
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি গত ৪ মাস ধরে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। LPG আকাল, তেলের মূল্যবৃদ্ধি– বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম খুবই বেড়ে যাওয়ায় দেশে বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারলে ১০৫ ডলার অতিক্রম করেছে। এতে তেল আমদানিকারক সংস্থার উপর প্রবল চাপ হচ্ছে।
বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতি
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের চেইন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়– সেখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। ১০ মে-র পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তাহলে কি এই দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারে সামান্য দাম বাড়লেই তার বড় প্রভাব পড়ে ভারতের রাজকোষে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) পুরনো দামেই জ্বালানি বিক্রি করছে। এর ফলে সংস্থাগুলি প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ মে-র পর ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে– এমনই সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া রান্নার গ্যাসের (LPG) দামও সিলিন্ডার প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র সরকার একবারে বড় অংকের দাম না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বা পর্যায়ক্রমে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
বিকল্প ব্যবস্থা
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে
১. জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অপ্রয়োজনীয় গাড়ির ব্যবহার কমানো, কার-পুলিং (Car Pooling) করা এবং সম্ভব হলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা অনলাইন ক্লাসের ওপর জোর দিতে বলেছেন।
২. একইসঙ্গে সোনা আমদানির কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। দেশবাসীকে একবছর সোনা না কিনতে অনুরোধ করেছেন তিনি, যাতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত থাকে।
যদিও সরকার সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে দেশে জ্বালানির কোনও সংকট নেই, তবুও আমদানি করা তেলের উচ্চমূল্য সামাল দিতে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
অর্থনৈতিক উদ্বেগ
অর্থনীতিবিদদের মতে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়লে তার চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়বে।
পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস এবং অন্যান্য শিল্পজাত পণ্যের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সতর্ক করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিক নয় তা গত ৪ মাস ধরে সবাই বুঝেছে। এই যুদ্ধ ক্রমশ একটি বড় অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বিশ্বকে।
ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য তেলের এই অগ্নিমূল্য সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দেখার বিষয়, সরকার ভর্তুকি দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখে নাকি আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপে।
তবে আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই সাধারণ মানুষকে জ্বালানি তেলের জন্য বাড়তি টাকা গুণতে হতে পারে বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট মহল।
(Feed Source: zeenews.com)
