
জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রমরমিয়ে চলছে উনিশতম আইপিএল (IPL 2026)। ৭৪ ম্যাচের মধ্যে ৪৯ ম্যাচই খেলা হয়ে গিয়েছে। অর্ধেকেরই বেশি। ২৬ মে থেকে শুরু হয়ে যাবে প্লেঅফ। আর ঠিক এমন সময় বেঙ্গালুরু থেকে আইপিএল ফাইনাল সরে গেল অমদাবাদে। বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠ এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে (M Chinnaswamy Stadium) ৩১ মে ফাইনাল হওয়ার কথা থাকলেও তা অমদাবাদে প্রধানমন্ত্রীর নামাঙ্কিত নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে হচ্ছে। আইপিএলে সাধারণত গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলের হোম গ্রাউন্ডেই ফাইনাল হওয়ার নিয়ম। তা মেনেই ফাইনাল পেয়েছিল বেঙ্গালুরু। কারণ গতবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru) শিরোপা জিতেছিল। তবে এবার নিয়ম বদলে গেল!
কী বলছে বিসিসিআই?
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল প্লে-অফের ভেন্যু সংক্রান্ত একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বোর্ড ব্যাখ্যা দিয়েছে যে, এবার আইপিএল ফাইনাল আয়োজনের জন্য বেঙ্গালুরুই নির্ধারিত ভেন্যু হিসেবে রাখা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে এমন কিছু শর্ত বা প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে, যা তাদের এক্তিয়ারের বাইরে। আর ঠিক এই কারণেই ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কিছু নির্দিষ্ট অপারেশনাল (পরিচালনাগত) ও লজিস্টিক (ব্যবস্থাপনাগত) কারণ বিবেচনার করে চলতি মরসুমের প্লে-অফ ম্যাচগুলি তিনটি ভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। মূলত বেঙ্গালুরুকেই ফাইনাল ম্যাচটি আয়োজনের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে স্থানীয় সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এমন কিছু শর্তাবলী উত্থাপিত করা হয়েছে, যা বিসিসিাইয়ের প্রতিষ্ঠিত নির্দেশিকা ও প্রোটোকলের আওতার বাইরে ছিল। আর ঠিক সেই কারণেই ভেন্যু স্থানান্তরিত ও পুনঃনির্ধারিত করা হয়েছে’।
আইপিএল প্লে-অফ সূচি
২৬ মে কোয়ালিফায়ার ওয়ান হবে ধরমশালার এইচপিসিএ স্টেডিয়ামে
২৭ মে এলিমিনেটর হবে নিউ চণ্ডীগড়ের মহারাজা যাদবীন্দ্র সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে
২৯ মে কোয়ালিফায়ার টু হবে চণ্ডীগড়ের মহারাজা যাদবীন্দ্র সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে
৩১ মে ফাইনাল হবে অমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে
প্লে অফে কোন দলের অ্যাডভান্টেজ?
আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, লিগ পর্বের শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল কোয়ালিফায়ার ওয়ানে একে অপরের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচের বিজয়ী দল সরাসরি ফাইনালে চলে যাবে। আর পরাজিত দলের কাছে সুযোগ থাকবে কোয়ালিফায়ার টু’তে খেলার। লিগ পর্বে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দল দু’টি এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচে পরাজিত দল আইপিএল থেকে ছিটকে যাবে এবং বিজয়ী দল কোয়ালিফায়ার টু খেলবে। এই সময়সূচি কোয়ালিফায়ার ওয়ানের বিজয়ী দলের জন্য স্পষ্ট সুবিধা তৈরি করে দেবে। তারা ম্যাচ-পরবর্তী ধকল সামলে ওঠার জন্য, ধরমশালা থেকে অমদাবাদে যাতায়াত করার জন্য এবং ফাইনালের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য পুরো চার দিন সময় পাবে। বাকি দলগুলোর জন্য এই পথ অনেক বেশি কঠিন ও সময়সঙ্কুল। কোয়ালিফায়ার ওয়ানের পরাজিত দলকে দ্রুত গুছিয়ে নিয়ে মাত্র তিন দিন পরেই কোয়ালিফায়ার টু খেলতে ফের মাঠে নামতে হবে। এলিমিনেটরের বিজয়ী দলের জন্য পরিস্থিতি হবে আরও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। দু’টি ম্যাচের মাঝে তারা বিরতি পাবে মাত্র দু’দিনের এবং এরপর ফাইনাল খেলার উদ্দেশ্যে অমদাবাদে যাওয়ার জন্য তাদের হাতে সময় থাকবে ৪৮ ঘণ্টারও কম। বেঙ্গালুরু থেকে ফাইনাল সরার পোস্টমর্টেমে উঠে আসছে একাধিক সাম্প্রতিক ঘটনার যোগফল।
কর্ণাটকের বিধায়কের ভিআইপি টিকিট বিতর্ক
মরসুমের শুরুর দিকে কংগ্রেস বিধায়ক বিজয়ানন্দ কাশাপ্পানাওয়ার দাবি করেন যে, আইপিএল ম্যাচগুলির জন্য নির্বাচিত সরকারি প্রতিনিধিদের একাধিক কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দেওয়া হোক। তাঁর যুক্তি ছিল বিধায়করা ভিআইপি। তাঁরা মাঠে আসা সাধারণ ভক্তদের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে কেন অপেক্ষা করবেন! বিষয়টি এতটাই গুরুতর হয়ে গিয়েছিল যে, শেষমেশ কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার হস্তক্ষেপ করেন। এরপর তিনি সমঝোতায় আসেন। জানান চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলির জন্য প্রতিটি বিধায়ক, বিধান পরিষদের সদস্য এবং সাংসদের জন্য় তিনটি করে কমপ্লিমেন্টারি টিকিট বরাদ্দ থাকবে। এরপরেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি.পরমেশ্বর স্পষ্ট করে দেন যে, এই টিকিটগুলি হস্তান্তরযোগ্য নয়। কেবল বিধায়করা নিজে কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যরাই এগুলি ব্যবহার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে টিকিটের অপব্যবহার সংক্রান্ত আশঙ্কাগুলি তিনি নস্যাৎ করে দেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচের ক্ষেত্রে, প্রতিটি বিধায়ক দু’টি করে টিকিট পাবেন এবং তাঁদের জন্য আরও দুটি অতিরিক্ত আসন কেনার সুযোগ থাকবে। এই টিকিটগুলিও সম্পূর্ণ ভাবে হস্তান্তরযোগ্য হবে না এবং কেবল বিধায়করা নিজে কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যরাই ব্যবহার করতে পারবেন। যা টিকিটের অপব্যবহারের আশঙ্কা দূর করতে সাহায্য করবে।
বেঙ্গালুরুতে টিকিটের কালোবাজারি
আইপিএল টিকিটের কালোবাজারির রুখতে এক বিরাট অভিযান চালিয়েছিল বেঙ্গালুরু পুলিস। তদন্তে নেমে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের এক ক্যান্টিন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং লখনউ সুপার জায়ান্টসের মধ্যে ম্যাচ চলাকালীন পুলিস তার কাছ থেকে প্রায় ১০০ টিকিট জব্দ করে। অভিযুক্ত চন্দ্রশেখর স্টেডিয়ামের ভিতরে অবস্থিত শ্রী লক্ষ্মী ক্যান্টিনে কাজ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি ১৫০০০ থেকে ১৯০০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে টিকিট বিক্রি করার সময়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিসকে জানায় যে, টিকিটগুলি তাঁকে দিয়েছিল কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য গণেশ পরীক্ষিত। তিনিই ক্যান্টিন কর্মীকে লাভ রেখেই টিকিটগুলি বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পরীক্ষিত বর্তমানে পলাতক এবং তাকে খুঁজে বের করতে পুলিস তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। এছাড়া টিকিটের এই অবৈধ বিক্রিতে সহায়তা করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় অপরাধ দমন শাখা বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টরদের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করেছে। এই গ্রেফতারের ঘটনা কর্ণাটকে আইপিএল টিকিটিং ব্যবস্থাকে আবারও সন্দেহের নজরে নিয়ে এসেছে। বিধায়কদের জন্য কমপ্লিমেন্টারি বা বিনামূল্যে টিকিট বরাদ্দ নিয়ে বিতর্কের জেরে স্বচ্ছতা এবং ভক্তদের জন্য টিকিটের ন্যায্য প্রাপ্যতা নিয়ে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে।
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের পদদলন
আরসিবি-র ঐতিহাসিক জয়ে শামিল হতে এসে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্ঠ হয়ে অন্তত ১১ জনের প্রাণ হারান। ইতিহাসে প্রথমবার আরসিবি-র আইপিএল শিরোপা জয় উদযাপন করতে এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের এক ঝলক দেখার আশায় স্টেডিয়ামের চারপাশে বিশাল জনসমাগম হয়েছিল। টিম বাস স্টেডিয়ামে আসার আগেই উদযাপন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার সমর্থক গেটের দিকে প্রবল বেগে ছুটে যান। যার ফলে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। খেলোয়াড়দের কাছাকাছি আসতে গিয়ে ভক্তদের কেউ কেউ দেওয়াল টপকান, গাছে চড়েন এবং টিম বাসের চারপাশে ভিড় জমান। পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যার ফলে মারাত্মক ভিড়ের চাপে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং অনেকে আহত হন। এই ঘটনার ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। স্টেডিয়ামের বাইরে যখন চরম বিশৃঙ্খলা চলছিল, তখনও ভেতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অব্যাহত ছিল। বিরাট কোহলিরা নাচছিলেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন ছিল কিশোর-কিশোরী এবং বাকিদের বয়স ছিল ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। বেঙ্গালুরুর ভয়াবহ ট্র্যাজেডি আজও ভোলেনি মানুষ
অমদাবাদ মানেই বড় ম্যাচ!
২০২১ সালে সংস্কারের পর থেকেই অমদাবাদ বড় বড় ও আকর্ষণীয় ম্যাচগুলির জন্য অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে পরিচিত হয়েছে। আইপিএল প্লে-অফ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ ফাইনাল। ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ম্যাচগুলির আয়োজনের দায়িত্ব নিয়মিত ভাবেই এই স্টেডিয়ামের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
আইপিএল ২০২২
কোয়ালিফায়ার টু: রাজস্থান রয়্যালস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু
ফাইনাল: গুজরাট টাইটান্স বনাম রাজস্থান রয়্যালস
আইপিএল ২০২৩
কোয়ালিফায়ার টু: গুজরাট টাইটান্স বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
ফাইনাল: গুজরাট টাইটান্স বনাম চেন্নাই সুপার কিংস
ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৩
ফাইনাল: ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া
আইপিএল ২০২৪
কোয়ালিফায়ার ওয়ান: কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ
এলিমিনেটর: রাজস্থান রয়্যালস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু
আইপিএল ২০২৫
কোয়ালিফায়ার টু: মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম পঞ্জাব কিংস
ফাইনাল: পঞ্জাব কিংস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬
(Feed Source: zeenews.com)
