প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি বলেছেন, “বাড়ি থেকে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কোভিডের সময় আমরা বাড়ি থেকে কাজ, অনলাইন মিটিং এবং ভিডিও কনফারেন্সের মতো অনেক ব্যবস্থা তৈরি করেছিলাম এবং সেগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। আজকের সময়ের চাহিদা এমন যে, এই ব্যবস্থাগুলো পুনরায় চালু করতে হবে জাতীয় স্বার্থেই।”
বেঙ্গালুরুর অধিকাংশ বাসিন্দারা চাইছেন ওয়ার্ক ফ্রম হোম
বেঙ্গালুরু: করোনাকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দেশবাসীকে ফের বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যে ভারতের উপর ‘গভীর প্রভাব’ ফেলেছে, সে কথাও উল্লেখ করলেন তিনি। এ অবস্থায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার বাঁচাতে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানোর জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১০ মে হায়দরাবাদের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতীয়দের আবার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এবং ‘ভার্চুয়াল মিটিং’ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন — পশ্চিম এশিয়ায় তেলের সঙ্কট এবং বাড়তে থাকা জ্বালানির দামের মধ্যে এটাকে প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক এবং জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখিয়েছেন। বেঙ্গালুরু, ভারতের আইটি রাজধানী ৷ প্রধানমন্ত্রীর এই কথা শোনার পর সেখানকার মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল একটাই….‘যাক অবশেষে…!’
আমেরিকা-ইরান সংঘাতের কারণে সারা বিশ্বে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে ৷ যার ফলে সাধারণ মানুষের বাজেট এবং দেশের অর্থনীতির উপর বাড়তি চাপ পড়েছে। মোদি বলেছেন, আবার রিমোটে কাজকর্ম, ভার্চুয়াল মিটিং এবং অনলাইন কনফারেন্স চালু করলে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমবে এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচবে, কারণ এখন জ্বালানি আমদানিতে অনেক বেশি খরচ হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, করোনাকালে ভারত নতুন কাজের পদ্ধতিতে সফলভাবে মানিয়ে নিয়েছিল এবং আবার সেই সিস্টেমগুলো অর্থনীতির উপর চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অতিমারির পর যখন সারা ভারতের অফিসগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে ৷ তখন hybrid এবং remote work-এর পক্ষে এটিই সবচেয়ে জোরাল সমর্থন। আর ভারতের কোনও শহরই এই কথার গুরুত্ব বেঙ্গালুরুর মতো অনুভব করেনি — যেখানে লক্ষ লক্ষ IT কর্মী শুধু ট্র্যাফিকে বসে থেকেই জ্বালানি, টাকা আর মানসিক শান্তি নষ্ট করেন !
বেঙ্গালুরুর মানুষেরা আসলে কী ভাবেন?
তারা বছরের পর বছর ধরে এটা চেয়েছেন — আর সবসময় ভদ্রভাবে নয়। মোদির বক্তব্যের পরপরই Reddit-এ নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে, কারও কারও মধ্যে স্বস্তি, আবার কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আমার কোম্পানির ম্যানেজারের মাথায় চিন্তা ‘বাদাম সাইজের’ আর ইগো ‘তরমুজ সাইজের’। WFO-তে তাদের কিছু লাভ নেই, তবুও ক্ষমতা দেখাতে সবাইকে অফিসে ডাকে, অথচ একটা ভাল কিছু দেখাতে পারে না।” আরেকজন লিখেছেন, “এটা productivity-র ব্যাপার না — এটা হচ্ছে বেশি ভাড়ার বিল্ডিং-এর জন্য ভাড়া দেওয়া আর মাইক্রোম্যানেজ করার ক্ষমতা। পাঁচ দিন WFO আর দুই দিন WFH-ই তাদের কাছে সেরা।”
বেঙ্গালুরুর কর্মীদের মনোভাব অফিস-বিরোধী নয় — এটা অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত-বিরোধী। বেশিরভাগ মানুষই ‘হাইব্রিড’ মডেলে কাজ করতে চান। পুরোপুরি সহকর্মীদের থেকে দূরে থাকতে কেউই চান না। কিন্তু তারা একটা ‘চয়েস’ চান।
বেঙ্গালুরু কি আগে থেকেই এটা চেয়েছিল ?
হ্যাঁ, এবং একবার নয়, একাধিকবার। গত বছর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ সরকারিভাবে ‘mid-week Work From Home’ উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছিল, বিশেষ করে বুধবারে, যাতে আউটার রিং রোডে পিক আওয়ারে যানজট কমানো যায়। এই প্রস্তাব BBMP, BMTC এবং IT ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলে তৈরি হয়েছিল শহরের আইটি করিডোরে যানজট কমানোর জন্য। কিন্তু সেই প্রস্তাবে কোনও কথাবার্তা এগোইনি ।
(Feed Source: news18.com)