
Prateek Yadav Death: সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম যাদবের ছেলে প্রতীকের রহস্যমৃত্যু। মাত্র ৩৮ বছরেই অকালমৃত্যু প্রতীকের। রাজনৈতিক পরিবার থেকে হয়েও তিনি নিজেকে এইসব থেকে দূরে রেখেছিলেন। প্রতীক পেশায় একজন রিয়েল এস্টেট সফল ব্যবসায়ী।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া। মাত্র ৩৮ বছরে অকালমৃত্যু সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের ছেলে প্রতীক যাদব। বুধবার ভোরে ৬টা নাগাদ উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে পরিবারের সদস্যরা নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাই হাসপাতালে ঢুকতেই চিকিৎসকরা তাঁকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী অপর্ণা যাদব সেখানে ছিলেন না।
তবে ঠিক কারণে প্রতীক যাদবের মৃত্যু হয়, তা এখনও জানা যায়নি। প্রতীকের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির (KGMU) চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত করবেন। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিনের অসুস্থতা:
জানা গিয়েছে, প্রতীক যাদব বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধেছিল এবং সেই রোগের চিকিৎসা চলছিল। বুধবার সকালে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তিনি সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন। এর পরেই তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
কে ছিলেন প্রতীক যাদব?
মুলায়ম সিং যাদব এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সাধনা গুপ্তার সন্তান ছিলেন প্রতীক। তাঁর পরিচয় কেবল মুলায়ম-পুত্র হিসেবেই নয়, বরং একজন সফল মানুষ হিসেবেও ছিল। তিনি ব্রিটেনের লিডস ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ পাস করেছিলেন। তিনি লখনউয়ের একজন বড় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ছিলেন। শরীরচর্চার প্রতি তাঁর প্রচণ্ড ঝোঁক ছিল। ২০১৬ সালে লখনউতে তিনি প্রথম নিজের জিম খোলেন।
২০১২ সালে একটি আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিং ওয়েবসাইটে তিনি সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রতীক জানিয়েছিলেন, বাবার দেওয়া একটি উপদেশের পরেই তিনি নিজের মধ্যে এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসেন। মানুষের পাশাপাশি পশুদের প্রতিও তাঁর গভীর মমতা ছিল এবং প্রাণীদের সেবায় তিনি নানা কাজ করতেন।
২০১৭ সালে ৫ কোটি টাকা দিয়ে একটি ল্যাম্বরগিনি গাড়ি কিনে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। সমাজতন্ত্রী পরিবারের সন্তান হয়ে কেন এত দামী গাড়ি কিনলেন— এই প্রশ্নে তিনি সোজাসুজি জানিয়েছিলেন যে, তিনি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে এবং নিয়ম মেনেই গাড়িটি কিনেছেন।
প্রতীক ছিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সৎ ভাই। অখিলেশ হলেন মুলায়ম সিংয়ের প্রথম স্ত্রী মালতী দেবীর সন্তান। ২০০৩ সালে মালতী দেবীর মৃত্যুর পর মুলায়ম সিং আনুষ্ঠানিকভাবে সাধনা গুপ্তাকে বিয়ে করেন। সাধনা দেবীর আগের পক্ষের সন্তান ছিলেন প্রতীক, যাকে মুলায়ম সিং নিজের ছেলের মর্যাদা দেন। ২০২২ সালে সাধনা দেবী মারা যান।
দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন:
২০১১ সালে প্রতীক ও অপর্ণা যাদবের বিয়ে হয়। তাঁদের আট বছরের প্রেম ছিল। স্কুলজীবনে ক্লাস টেনে পড়ার সময় থেকেই তাঁদের আলাপ। যদিও অপর্ণা জানিয়েছিলেন যে, অনেক বছর পর্যন্ত তিনি জানতেনই না যে প্রতীক মুলায়ম সিংয়ের ছেলে। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে।
তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁদের সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়। প্রতীক একসময় ইনস্টাগ্রামে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি অপর্ণাকে ডিভোর্স দেবেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে অপর্ণা স্বার্থপরের মতো আচরণ করছেন এবং তাঁর উপর মানসিক অত্যাচার করছেন। যদিও পরে সেই বিচ্ছেদ আর হয়নি।
রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন প্রতীক:
যাদব পরিবারের প্রায় সবাই রাজনীতিতে থাকলেও প্রতীক সবসময় নিজেকে আড়ালে রাখতেন। ২০১২ সালে দলের কর্মীরা এবং তাঁর মা ও কাকা শিবপাল যাদব চেয়েছিলেন তিনি আজমগড় থেকে ভোটে দাঁড়ান, কিন্তু প্রতীক কোনোদিনও সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেননি। ব্যবসা আর ফিটনেস নিয়েই তিনি ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করতেন। প্রতীক যাদবের এই অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার এবং অনুগামীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
