
NEW 11 LABOUR RULES: অতীতের ২৯ শ্রম আইন বদল করে নতুন চার বিধি তৈরি করছে কেন্দ্র। বেসরকারি সংস্থার কর্মী ও শ্রমিকরা এখনই জানুন যে ১১ বদল কার্যকর হচ্ছে
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সপ্তাহে চারদিন কাজ ও তিনদিন ছুটি থেকে শুরু করে বেসিক স্যালারি ও ইন হ্যান্ড পে। পিএফ এবং গ্র্যাচুইটি। ভারতের নতুন শ্রম আইনে ১১টি নতুন নিয়মাবলী লাগু হতে চলেছে। যা বদলে দিচ্ছে কর্মক্ষেত্রের ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিষ্ঠানের বিধি-পালন প্রক্রিয়াগুলিকে। রাজ্য সরকারগুলিও এখন এই বিধিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে আসতে পারে। কেন্দ্র ২৯টি পুরনো শ্রম আইনের পরিবর্তে চারটি নতুন শ্রম বিধিমালা প্রবর্তন করেছে।
১) ৪৮ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ বিধি: আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত নিয়ম। যেসব কর্মীকে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না, তাঁদের দিনে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো যাবে। তবে তাঁদের সাপ্তাহিক মোট কাজের সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। যার মানে কিছু কোম্পানি চাইলে ‘চার-দিনের কর্মসপ্তাহ’ মডেল বেছে নিতে পারে। যেখানে কর্মীরা প্রতিদিন তুলনামূলক ভাবে বেশি সময় ধরে কাজ করেবেন। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে তিনদিন ছুটি পাবেন।
২) বেসিক স্যালারি এবং ইন হ্যান্ড পে: নতুন নিয়মে মোট ‘কস্ট-টু-কোম্পানি’-র অন্তত ৫০ শতাংশ অবশ্যই বেসিক স্যালারি হতে হবে। এর ফলে প্রভিডেন্ট ফান্ড (এবং গ্র্যাচুইটির খাতে জমার পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে কিছু কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে এর ফলে মাসিক হাতে-পাওয়া বেতনের (টেক-হোম পে) পরিমাণ কমতে পারে।
৩) পিএফ কন্ট্রিবিউশন এবং নতুন গ্র্যাচুইটি নিয়ম: প্রভিডেন্ট ফান্ডের হিসাব এখন থেকে উচ্চতর বেসিক স্যালারির ভিত্তিতে হবে। এর ফলে পিএফের জন্য কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তা উভয়েরই কন্ট্রিবিউশন বাড়তে পারে। এর ফলে কারোর কারোর ইন হ্যান্ড স্যালারি কমে যেতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রিটায়ারমেন্ট সেভিংস আরও বড় হতে পারে। নতুন শ্রম আইনে গ্র্যাচুইটি সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট মেয়াদের কর্মচারীরা এক বছর চাকরি পূর্ণ করার পর গ্র্যাচুইটির জন্য যোগ্য হবেন। নিয়মিত কর্মচারীদের জন্য গ্র্যাচুইটি পাওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের চাকরির বিদ্যমান নিয়মটি বহাল থাকবে।
৪) বেতন পরিশোধ সংক্রান্ত বিধিমালা: নিয়োগকর্তাদের জন্য সকল কর্মীকে ন্যূনতম মজুরি প্রদান হচ্ছে বাধ্যতামূলক। একই ধরনের কাজের জন্য নারী-পুরুষের সমান বেতন বাধ্যতামূলক হবে। দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের অবশ্যই কাজের দিনই মজুরি দিতে হবে। সাপ্তাহিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে বেতন দিতে হবে। অন্যদিকে মাসিক বেতনভিত্তিক কর্মীদের বেতন পরবর্তী মাসের সপ্তম দিনের মধ্যে অবশ্যই দিয়ে দিতে হবে। কোনও কর্মী যদি পদত্যাগ করেন কিংবা তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়, তবে দুই কর্মদিবসের মধ্যেই তাঁর পূর্ণ ও চূড়ান্ত পাওনা মিটিয়ে দেওয়া (ফুল অ্যান্ড ফাইনাল সেটলমেন্ট) বাধ্যতামূলক
৫) বেতন ও বোনাস সংক্রান্ত নিয়ম: নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই কর্মীদের সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি, কাজের সময়সীমা, মজুরি দেওয়ার সময়কাল, বেতন দেওয়ার তারিখ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক তথ্যাদি স্পষ্ট ভাবে শেয়ার করতে হবে। নির্ধারিত আয়ের সীমার অন্তর্ভুক্ত কর্মীরা বোনাস পাওয়ার অধিকারী হবেন। ন্যূনতম বোনাসের হার হবে ৮.৩৩%, এবং এর সর্বোচ্চ সীমা ২০% পর্যন্ত হতে পারে।
৬) কর্মক্ষেত্রের কমিটিগুলির জন্য নতুন নিয়ম: ১০০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন কোম্পানিগুলিকে একটি ওয়ার্কস কমিটি গঠন করতে হতে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠানে ২০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে তাদের অবশ্যই একটি গ্রিভেন্স রিড্রেসাল কমিটি (অভিযোগ প্রতিকার কমিটি) গঠন করতে হবে। এই কমিটিতে নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক। প্রাপ্ত অভিযোগগুলি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। যে শ্রমিক ইউনিয়ন অন্তত ৫১ শতাংশ কর্মীর সমর্থন করবে, সেই ইউনিয়নকেই আলোচনাকারী ইউনিয়ন হিসেবে গণ্য করা হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে একটি আলোচনা পরিষদ গঠন করা হবে।
৭) লেঅফের সময় কী হবে কর্মীদের: সেবার শর্তাবলী বা সার্ভিস কন্ডিশনে যে কোনও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ২১ দিনের নোটিস দেওয়া আবশ্যক হবে। ৫০ থেকে ২৯৯ জন কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলিকে সরকারকে অবহিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের এক মাসের নোটিসের পাশাপাশি তাদের মজুরি ও মহার্ঘ ভাতার ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। এছাড়া ১৫ দিনের গড় বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে। যদি ছাঁটাইয়ের ফলে ৩০০-র বেশি কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তিন মাসের নোটিস মেয়াদের পাশাপাশি সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক হবে। কোনও কোম্পানি সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ৯০ দিন আগেই একটি আবেদন দাখিল করতে হবে এবং কর্মীরা ১৫ দিনের বেতন পাবেন।
৮) কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন এবং নিয়োগপত্র: ১০ বা ততোধিক কর্মীবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবশ্যই ৬০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। কোম্পানিগুলিকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ বা পুনরায় চালু করার বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। সকল কর্মীকে অবশ্যই নিয়োগপত্র দিতে হবে
৯) স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ওয়েলফেয়ার: নতুন নিয়মে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার দায়ভার নিয়োগকর্তাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশে কোম্পানিগুলোকে নিরাপত্তা কমিটি গঠন করতে হতে পারে। এছাড়া কর্মীদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্মাণ খাতে যেসব প্রতিষ্ঠানে ২৫০-র বেশি কর্মী নিয়োজিত আছেন, তাদের জন্য একজন সেফটি অফিসার নিয়োগ আবশ্যক। ১০০ জনের বেশি কর্মী রয়েছে—এমন খনিগুলির ক্ষেত্রেও একজন সেফটি অফিসার নিয়োগ বাধ্যতামূলক। যেসব কর্মক্ষেত্রে ১০০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছেন, সেখানে একটি ক্যান্টিন থাকা বাধ্যতামূলক। যেসব খনি এবং নির্মাণস্থলে ৫০০ জনের বেশি কর্মী কাজ করেন, সেখানে অবশ্যই একটি অ্যাম্বুলেন্স রুমের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
১০) মহিলা কর্মীদের জন্য নিয়ম: মহিলাদের সব সেক্টরে কাজ করার অনুমতি রয়েছে। তাঁরা যদি সকাল ৬টার আগে কিংবা সন্ধ্যা ৭টার পরে কাজ করেন, তবে তাঁদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। নারীদের নাইট শিফটে বা রাতের পালায় কাজ করার অনুমতিও থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে গর্ভবতী নারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকতে পারে।
১১) পরিযায়ী শ্রমিক ও ঠিকাদারের দায়বদ্ধতা: যেসব ক্ষেত্রে ১০ জনের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে, সেখানে বিশেষ নিয়মাবলি প্রযোজ্য হবে—যার অন্তর্ভুক্ত থাকবে বার্ষিক যাতায়াত ভাতা। যদি কোনও ঠিকাদার মজুরি পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে সেই দায়ভার কোম্পানির উপর বর্তাবে।
