Tollywood: ‘ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করুন’, চার তারকা বিধায়কের কাঁধে টলিউডের গুরুদায়িত্ব? নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

Tollywood: ‘ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করুন’, চার তারকা বিধায়কের কাঁধে টলিউডের গুরুদায়িত্ব? নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari assigns Tollywood responsibility: টলিউডে এবার শুদ্ধিকরণ! নবান্নে সচিব ও তারকা বিধায়কদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, হিরণ চট্টোপাধ্যায়দের দিলেন বড় দায়িত্ব। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা— “ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করুন।” টালিগঞ্জ থেকে কি এবার তবে সিন্ডিকেট রাজের অবসান হতে চলেছে?

অর্কদীপ্ত মুখোপাধ্যায়: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই টলিউড স্টুডিওপাড়ার ক্ষমতার অলিন্দে পরিবর্তনের হাওয়া বইছিল। দীর্ঘদিনের অস্থিরতা আর ‘ক্ষমতার ভরকেন্দ্র’ নিয়ে টানাপোড়েনের অবসান ঘটাতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের রিভিউ মিটিংয়ে তিনি সাফ জানালেন, “ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করুন।” এই বার্তাই এখন টলিউডসহ রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

এদিনের বৈঠকে শুধুমাত্র বিভিন্ন দফতরের সচিবরাই উপস্থিত ছিলেন না, বরং নজর কেড়েছে বেশ কয়েকজন তারকা বিধায়ক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমন্ত্রণে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী হিরণ চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল খাঁ এবং স্বপন দাশগুপ্তের মতো ব্যক্তিত্বরা। মূলত শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং স্বাস্থ্য—এই তিনটি প্রধান দফতর নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। পাপিয়া অধিকারীরও থাকার কথা ছিল। কিন্তু জানা গিয়েছে, বিধানসভায় অন্য কাজ থাকায় এই বৈঠকে তিনি থাকতে পারেননি।

টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, সেখানে গুটি কয়েক মানুষ পদ আঁকড়ে বসে আছেন এবং কাজের পরিবেশকে কলুষিত করছেন। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, টলিউডকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। যারা বছরের পর বছর পদ দখল করে বসে আছেন এবং ইন্ডাস্ট্রির স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষদের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতা-রাজনীতিবিদদের ওপর গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে যাতে স্টুডিওপাড়ায় সুস্থ ও স্বচ্ছ কর্মসংস্কৃতি ফিরে আসে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য—এই তিন ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে কোথায় কোথায় খামতি ছিল এবং কীভাবে তা দ্রুত সংশোধন করা যায়, তার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জনপরিষেবা মূলক ক্ষেত্রগুলিতে যাতে সাধারণ মানুষ কোনোভাবে বঞ্চিত না হন, তা সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী একদিকে যেমন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনতে চাইছেন, অন্যদিকে টলিউডের অন্দরে থাকা তথাকথিত ‘সিন্ডিকেট রাজ’ বা একাধিপত্য খতম করার প্রক্রিয়া শুরু করলেন। এখন দেখার, রূপা-রুদ্রনীল-হিরণদের এই নতুন টিম টলিউডের হারানো গরিমা ফিরিয়ে আনতে কতটা সফল হয়।

(Feed Source: zeenews.com)