথায় কথায় ‘গোট’, ‘লল’, ‘ক্যাপ’ এর মতো যে শব্দগুলি ব্যবহার করে, তার অর্থ না জানলে ভুল বোঝাবুঝি অনিবার্য। ঠিক এর পাশাপাশি ইমোজি এখন বার্তা বিনিময়ের সহজ মাধ্যম।ছবি ও তথ্য: সৌভিক রা
(Feed Source: news18.com)
