জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিমান বিপত্তি যেন কোনওমতেই পিছু ছাড়ছে না। সোমবার সকালে ফের ভয়ংকর বিপদের মুখে পড়ে এক যাত্রীবাহী বিমান। জানা গিয়েছে, ল্যান্ডিংয়ের সময় বিমানের ডান দিকের চাকায় আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘন কালো ধোঁয়ায় মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রী ও বিমানকর্মীদের মধ্যে। সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘটে নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে।
বিমানবন্দর থেকে জানা গিয়েছে, সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (TIA) টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে আগুন ধরে যায়। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আধিকারিক (SP) রাজকুমার সিলাওয়াল সংবাদ সংস্থা ANI-কে জানান, ‘বিমানটির একটি টায়ারে আগুন ধরে গিয়েছিল। ফায়ার ইঞ্জিনের সাহায্যে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।’
#nepaltext #highlight pic.twitter.com/skc0ZAj5fL
— कफी कुमार (@sarojshree) May 11, 2026
বিমানে মোট ২৭৮ জন যাত্রী এবং ১১ জন ক্রু ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর বেশ কিছু ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা গিয়েছে, বিমানের ডানদিকের ল্যান্ডিং গিয়ার থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বেরোচ্ছে। মুহূর্তে রানওয়ের চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ইর্মাজেন্সি দরজা দিয়ে স্লাইড ব্যবহার করে যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এখনও পর্যন্ত টার্কিশ এয়ারলাইন্স বা কাঠমান্ডু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ঠিক কী কারণে চাকার ওই অংশে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
— Gyanendra Khadka (@gyanenkhadka) May 11, 2026
অতীতেও একই বিমানবন্দরে দুর্ঘটনা
টার্কিশ এয়ারলাইন্সের এই নির্দিষ্ট ফ্লাইটটির (TK726) ক্ষেত্রে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর যেন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালের একই রুটের একটি এয়ারবাস A330 ঘন কুয়াশার মধ্যে অবতরণ করতে গিয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে ঘাসের ওপর চলে যায়। তখন ২২৪ জন যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন, তবে বিমানবন্দরটি টানা চারদিন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তদন্তে দেখা গিয়েছিল, ল্যান্ডিংয়ের সময় পাইলটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলেই সেই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তবে আজকের এই ঘটনায় প্রাণহানি না ঘটলেও, কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং টার্কিশ এয়ারলাইন্সের কারিগরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
