Akhilesh Yadav ends ties with I-PAC: PK-হীন আইপ্যাক কি তবে এবার শেষ? তৃণমূলের হাল দেখে এবার সব চুক্তি বাতিল করে দিলেন অখিলেশ

Akhilesh Yadav ends ties with I-PAC: PK-হীন আইপ্যাক কি তবে এবার শেষ? তৃণমূলের হাল দেখে এবার সব চুক্তি বাতিল করে দিলেন অখিলেশ

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের রাজনীতিতে বর্তমানে ‘ভোট কুশলী’ বা নির্বাচনী কৌশলী সংস্থাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে তৈরি হওয়া সংস্থা I-PAC (Indian Political Action Committee) গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু—একের পর এক রাজ্যে অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে। কিন্তু ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক বড় চমক দিলেন সমাজবাদী পার্টি (সপা) প্রধান অখিলেশ যাদব। সূত্রের খবর, তিনি আই-প্যাকের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এবং আগামী নির্বাচনে কোনো পেশাদার সংস্থার ওপর ভরসা না করে নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তিতেই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কেন এই বিচ্ছেদ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অখিলেশ যাদবের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কিছু গভীর কারণ রয়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তামিলনাড়ুতে এম.কে. স্ট্যালিন আই-প্যাকের সাহায্যে বড় জয় পেয়েছেন, কিন্তু উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা অনেকটা ভিন্ন।

সংগঠনের স্বকীয়তা বজায় রাখা: অখিলেশ মনে করছেন, অতিরিক্ত পেশাদারিত্ব এবং বাইরের সংস্থা দলের অন্দরের কর্মীদের মনস্তত্ত্ব সব সময় বুঝতে পারে না। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি কোনো বড় কর্পোরেট সংস্থার সাহায্য ছাড়াই উল্লেখযোগ্য ফল করেছে। এই সাফল্য তাঁকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে যে, দলের নিচুতলার কর্মীদের সক্রিয় করতে পারলে বাইরের কৌশলীর প্রয়োজন নেই।

অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ: অনেক সময় অভিযোগ ওঠে যে, আই-প্যাকের মতো সংস্থাগুলো টিকিট বন্টন বা প্রার্থী চয়ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে, যা দলের পুরনো এবং অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে। ২০২৭-এ অখিলেশ কোনোভাবেই দলের অন্দরে বিদ্রোহ বা ক্ষোভের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তৃণমূলের নবজোয়ার’ বা স্ট্যালিনের বিভিন্ন কর্মসূচি আই-প্যাকের মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল। কিন্তু অখিলেশ যাদব চাইছেন ‘পিডিএ’ (Pichda, Dalit, Alpsankhyak) ফরমুলাকে আরও শক্তিশালী করতে, তাঁর মতে একটি বিশুদ্ধ রাজনৈতিক কৌশল। তাঁর মতে, উত্তরপ্রদেশের মতো বিশাল রাজ্যে যেখানে জাতপাত এবং স্থানীয় সমীকরণ অত্যন্ত জটিল, সেখানে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা কোনো ফর্মুলা সব সময় কাজ নাও করতে পারে।

২০২৭-এর ব্লু-প্রিন্ট

অখিলেশ যাদব এখন অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কংগ্রেসের সাথে জোট এবং ইন্ডিয়া (INDIA) ব্লকের সংহতির ওপর। রাহুল গান্ধীর সাথে তাঁর সাম্প্রতিক রসায়ন ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সূত্রের খবর, পেশাদার সংস্থাকে কোটি কোটি টাকা দেওয়ার বদলে অখিলেশ সেই অর্থ দলের বুথ স্তরের কর্মীদের প্রশিক্ষণে ব্যয় করতে চান। তিনি চান সমাজবাদী পার্টির ক্যাডাররাই যেন একেকজন ‘ভোট কুশলী’ হিসেবে মাঠে নামেন।

আই-প্যাকের ভবিষ্যৎ 

অখিলেশ যাদবের এই প্রস্থান আই-প্যাকের জন্যও এক বড় ধাক্কা। উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে কাজ করতে না পারা মানে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাব কিছুটা হলেও স্তিমিত হওয়া।

অন্যদিকে, বিজেপি যখন আইটি সেল এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সের ওপর ব্যাপক জোর দিচ্ছে, তখন অখিলেশের এই ‘অর্গানিক’ বা প্রথাগত রাজনীতিতে ফেরার সিদ্ধান্ত কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, অখিলেশ যাদব এখন অনেক বেশি পরিণত। তিনি বুঝেছেন যে ২০২৪-এ তাঁর ‘সাইকেল’ যেভাবে গতি পেয়েছে, তাতে বাইরের ইঞ্জিনের প্রয়োজন নেই। তিনি এখন নিজে সরাসরি জনগণের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে চাইছেন, কোনো থার্ড পার্টি মিডিয়ার মাধ্যমে নয়।

অখিলেশ যাদবের এই পদক্ষেপ ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে পারে। যেখানে দলগুলো পেশাদার সংস্থার ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের আদর্শ ও সংগঠনের দিকে মনোনিবেশ করছে।

আই-প্যাকের সাথে বিচ্ছেদ– শুধু চুক্তি শেষ হওয়া নয়, বরং ২০২৭-এর লড়াইয়ে অখিলেশ নিজের মডেলে বিজেপিকে টেক্কা দিতে কতটা মরিয়া, এটি তারই প্রমাণ। উত্তরপ্রদেশের মানুষ এই ‘দেশি’ কৌশলকে কতটা গ্রহণ করেন, এখন সেটাই দেখার।

পেশাদারিত্বের চেয়ে সাংগঠনিক সংহতি বড়—এই মন্ত্রেই ২০২৭-এর লক্ষ্য স্থির করলেন সপা প্রধান অখিলেশ যাদব।

(Feed Source: zeenews.com)