জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেখতে দেখতে এক বছর পার। অপারেশন সিঁদুর। ভারতের এই অভিযানকে কোনওদিনই ভুলতে পারবে না পাকিস্তান। অভিযানটি কিন্তু এখনও শেষ হয়নি, স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রথম বার্ষিকীতে তেমনটাই জানালেন প্রাক্তন ডিজিএমও (DGMO) লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই। বলেন, বিপর্যস্ত পাকিস্তান এই অভিযান থামানোর অনুরোধ করেছিল।
২২ এপ্রিল, ২০২৫। চোখের পলকে যেন শ্মশানে পরিণত হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ‘বাইসারান ভ্যালি’। খোলা মাঠে লুকানোর মতো জায়গাও ছিল না। সন্ত্রাসবাদীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিল ২৬ পর্যটক। সেদিন বেছে বেছে হিন্দুদেরই গুলি করা হয়েছিল। এই নারকীয় সেই হত্যালীলায় শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ।
পাক-সন্ত্রাসবাদীদের শিক্ষা দিতে পালটা অভিযান শুরু করে ভারতীয় সেনা। অভিযানের নাম দেওয়া হয় অপারেশন সিঁদুর। সেই অভিযানের এক বছর পূর্ণ হল। সেনার তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অভিযান সবেমাত্র শুরু। সন্ত্রাসবাদীদের জন্য় কোনও নিরাপদ স্থানই আর অবশিষ্ট নেই।
এদিকে অপারেশন সিঁদুরে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়ে ৯ জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনা। এরপর বিশ্বজুড়ে মিথ্যা প্রচার শুরু করে পাকিস্তান। লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই বলেন, ‘আমরা এই অপারেশনের পর সমস্ত প্রমাণ সামনে এনেছিলাম। পাকিস্তান কি আজ পর্যন্ত কোনও তথ্য বা ভিডিও প্রমাণ দেখাতে পেরেছে? মিথ্যা বলা পাকিস্তানের পুরনো অভ্যাস’।”
অভিযানের মূল সাফল্য
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঘাই জানান, এই অপারেশনের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের ১১ এয়ারফিল্ড এবং ৯ বড় জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। একশোরও বেশি সন্ত্রাসবাদীকে খতম করা হয়েছিল। ভারতকে কোনও বড় ক্ষতির পড়তে হয়নি। অভিযানের ধাক্কায় রীতিমতো বেসামাল হয়ে পড়ে পাকিস্তান। এতটাই আতঙ্ক গ্রাস করেছিল যে, অপারেশন বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছিল ইসলামাবাদ।
সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া দুটি নির্দেশ
প্রাক্তন ডিবিএমও জানান, ভারতীয় বিমানবাহিনী অত্যন্ত দক্ষ রণকৌশল এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছিল। এই অপারেশনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে স্পষ্ট দুটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক-সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘অপারেশনাল ফ্লেক্সিবিলিটি’ বা সামরিক স্বাধীনতা।
(Feed Source: zeenews.com)
