রাজা নেই, রাজছত্র ভেঙে পড়েছে কবেই! কিন্তু আজও লাভপুর ঘিরে রয়েছে ‘এই’ কথা, কাহিনি! জানুন

রাজা নেই, রাজছত্র ভেঙে পড়েছে কবেই! কিন্তু আজও লাভপুর ঘিরে রয়েছে ‘এই’ কথা, কাহিনি! জানুন

১৯১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ম্যাকলয়েড অ্যান্ড রাসেলস কোম্পানির উদ্যোগে আমোদপুর-কাটোয়া এই রেল যোগাযোগের পথ স্থাপিত হয়। রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তরের দাবি দীর্ঘ দিনের।

বীরভূম, সৌভিক রায়: আজ থেকে বহু বছর আগের কথা। সারি সারি দিয়ে পাল তোলা নৌকা ভিড়ছে বন্দরে। মোহনায় ধারে রান্না চাপিয়ে গান গাইছে মাঝি-মাল্লার দল। নৌকা থেকে পসরা নিয়ে সওদাগর-বণিকেরা পাড়ি জমাচ্ছেন সামলাবাদে। এই ছবি এখন সুদূর ইতিহাস আর অতীত। আর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে সে দিনের সেই বন্দর ‘লা-ঘাটা’।

বীরভূম জেলার লাভপুরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ছোট লাইনের ট্রেন, ফুল্লরা মন্দিরের নানা কথাও। যাত্রা থেমে গেলেও মনের ভুলে আজও ছোট লাইনের ট্রেনের বাঁশির আওয়াজ অনুভব করেন লাভপুরবাসী। যেন চোখের সামনে আজও মন্থর গতির চলন্ত ট্রেন এসে থামে। মাঠ থেকে কেটে আনা ঘাসের বোঝা নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যাছেন বহু কৃষক!

১৯১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ম্যাকলয়েড অ্যান্ড রাসেলস কোম্পানির উদ্যোগে আমোদপুর-কাটোয়া এই রেল যোগাযোগের পথ স্থাপিত হয়। রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তরের দাবি দীর্ঘ দিনের। সেই মোতাবেক রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। সে কাজের জন্যই ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি বন্ধ হয়ে যায় ছোট লাইনের ট্রেনের চলাচল। কিন্তু এখনও ছোট লাইনের ট্রেনের কথা উঠলেই রীতিমতো নস্টালজিক হয়ে যান এলাকার বাসিন্দারা।

সেই সময় যাতায়াত ব্যবস্থা আজকের মতো উন্নত ছিল না। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফুলিয়ানগর, অট্টহাস প্রভৃতি জনপদগুলিতে বসতি শুরু করে। পরবর্তীকালে ওই বাহ্মণ বংশেরই দীনমণি মিশ্র বাহাদুর বর্মণ রাজা হন। ফুল্লরা মন্দিরের অদূরে দিনমণির রাজধানী গড়ে ওঠে বলে অনুমান বীরভূমের ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সুবীর বিশ্বাসের।

সেই সময় বণিকদের লাভের মুখ দেখিয়ে সেদিনের সামলাবাদই আজকের বীরভূমের লাভপুর। রাজা নেই রাজার রাজত্ব ভেঙে পড়েছে সেই কবেই! কিন্তু আজও লাভপুরকে ঘিরে রয়েছে রাজা ও তাদের রাজত্ব নিয়ে এমন নানা কথা ও কাহিনি। সুলতান মামুদের ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে মা ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট।

(Feed Source: news18.com)