Petrol, diesel prices hike Big Update: বিগ ব্রেকিং: লিটারে দশ টাকা বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম– দেশ জুড়ে অগ্নিমূল্য হচ্ছে জ্বালানি, কবে থেকে?

Petrol, diesel prices hike Big Update: বিগ ব্রেকিং: লিটারে দশ টাকা বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম– দেশ জুড়ে অগ্নিমূল্য হচ্ছে জ্বালানি, কবে থেকে?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নির্বাচনী মরসুম শেষ হতে না হতেই বড় খবর। সাধারণ মানুষের পকেটে বড় টান পড়ার ইঙ্গিত মিলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দাম এবং দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলোর বারবার লোকসানের জেরেই আগামী ১৫ মে থেকে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে ব্যাপক বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

দেশে গত কয়েক মাসে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম স্থিতিশীল ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের কারণে তেল সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়া সত্ত্বেও ঘরোয়া বাজারে দাম বাড়ায়নি। কিন্তু ভোট মিটতেই এখন সেই ঘাটতি মেটানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) বর্তমানে প্রতি লিটার জ্বালানিতে বড় লোকসান করছে। এই লোকসান আর বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

কতটা বাড়তে পারে দাম?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একবারে বড় ধরনের ধাক্কা এড়াতে সরকার এবং তেল সংস্থাগুলো দুটি পথে হাঁটতে পারে।

১. ধীরে ধীরে বৃদ্ধি (Gradual Increase): প্রতিদিন ২০ থেকে ৫০ পয়সা করে দাম বাড়িয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো।

২. এককালীন বৃদ্ধি (Steep Hike): ১৫ মে থেকে একধাক্কায় লিটার প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দেওয়া।

তবে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, ১৫ মে তারিখটি ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, কারণ ওই দিন থেকেই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?

আন্তর্জাতিক তেলের বাজার: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ৯০ থেকে ৯৫ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। ভারত তার প্রয়োজনের ৮০ শতাংশেরও বেশি তেল আমদানি করে, ফলে বিশ্ববাজারের প্রভাব সরাসরি এখানে পড়ে।

তেল সংস্থাগুলোর লোকসান: ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের (HPCL) মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো গত কয়েক মাস ধরে কম দামে তেল বিক্রি করায় কয়েক হাজার কোটি টাকার লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। এই আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।

ডলারের বিনিময় হার: টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও আমদানি খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে খুচরো বাজারে।

প্রভাব:

ডিজেলের দাম বাড়লে সরাসরি তার প্রভাব পড়ে পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর। ট্রাক ও পণ্যবাহী যানের ভাড়া বাড়লে চাল, ডাল, সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।

সরকারের অবস্থান:

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এবং অর্থ মন্ত্রকের মধ্যে এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে বলে সূত্রের খবর। সরকার আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কিছুটা কমিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করবে নাকি পুরোপুরি বাজার দরের ওপর ছেড়ে দেবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া:

জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কায় শেয়ার বাজারে তেল কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ভালো প্রভাব দেখা গেলেও, অটোমোবাইল এবং এফএমসিজি (FMCG) সেক্টরে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমতে পারে, যা অর্থনীতির জম্য ভালো নয়।

১৫ মে থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়লে তা সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ে বড় আঘাত করবে। করোনা-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতিকে দাঁড় করানোর যে প্রক্রিয়া চলছে, তার মাঝে এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস তুলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

(Feed Source: zeenews.com)