মৌমিতা চক্রবর্তী: তিনি কোথায় কেউ জানে না। নির্বাসনে না অন্তরালে? প্রায় দু’বছর হয়ে গেল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছেন কিন্তু কোথায় আছেন তা জানা যায়নি। দিল্লি না কলকাতা, লন্ডন না দুবাই? প্রায় জেনারেল নলেজের প্রশ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনার গতিবিধি। বাংলাদেশের গণঅভ্যুথ্থানের সময় দেশছাড়া হয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তারপর পদ্মার জল পাল্টেছে বিস্তর। ক্ষমতায় এখন বিএনপির তারেক রহমান। আর এই আবহেই এই রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা-বার্তা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
শুক্রবার বাংলাদেশের প্রাক্তন শাসকদলের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই অভিনন্দন জানানো হয়। বিবৃতিতে শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী সমস্ত প্রার্থী ও দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানানোই সকলের নজর কেড়েছে।

বিজয়ী দল বিজেপির সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের এক নতুন জোয়ার আসবে বলে হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন।
শেখ হাসিনার এই বার্তায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের আমলে তা আরও দৃঢ় হবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি পশ্চিমবঙ্গ এবং গোটা ভারতের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
তাঁর বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের আওয়ামী লিগ নেতৃত্ব ভারতের এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন যে সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির জন্য জরুরি, হাসিনার এই বার্তায় তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
গণআন্দোলনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে গত দু’বছর কোথায় হাসিনা তা কেউ জানে না। শুভেন্দু একাধিকবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে তিনি মনে করেন– প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই আবার বাংলাদেশে ফিরবেন হাসিনা। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের জমানায় আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ হয়েছে। গণহত্যার অভিযোগে, হাসিনাকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে আদালত। ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ইঙ্গিত দিয়েছেন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে। এই পরিস্থিতিতে কবে হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
শেখ হাসিনা ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে রাজনৈতিক ও সৌজন্যমূলক সম্পর্ক বেশ পুরনো। এর আগেও শুভেন্দু শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছিলেন। তাই বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতেই হাসিনা তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে দেরি করেননি। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর ‘পুরনো বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।
এই অভিনন্দন বার্তায় অনেকে কিছুটা অবাকও হয়েছেন। কারণ, সাধারণত কোনও রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব কেবল সরকার বা দলকে অভিনন্দন জানায়। কিন্তু এখানে শুভেন্দু অধিকারীর নাম যেভাবে আলাদা করে এবং ‘বিশেষভাবে’ উল্লেখ করা হয়েছে, তা দুই নেতার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক আরেকবার স্পষ্ট হল। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ক্ষমতার অলিন্দে শুভেন্দুর এই নতুন অভিযাত্রাকে হাসিনার শুভেচ্ছা এক অন্য মাত্রা দান করল।
(Feed Source: zeenews.com)
