
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৬ সালে ইপিএস-৯৫ (Employees’ Pension Scheme) প্রকল্পের আওতায় ন্যূনতম পেনশন ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করার কথা ভাবছে সরকার, যা লক্ষ লক্ষ বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। ইপিএসের (EPS-95) এই বৃদ্ধি মূলত স্বল্প আয়ের পেনশনারদেরই সাহায্য করবে। যোগ্যতার বিষয়টি মূলত চাকরির মেয়াদ এবং ইপিএফও (EPFO) কন্ট্রিবিউশনের উপর নির্ভর করে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কথা মাথায় রাখলে, ৩০০০ টাকার এই ন্যূনতম পেনশন অবসরপ্রাপ্তদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হতে পারে।
এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম
বর্তমানে এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (EPS-95)-এর ন্যূনতম পেনশন মাসে ১,০০০ টাকা। অনেক বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য এই টাকাটা খাবার, ওষুধ, ঘরভাড়া এবং চিকিৎসার মতো দৈনন্দিন খরচ সামলাতে খুবই সামান্য। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে পেনশনাররা বছরের পর বছর ধরে এই টাকা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
৩০০০ টাকা পর্যন্ত
বর্তমানে সরকার ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখছে। ১৫০০, ২০০০, ২৫০০ এবং এমনকি ৩০০০ টাকা পর্যন্ত এই সীমা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এটি অনুমোদিত হলে লক্ষ লক্ষ পেনশনার উপকৃত হবেন।
১০ বছর চাকরি
ইপিএস-৯৫-এর অধীনে পেনশনের সুবিধা পেতে হলে একজন কর্মচারীকে কমপক্ষে ১০ বছর চাকরি করতে হবে এবং কর্মকালীন সময়ে ইপিএফও-র মাধ্যমে কন্ট্রিবিউট করতে হবে। মূলত ১৫০০০ টাকা পর্যন্ত বেতনের উপর ভিত্তি করে এই পেনশন গণনা করা হয়। যেসব কর্মীরা আগে বেশি হারে পেনশন কন্ট্রিবিউশন বেছে নিয়েছিলেন, তাঁরা হয়তো ইতিমধ্যেই ভালো অঙ্কের পেনশন পাচ্ছেন। তাই ন্যূনতম পেনশন বাড়লে তাঁরা খুব একটা লাভবান না-ও হতে পারেন।
২০ বছরের বেশি চাকরি
তবে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে সেই সব স্বল্প আয়ের কর্মীদের, যাঁরা বর্তমানে সামান্য মাসিক পেনশন পাচ্ছেন। ইপিএস পেনশনের হিসেব করা হয় এই সূত্রের মাধ্যমে: যেসব কর্মীরা ২০ বছরের বেশি চাকরি করেন, তাঁরা পেনশন গণনার সময় অতিরিক্ত ২ বছরের বোনাস পান। এর মানে হল বেতন এবং চাকরির মেয়াদ– উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। কম বছরের চাকরির তুলনায় দীর্ঘ সময় এবং উচ্চ বেতনে চাকরি করা ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবেই বেশি পেনশন পান।
১৫,০০০ টাকার ঊর্ধ্বসীমা
১৫,০০০ টাকার ঊর্ধ্বসীমায় চাকরির মেয়াদের সঙ্গে পেনশন বৃদ্ধি পায়। উদাহরণস্বরূপ, ১০ বছর চাকরি করা একজন কর্মচারী প্রতি মাসে প্রায় ২১৪৩ টাকা পেতে পারেন। যদি ওই একই ব্যক্তি ৩০ বছর কাজ করেন, তবে পেনশন বেড়ে ৬,৮০০ টাকার বেশি হতে পারে। এর অর্থ হল, যারা সর্বোচ্চ বেতন সীমার কাছাকাছি আয় করছেন তারা ইতিমধ্যেই ১,০০০ টাকার বেশি পেনশন পাচ্ছেন। তাই ২,৫০০ বা ৩,০০০ টাকার মতো বড় কোনো বৃদ্ধি হলেই কেবল তাঁরা লাভবান হবেন।
ন্যূনতম পেনশন বেড়ে
যদি ন্যূনতম পেনশন বেড়ে ১,৫০০ টাকা হয়, তবে ১০,০০০ টাকা আয় করা এবং ১০ বছর কাজ করা কর্মীরা উপকৃত হবেন, কারণ বর্তমানে তাঁদের পেনশন প্রায় ১,৪২৯ টাকা। ২,০০০ টাকার স্তরেও এই নিম্ন আয়ের মানুষরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। তবে ১১,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা আয় করা কর্মীরা যেহেতু বর্তমানেই ২,০০০ টাকার কাছাকাছি বা তার বেশি পেনশন পান, তাই তাঁদের ক্ষেত্রে সুবিধার সুযোগ সীমিত। সরকার যদি ন্যূনতম পেনশন বাড়িয়ে ২,৫০০ টাকা করে, তবে ১২ বছর কাজ করা এবং ১০,০০০ থেকে ১৪,০০০ টাকার মধ্যে বেতন পাওয়া কর্মীরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। তাঁদের বর্তমান পেনশন সাধারণত ২,৫০০ টাকার নিচেই থাকে, তাই সরাসরি লাভ পাবেন। তবে ১৫,০০০ টাকা বেতন পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না, কারণ তাঁদের পেনশন সাধারণত ইতিমধ্যেই এই সীমা পেরিয়ে যায়।
অন্যতম বড় পদক্ষেপ
৩,০০০ টাকার ন্যূনতম পেনশন ইপিএস পেনশনারদের জন্য সবচেয়ে উপকারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৪ বছর কাজ করা এবং ১০,০০০ থেকে ১৪,০০০ টাকার মধ্যে বেতন পাওয়া কর্মীরা এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। তাঁদের বর্তমান পেনশন সাধারণত ৩,০০০ টাকার নীচেই থাকে, তাই এই বৃদ্ধি সরাসরি তাঁদের মাসিক আয় বাড়িয়ে দেবে। অন্য দিকে, ১৫,০০০ টাকা বেতন পাওয়া কর্মীরা যেহেতু প্রায় এই স্তরেই আছেন, তাই তাঁদের উপর প্রভাব পড়বে সামান্য। এটি অনুমোদিত হলে তা হবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অবসরপ্রাপ্ত ইপিএফও সদস্যদের জন্য অন্যতম বড় পদক্ষেপ।
(Feed Source: zeenews.com)
