
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চেন্নাই সুপার কিংসের (Chennai Super Kings, CSK) কাছে ৫ উইকেটে হেরেই লখনউ সুপার জায়ান্টসের (Lucknow Super Giants, LSG) এবারের মতো আইপিএল (IPL 2026) আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ হয়ে গিয়েছে। ১১ ম্যাচে অষ্টম হারের পর প্লে-অফ থেকে ছিটকে গিয়েছেন ঋষভ পন্থরা (Rishabh Pant)। এই নিয়ে টানা তিন মরসুম সঞ্জীব গোয়েঙ্কার (Sanjiv Goenka) ফ্র্যাঞ্চাইজি প্লে-অফের যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হল। এলএসজি বিদায় নেওয়ার পরেই দলের স্টার অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদকে (Shahbaz Ahmed) নিয়ে এল বিরাট আপডেট। লখনউয়ের ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্রিকেটার এবার পেলেন সুখবর।
এই প্রথমবার আইপিএলের ধাঁচে বাংলার লিগে নিলাম
সিএবি আয়োজিত বেঙ্গল টি-২০ লিগে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। গত রবিবার ১০ মে এই লিগ প্রথমবারের মতো দেখল পুরুষ দলের নিলাম। ড্রাফ্টিংয়ের বদলে আইপিএলের ধাঁচে নিলাম। আট দলীয় লড়াইয়ের নিলাম যুদ্ধে শাহবাজ (১২.২০ লক্ষ টাকা) সর্বাধিক দাম পেয়েছেন। দুয়ে আছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিষেক পোড়েল (১০.৪০ লক্ষ টাকা)। এরপর তিনে এবং চারে মুকেশ কুমার (৯.৬০ লক্ষ টাকা) এবং আকাশ দীপ (৩ লক্ষ টাকা)। শ্রাচি ট্রাইবস রাঢ় টাইগার্স ‘রাইট টু ম্যাচ’ (আরটিম) কার্ড খেলে তারকা অলরাউন্ডার শাহবাজকে দলে ধরে রাখে। তারপরেই নিলামে তিনিই সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হয়েছেন। তাঁর ঠিক পরেই পোড়েল। ২৩ বছর বয়সী ক্রিকেটারকে নিয়ে নিলামে রীতিমতো লড়াই হয়েছিল। শেষে লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্স তাঁকে টিমে নেয়।
ভালো দাম পেলেন মুকেশ কুমারও
ভারতের পেসার মুকেশকেও আরটিএম কার্ড খেলে ৯.৬০ লক্ষ টাকায় ধরে রেখেছে সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদহ। অন্যদিকে নিলামে নিজেদের অভিষেক আসরেই চমকে দিয়েছে নোভাস পুরুলিয়া রয়্যালস! সুদীপ কুমার ঘরামিকে (৯.৪০ লক্ষ টাকা) এবং রবি কুমারকে (৭.৮০ লক্ষ টাকা) মোটা টাকায় দলে নিয়েছে লিগের নয়া টিম। মুর্শিদাবাদ কিংস ৮.৪০ লক্ষ টাকায় সক্ষম চৌধুরীকে টিমে নিয়েছে। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ঋত্বিক চট্টোপাধ্যায় ৮.২০ লক্ষ টাকায় এসেছেন অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্সে। ওদিকে সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্স ৮ লাখে করণ লালকে দলে নিয়েছে এবং ঠিক একই দামে বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণকে দলে নিয়েছে সোবিস্কো স্ম্যাশার্স।

নিলামে চমক ১৬ বছরের রবি
নিলামে আট ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্মিলিত ভাবে মোট ৪.০৮ কোটি টাকা নিয়ে বাজার করতে এসেছিল। অত্যন্ত আগ্রাসী ভাবেই তাঁরা দল গঠন করছে। প্রতিষ্ঠিত ঘরোয়া ক্রিকেটারের পাশাপাশি অভিজ্ঞ তারকা এবং প্রতিশ্রুতিবান তরুণ প্রতিভাদের জুড়েই ভারসাম্যপূর্ণ দল করায় জোর দিয়েছিল। ক্রিকেটারদের পাঁচ ভাগ করা হয়েছিল—এ প্লাস, এ, বি, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-১৬। অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগের অন্তর্ভুক্তি ছিল ঐতিহাসিক নিলামের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক, যা প্রতিভা বিকাশের উপর টুর্নামেন্টের দীর্ঘমেয়াদী ফোকাসেরইজোরালো প্রমাণ। নিলামের ১৬ বছরের (লিগের অন্যতম কম বয়সি ক্রিকেটার) রোহিত নজর কেড়েছিল। শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়া তাকে ৫.২০ লক্ষ টাকায় দলে নেয়।
লিগের আট ফ্র্যাঞ্চাইজি: ১) অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স, ২) লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্স, ৩) মুর্শিদাবাদ কিংস অ্যান্ড কুইন্স, ৪) রশ্মি মেদিনীপুর উইজার্ডস, ৫) সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্স ৬), শ্রাচি ট্রাইবস রাঢ় টাইগার্স ৭) সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদহ , ৮) নতুন টিম নোভাস পুরুলিয়া রয়্যালস। যদিও এবার ৯ দলের লড়াই হওয়ার কথা ছিল। তবে নিলামের আগের দিনই মনোজ তিওয়ারিকে মুখ করে এগিয়ে চলা দল হারবার ডায়মন্ডস সরে দাঁড়ায়। ফলে ৮ দলেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সিএবি।
নিলামের পর সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, ‘নিলাম এই বছরই চালু হল। আমার মনে হয় দলের সব মালিক ও কোচ যা বেশ উপভোগ করেছেন। তাঁরা নিজেদের পছন্দমতো যে কোনও খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। গতবছর টুর্নামেন্ট বেশ ভালো হয়েছিল এবং এবারও অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হবে। অন্য যে কোনও টুর্নামেন্টের মতোই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগও ক্রমশ উন্নত হবে। আশা করা যায় খেলোয়াড়রা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। ভালো ক্রিকেট খেলবে এবং এই টুর্নামেন্টটি তাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।’ দেখা যাক, জুনে শুরু হতে চলা লিগের তৃতীয় সংস্করণে বাংলার মুকুট কোন দলের মাথায় ওঠে।
(Feed Source: zeenews.com)
